ধূমপান হারাম কেন?

0
45
views

ধূমপান হারাম কেন?

আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন যা আমাদের জন্য বৈধ করেছেন তা হালাল আর যা আমাদের জন্য অবৈধ করেছেন তা হারাম অর্থাৎ নিষিদ্ধ। হাদিসেও এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা এসেছে। কিন্তু ধূমপানের অস্তিত্ব যেহেতু সে যুগে ছিল না, কাজেই এ নিয়ে না কুরআনে কিছু রয়েছে, না রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতে কিছু রয়েছে। কাজেই এর উপর কি ধরণের নির্দেশনা কাজ করবে তা নির্ভর করে ইসলামী শরীয়ার অন্য দুটি সূত্র ধরে তথা ইজমা এবং কিয়াসের উপর ভিত্তি করে। 

সুরা আল আ’রাফের ১৫৭ নং আয়াতের কিছু অংশে আল্লাহ্‌ পাক ঘোষণা করেন, “তিনি (রাসুল সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম) তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসম— “

এখন প্রশ্ন হল ধূমপান বা তোবাক কি আমাদের শরীর, স্বাস্থ এবং মনের জন্য ভালো? এটি যে ভালো নয়, তা এর গায়ের লেবেল দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে। ভালো বস্তুর গায়ে কখনো লিখা থাকে না যে ‘ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর’ এবং ‘ধূমপান মৃত্যুর ঝুকি বাড়ায়’। আর আল্লাহ্‌ পাক অন্য এক আয়াতে বলেন, “আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না।” [৪:২৯]। সিগারেট বা ধূমপান যেহেতু ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে, কাজেই এটি নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবার শামিল। অন্য একটি আয়াতে এসেছে, “আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।” [২:১৯৫]। 

অন্যদিকে ধূমপান অবশ্যই অপচয় আর আল্লাহ্‌ অপচয় কারীকে পছন্দ করেন না। “আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।” [১৭:২৬-২৭]। 

এবার আসা যাক বাস্তবতায়, ধূমপান নিজের প্রতি অবিচারের শামিল। সাথে সাথে নিজের পরিবার এবং কাছের মানুষের প্রতিও। কেননা যারা ধুমাপান করেন না, তাদের জন্য এর দুর্গন্ধ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এ সবই এক ধরণের নীরব অত্যাচার। অর্থ অপচয়ের মাধ্যমে ধূমপানকারী নিজের এবং পরিবারের দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে। আমাদের আঁকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন ক্ষতি করা যাবে না, এমন কি ক্ষতির কারণও হওয়া যাবেনা। [সাহীহ আল-জামীঃ ৭৫১৭]। অনেকেই ধূমপান শুরু করে থাকে শখের বশে, কিন্তু এক সময় এটি নেশায় পরিণত হয়। যা পরিত্যাগ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। আর নেশা ইসলামে জায়েজ নেই। ফেকাহ শাস্ত্রে নেশা নিয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর ধূমপান যেহেতু নেশার অন্তর্ভুক্ত, কাজেই ধূমপানও ইসলামী শরীয়তে নিষেধ। তবে এটি সরাসরি হারাম না হলেও উপরোক্ত কারণে মাকরুহ তাহরিমা অর্থাৎ হারামের কাছাকাছি। ধন্যবাদ!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here