পৃথিবী ঘোরা তো দুরের কথা নড়তেও পারেনা।

0
28
views

পৃথিবী ঘোরা তো দুরের কথা নড়তেও পারেনা।

পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে- বিশ্বের তাবড় সব বিজ্ঞানীর এ তত্ত্বকে সম্প্রতি ভুল বলে আখ্যা দিলেন এক সৌদি আলেম। ‘পৃথিবী একটি নিশ্চল বস্তু, এটি ঘোরা তো দূরের কথা, নড়তেও পারে না। বরং সূর্যই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলেছে।’ গ্যালিলিও আর জিওর্দানো ব্রুনো থেকে শুরু করে আধুনিক টেলিস্কোপওয়ালা নাসার বিজ্ঞানীদের যাবতীয় তত্ত্বকে ভুল দাবি করে এমন কথা বলেছেন শেখ বান্দার আল-খাইবারি নামে এক সৌদি আলেম।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্যালিলিও গ্যালিলির জন্মদিবস (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৫৬৪) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজের এই ‘গবেষণা’ তুলে ধরেন খাইবারি। ইতিমধ্যে খাইবারির এই বক্তৃতা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুলভাবে আলোচিত হচ্ছে। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে পরোয়া না করা খাইবারির দাবি, যদি পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ঘুরত, তাহলে বিমান কখনওই তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারত না। পৃথিবী ঘুরলে বিমানের ওড়ার প্রয়োজন কী! চীন’ই তো ধীরে ধীরে বিমানটির কাছে এগিয়ে আসতো!

নাসার চন্দ্রজয়ের বিষয়টি হলিউডের সৃষ্টি বলে উড়িয়ে দিয়ে নিজের তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করতে বিজ্ঞানীদের প্রতি চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন খাইবারি। দ্য টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, হাফিংটন পোস্ট।

প্রশ্নঃসূর্য কি পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে?

(ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম-আল্লামা উসাইমীন রাহ)

উত্তরঃ- মান্যবর শায়খ উত্তরে বলেন যে, শরীয়তের প্রকাশ্য দলীলগুলো প্রমাণ করে যে, সূর্যই পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরে। এই ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রির আগমণ ঘটে। আমাদের হাতে এই দলীলগুলোর চেয়ে বেশী শক্তিশালী এমন কোন দলীল নাই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘূরার দলীলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি। সূর্য ঘুরার দলীলগুলো হলঃ আল্লাহ তাআ’লা বলেন,

فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنْ الْمَغْرِبِ 

“আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সূরা বাকারাঃ ২৫৮) সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলীল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর উপর পরিভ্রমণ করে। 

২) আল্লাহ বলেনঃ

فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَاقَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ 

“অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অব্সথায় উঠতে দেখলেন তখন বললেনঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত।” (সূরা আনআ’মঃ ৭৮) এখানে নির্ধারণ হয়ে গেল যে, সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়। একথা বলা হয়নি যে, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেল। পৃথিবী যদি ঘূরত তাহলে অবশ্যই তা বলা হত। 

৩) আল্লাহ বলেনঃ

وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَتَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ 

“তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস- যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” (সূরা কাহাফঃ ১৭) পাশ কেটে ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদিনড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলতেন সূর্য থেকে গুহা পাশ কেটে যায়। উদয় হওয়া এবং অস্ত যাওয়াকে সূর্যের �وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ 

“এবং তিনিই দিবা-নিশি এবং চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সবাই আপন আপন কক্ষ পথে বিচরণ করে।” (সূরা আমবীয়াঃ ৩৩) ইবনে আব্বাস বলেন, লাটিম যেমন তার কেন্দ্র বিন্দুর চার দিকে ঘুরতে থাকে, সূর্যও তেমনিভাবে ঘুরে।

৫) আল্লাহ বলেনঃيُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا 

“তিনি রাতকে আচ্ছাদিত করেন দিনের মাধ্যমে, দিন দৌড়ে দৌড়ে রাতের পিছনে আসে।” (সূরা আ’রাফঃ ৫৪) আয়াতে রাতকে দিনের অনুসন্ধানকারী বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী পিছনে পিছনে দ্রুত অনুসন্ধান করে থাকে। এটা জানা কথা যে, দিবা-রাত্রি সূর্যের অনুসারী। 

৬) আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ

خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّار 

অর্থঃ “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” (সূরা যুমারঃ ৫) আয়াতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, পৃথিবীর উপরে দিবা-রাত্রি চলমান রয়েছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো তাহলে তিনি বলতেন, দিবা-রাত্রির উপর পৃথিবীকে ঘূরান। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “সূর্য এবং চন্দ্রের প্রত্যেকেই চলমান”। এই সমস- দলীলের মাধ্যমে জানা গেল যে, সুস্পষ্টভাবেই সূর্য ও চন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থান চলাচল করছে। এ কথা সুস্পষ্ট যে, চলমান বস’কে বশীভুত করা এবং কাজে লাগানো একস্থানে অবস্থানকারী বস্তুকে কাজে লাগানোর চেয়ে অধিক যুক্তিসঙ্গত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here