বিষয়:আলাইহিস সালাম বাক্যটি কার নামের পরে ব্যবহার করা যাবে এবং কার নামের পরে ব্যবহার করা যাবে না,তার-ই সু-স্পষ্ট প্রমাণ,ও বিতর্কের সমাধান।

0
6
views

🌹🌹7️⃣8️⃣6️⃣/9️⃣2️⃣🌹🌹

اھل سنت کا بیڑا پار ہے اصحاب حضور
نجم ہے اور ناؤ ہے عترت رسول اللہ کی
আহলে সুন্নাত ওয়া জামায়াতের খাতিরে পড়ুন ও শেয়ার করুন।

আলাইহিস সালাম বাক্যটি কার নামের পরে ব্যবহার করা যাবে এবং কার নামের পরে ব্যবহার করা যাবে না,তার-ই সু-স্পষ্ট প্রমাণ,ও বিতর্কের সমাধান

এই বিষয়টি নিয়ে কিছু মতভেদ থাকলেও আহলে সুন্নাত ওয়া জামায়াতের জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে (আলাইহিস সালাম) বা (আলাইহিস স্বলাতু অ-সসালাম) বাক্যটি নবী, রাসূল ও ফেরেশতাগনের পবিত্র নামের পরে ব্যবহার করার জন্য খাস। নবী, রাসূল ও ফেরেশতাগন ছাড়া অন্য কারোর নামের পরে সরাসরি বা প্রথমতঃ আলাইহিস সালাম বাক্যটি ব্যবহার করা নিষেধ বা উচিৎ নয়। ওলামায়ে আহনাফ এর উপর-ই ফতুয়া প্রদান করে থাকেন এবং আমল করে থাকেন।

এ বিষয়টির অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে,তার-ই মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে কয়েকটি প্রমাণ এখানে পেশ করা হলো

১)👉🏻 দারসে নেযামীয়ার মাদ্রাসা সিলেবাস ভুক্ত ফিক্বহা শাস্ত্রের প্রাথমিক স্তরের উর্দু কিতাব ক্বানুনে শারীয়াত নামক কিতাবের ২য় খন্ডের ৩২৮ পৃষ্ঠায় (লাহোরের ছাপা) শামসুল ওলামা শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী শামসুদ্দিন জোনপুরী আলাইহির রহমা লিখেছেন যে,
علیہ السلام نبی اور فرشتہ کیلے خاص ہے۔
অর্থাৎ- আলাইহিস সালাম বাক্যটির ব্যবহার নবী ও ফেরেশতার জন্য খাস।

২)👉🏻 এশিয়া মহাদেশ বিখ্যাত ফিক্বাহ শাস্ত্রের সু-বিখ্যাত নির্ভরযোগ্য কিতাব বাহারে শারীয়াত নামক কিতাবের ১৬তম খন্ডের ৯৩ পৃষ্ঠায় (ফারুকিয়া বুক ডিপো দিল্লি থেকে ছাপা)
সালামের বর্ণনায়, ফাক্বীহে আযামে হিন্দ স্বদরুশ শারীয়া আল্লামা মুফতী আমজাদ আলী আ’যমী আলাইহির রহমা লিখেছেন যে,
کسی کے نام کے ساتھ علیہ السلام کہنا یہ انبیاء و فرشتے (علیھم السلام) کے ساتھ خاص ہے۔
অর্থাৎ- কারো নামের সাথে আলাইহিস সালাম বাক্যটি বলা নবী ও ফেরেশতাদের জন্য খাস।

৩)👉🏻 ফাতাওয়া ফায়যূর রাসূল নামক কেতাবের ১ম খন্ডের ২৬৭ পৃষ্ঠায় ফাক্বীহে মিল্লাত আল্লামা আলহাজ্ব মুফতী মোঃ জালালুদ্দিন আহমাদ আমজাদী আলাইহির রহমা লিখেছেন যে, ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম বলা যাবে কি না?
এর উত্তরে তিনি বলেন, এটা মতভেদী মসলা। তার পর তিনি লিখেছেন যে,
جمھور علماء کا مذھب یہ ہے کہ استقلالا وابتداء نہیں جایز ہے اور اتباعا جایز ہے۔
অর্থাৎ- (নবী ও ফেরেশতা ছাড়া অন্য কারো নামে) সরাসরি বা বাক্যের প্রথমেই আলাইহিস সালাম বলা নাজায়েয হবে,আর নবীর উপর সালাম পড়ার পর তার-ই সাথে যুক্ত করে বলা জায়েয হবে।

