গলায় তাবিজ লটকানো কি শিরক??

0
11
views

গলায় তাবিজ লটকানো কি শিরক??

আহলে হাদীসদের ভইদের দেখলে মনে হয় তাদের প্রধান কাজ হলো মানুষদের বেদয়াতী ও মুশরিক বানানো। তারা সব সময় বলো থাকে তাবিজ হলো শিরিক। যারা তাবিজ দেয় এবং যারা তাবিজ ব্যবহার করে সবাই মুশরিক।

এখন কথা হলো আমরা কি গলায় কুআনের আয়াত লিখে লটকালেও মুশরিক হয়ে যাবো??

আসুন দেখি এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমল কি বলে। যখন সাহাদের আমলের দিকে তাকাই তখন আমরা দেখতে পাই সাহাবায়ে কিরামের কেউ কেউ তাবিজ ব্যবহার করেছেন। এবং অনেক বড় বড় মুহাদ্দিসীনে কিরামরাও কুরআনের আয়াত দ্বারা লিখিত তাবিজকে জায়েয মনে করতেন।

আসুন আমরা কিছু হাদীস দেখী।

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ فِي نَوْمِهِ فَلْيَقُلْ : أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَمَا يَحْضُرُونِ ، فَكَانَ عَبْدُ اللهِ يُعَلِّمُهَا وَلَدَهُ مَنْ أَدْرَكَ مِنْهُمْ ، وَمَنْ لَمْ يُدْرِكْ ، كَتَبَهَا وَعَلَّقَهَا عَلَيْهِ.

আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ বর্ণনা করেন:রাসূল সাঃ বলেছেন: তোমাদের কেই যখন ঘুমে ভয় পায় সে যেন দোয়াটি পড়ে (أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَمَا يَحْضُرُونِ )।

আব্দুল্লাহ রাঃ তার যে ছেলেদেরকে পেয়েছেন,তাদেরকে সে দোয়াটি শিখিয়েছেন। যাদেরকে পাননি,তাদেরকে লিখে গলায় লটকিয়ে দিয়েছেন।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা,হাদীস নং,২৪০১৩)

عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ ثُوَيْرٍ ، قَالَ : كَانَ مُجَاهِدٌ يَكْتُبُ للنَّاسَ التَّعْوِيذَ فَيُعَلِّقُهُ عَلَيْهِمْ.

অর্থাৎ:মুজাহিদ রহঃ মানুষদের তাবিজ লিখে দিতেন এবং গলায় লটকাতেন।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা,হাদীস নং,২৪০১১.)

أَخْبَرَنِى نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ أَنَّهُ سَأَلَ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ عَنِ الرُّقَى وَتَعْلِيقِ الْكُتُبِ فَقَالَ : كَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ يَأْمُرُ بِتَعْلِيقِ الْقُرْآنِ وَقَالَ لاَ بَأْسَ بِهِ.

অর্থাৎ:নাফে’ বলেন:আমি ইয়াইয়া বিন সাইদ কে ঝাড়ফুঁক এবং তাবিজ লটকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।তিনি বললেন:সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব কোরআন লিখে লটকানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেচেন:এতে কোন সমস্যা নেই।(আস সুনানুল কুবরা,৯/৩৫১.২০১০০)

عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ ، قَالَ : سَأَلْتُ أَبَا جَعْفَرٍ عَنِ التَّعْوِيذِ يُعَلَّقُ عَلَى الصِّبْيَانِ ؟ فَرَخَّصَ فِيهِ.

অর্থাৎ:ইউনুস বিন খাব্বাব বলেন:আমি আবু যাফরকে শিশুর গলায় তাবিজ লটকনো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।তিনি অনুমতি দিলেন।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা,হাদীস নং.২৪০১৭)

عَنْ جَعْفَرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ؛ أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرَى بَأْسًا أَنْ يَكْتُبَ الْقُرْآنَ فِي أَدِيمٍ ، ثُمَّ يُعَلِّقُهُ.

অর্থাৎ:জাফর তার পিতা তেকে বর্ণনা করেন:পাকা চামড়াতে কোরআনের তাবিজ লিখে লটকাতে কোন সমস্যা নেই।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা.হাদীস নং.২৪০১২)

এখন কি আহলে হাদীসের ভাইরা এ সব বড় বড় সাহাবী এবং বড় বড় মুহাদ্দিসদের ও মুশরিক বলবেন????

এমন কি আহলে হাদীসের ভাইরা যাকে ইমাম মানে সে ইবনে তাইমিয়ও তার ফাতওয়ার কিতাবে এ্ ধরনের তাবিজকে জায়েয বলেছেন্

ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া : ১৯/৬৪।

তাদের আরেক বড় আলেম আল্লামা শওকানীও রঃ এ ধরনের তাবিজকে জায়েয বলেন। (নাইলুল আওতার)

এখন কি এদেরও মুশরিক বলবেন??

উল্লিখিত হাদীস ও ফুকাহাদের কথা দ্বারা এ কথা প্রমাণীত হয় যে, কুরআনের আয়াত , হাদীস এবং আসমাউল হুসনা দ্বারা লিখিত সকল তাবিজ ব্যবহার করা জায়েয।

মুফতী ফখরুল ইসলাম নিজামপূরী

পরিচালক: ফিকহে হানাফী রিসার্চ সেন্টার চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ বিন সীরিন বলেন:

ﻋَﻦْ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﺑْﻦِ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﺳِﻴﺮِﻳﻦَ ؛ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻻَ ﻳَﺮَﻯ ﺑَﺄْﺳًﺎ ﺑِﺎﻟﺸَّﻲْﺀِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ .

অর্থাৎ:কোরআনের আয়াত লিখে তাবিজ লটকানোতে কোন অসুবিধা নেই।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা,২৪০১৪.শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা তাহকীককৃত)

ইমাম মালিক রহঃ বলেন:

ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﺘﻌﻠﻴﻖ ﺍﻟﻜﺘﺐ ﺍﻟﺘﻲ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻰ ﺃﻋﻨﺎﻕ ﺍﻟﻤﺮﺿﻰ

অর্থাৎ:আল্লাহর নাম লিখে অসুস্থ ব্যক্তির গলায় লটকাতে কোন অসুবিধা নেই। (আল ইসতিযকার,৮/৩৯৭.শায়খ সালিম মুহাম্মাদ আতা তাহকীককৃত)

ইমাম বায়হাকী বলেন:

ﻭَﻗَﺪْ ﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺫَﻟِﻚَ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺷْﺒَﻬَﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻬْﻰِ ﻭَﺍﻟْﻜَﺮَﺍﻫِﻴﺔِ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻘَﻬَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﺮَﻯ ﺗَﻤَﺎﻡَ ﺍﻟْﻌَﺎﻓِﻴَﺔِ ﻭَﺯَﻭَﺍﻝَ ﺍﻟْﻌِﻠَّﺔِ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﻳَﺼْﻨَﻌُﻮﻥَ ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻘَﻬَﺎ ﻣُﺘَﺒَﺮِﻛًﺎ ﺑِﺬِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﻛَﺎﺷِﻒَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻻَ ﺩَﺍﻓَﻊَ ﻋَﻨْﻪُ ﺳُﻮَﺍﻩُ ﻓَﻼَ ﺑَﺄْﺱَ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ .

অর্থাৎ:যে সমস্ত হাদীসে তাবিজ লটকানো নিষেধ করা হয়েছে,সেখানে উদ্দেশ্য হল যে, মনে করবে তাবিজই তাকে রোগ থেকে মুক্তি দিবে। যেমনটা জাহেলী যুগে মানুষরা করত। কিন্তু যে বরকতের জন্য আল্লাহর নাম লিখে লটকাবে,আর সে জানে যে,এ তাবিজের কোন ক্ষমতা নেই,আল্লাহ ছাড়া কেউ রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারবেনা,তাহলে তাবিজ লটকাতে কোন সমস্যা নেই।(আস সুনানুল কুবরা,৯/৩৫০.দায়িরাতুল মাআরিফ প্রকাশনি)

আল্লামা আবেদ সিন্ধি বলেন:

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺴﻨﺪﻱ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺗﻤﺎﺋﻢ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺨﺮﺯﺍﺕ ﻭﺃﻇﻔﺎﺭ ﺍﻟﺴﺒﺎﻉ ﻭﻋﻈﺎﻣﻬﺎ ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﺑﺎﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﺍﻹﻟﻬﻴﺔ ﻓﻬﻮ ﺧﺎﺭﺝ ﻋﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﺑﻞ ﻫﻮ ﺟﺎﺋﺰ

অর্থাৎ:যে সমস্ত হাদীসে নিষেদ এসেছে:সেগুলোতে উদ্দেশ্য হল:জাহেলী যুগের তাবিজ।যেমন:হিংস্র প্রাণির নখ এবং হাড্ডি দ্বারা।তাবে যদি তাবিজ হয়ে থাকে কোরআন অথবা আল্লাহর নাম দ্বারা,তবে সেগুলো জায়েজ।নিসেধের অন্তর্ভুক্ত নয়।(আওনুল মা’বুদ,১০/২৫০.দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ,বায়রুত)

ইমাম ইবনে আব্দিল বার মালেকী রহঃ দুই ধরণের হাদীসের উপর তাত্ত্বিক পর্যালোচনা করে বলেছেন:জাহেলী যুগের মত তাবিজাতী শিরক। অন্যথায় জায়েজ।দেখুন:(আত তামহীদ.১৭/১৬২.শায়খ মুসতাফা বিন আহমদ তাহকীককৃত)

আহলে হাদীসদের বরণীয় ব্যক্তি আল্লামা মুনাবী বলেন:

ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﻣﻦ ﻋﻠﻖ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻣﻦ ﺗﻤﺎﺋﻢ ﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻳﻈﻦ ﺃﻧﻬﺎ ﺗﺪﻓﻊ ﺃﻭ ﺗﻨﻔﻊ ﻓﺈﻥ ﺫﻟﻚ ﺣﺮﺍﻡ ﻭﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﻻ ﺩﻭﺍﺀ ﻓﻴﻪ

ﻭﻛﺬﺍ ﻟﻮ ﺟﻬﻞ ﻣﻌﻨﺎﻫﺎ ﻭﺇﻥ ﺗﺠﺮﺩ ﻋﻦ ﺍﻻﻋﺘﻘﺎﺩ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ ﻓﺈﻥ ﻣﻦ ﻋﻠﻖ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦ ﺃﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﺮﻳﺤﺔ ﻓﻬﻮ ﺟﺎﺋﺰ ﺑﻞ ﻣﻄﻠﻮﺏ ﻣﺤﺒﻮﺏ ﻓﺈﻥ ﻣﻦ ﻭﻛﻞ ﺇﻟﻰ ﺃﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺧﺬ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻴﺪﻩ

অর্থাৎ:উদ্দেম্য হল,যে জাহিলী যুগের মত তাবিজ লটকাবে এবং তার ধারণা তাবিজই তিাকে রোগ তেকে মুক্তি দিবে। আর যদি উপরোক্ত আকিদা তার না হয় এবং আল্লাহ তায়ালার নাম লিখে লটকায়,সেটা জায়েজ আছে এবং উদ্দিষ্ট এবং প্রশংসনীয়।(ফয়জুল কাদীর,৩/২৫০.দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)

উল্লিখিত মুহাদ্দিসীনে কিরামদের উক্তির আলোকে এ কথা প্রমাণীথ হয় যে, কুরআন হাদীস দ্বারা লিখিত তাবিজ ব্যবহার করাতে কোন সমস্যা নাই।

তা সম্পূর্ণ জায়েয।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here