৪)👉🏻সামানে আখেরাত নামক কিতাবের ৩৯৫ পৃষ্ঠায় শাইখুল হাদীস আল্লামা আলহাজ্ব মুফতী মোঃ আব্দুল মুস্তাফা আ’যমী নক্বশেবান্দী মুজাদ্দেদী আলাইহির রহমা লিখেছেন যে,
کسی کے نام کے ساتھ علیہ السلام کہنا یہ انبیاء کرام و ملایکہ علیہم السلام کے ساتھ خاص ہے۔
অর্থাৎ- কারোর নামের পরে আলাইহিস সালাম বাক্যটি বলা নবীগন ও ফেরেশতাগনের জন্য খাস।

৫)👉🏻ফাতাওয়া আমজাদিয়া নামক কিতাবের ৪র্থ খন্ডের ৪৪ পৃষ্ঠায় ফাক্বীহে আযামে হিন্দ স্বদরুশ শারীয়া আল্লামা আলহাজ্ব শায়েখ মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আ’যমী আলাইহির রহমা লিখেছেন যে,
غیر نبی و ملک کے ساتھ علیہ السلام نہیں کہنا چاہیے۔
অর্থাৎ- নবী ও ফেরেশতা ছাড়া অন্য কারোর জন্য আলাইহিস সালাম বলা উচিৎ নয়।

৬)👉🏻 ফাতাওয়া তাজুশ শারীয়া নামক কিতাবের প্রথম খন্ডের আক্বায়েদের বয়ানে ৪১৬ পৃষ্ঠায়
হুযূর তাজুশ শারীয়া বাদরুত্তারিক্বা আল্লামা আলহাজ্ব শায়েখ মুফতী মুহাদ্দিস হাফিজ ক্বারী ইমাম আখতার রেযা খান আযহারী মিয়াঁ আলাইহির রহমা লিখেছেন যে,
علیہ السلام خاص تحیت انبیاء و ملایکہ علیہم السلام ہے
অর্থাৎ- আলাইহিস সালাম বাক্যটি নবী ও ফেরেশতাদের সম্মানার্থে খাস করে বলা হয়।
তিনি আরো লিখেছেন যে,নবী ছাড়া অন্য কারো জন্য সরাসরি আলাইহিস সালাম বলা নিষেধ।
হ্যাঁ নবীর উপর সালাম পড়ার পর তার-ই সাথে যুক্ত করে বলা জায়েয।

৭) বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী বিশ্বকোষ ফাতাওয়া রাযবীয়া মুতারজাম ২৩তম খন্ডের ৩৯ পৃষ্ঠায় (জামিয়া নেযামিয়া লাহোরের ছাপা) আ’লা হাযরাত মুজাদ্দিদে আযাম ইমাম আহমাদ রাযা খান বেরেলবী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু লিখেছেন যে, আলাইহিস স্বলাতু অ-সসালাম বাক্যটি নবী ও ফেরেশতা ছাড়া অন্য কারোর জন্য নয়।
ہاں بہ تبعیت جایز ہے
অর্থাৎ- নবীর উপর সালাম পড়ার পর তার-ই সাথে যুক্ত করে বলা জায়েয।

বিঃ দ্রঃ:- অনেকেই বলে থাকেন যে, বোখারী শরীফে মুসলিম শরীফে আবু দাউদ শরীফে আরো কিছু কিতাবে আছে, আলী আলাইহিস সালাম, হোসাইন আলাইহিস সালাম, ফাতিমা আলাইহাস সালাম হাওওয়া আলাইহাস সালাম, মারয়াম আলাইহাস সালাম ইত্যাদি ইত্যাদি (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আজমাঈন)
তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, উপরে বর্নিত ৭ জন বড় বড় হুযূরগন কি উল্লেখিত হাদীসের কিতাব গুলি দেখেননি?? পড়েননি??
অবশ্যই দেখেছেন, অবশ্যই পড়েছেন। বরং এই মত কত শত কিতাবাদি জগৎকে দেখিয়েছেন ও পড়িয়েছেন।
আমার মনে হয়, না বুঝে না সুঝে, আন্দাজে অনুমানে, যাচাই বাছাই না করে, কোন কথা বলা ঠিক নয়। শরীয়তের হোক আর দেশের হোক আইন নিজের ✋হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়।
আল্লাহ তায়ালা সকলকে বোঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

এই ব্যাপারে বোখারী শরীফে মুসলিম শরীফে ও আবু দাউদ শরীফ ইত্যাদি কিতাবে কি আছে, সে ব্যাপারে আমার আর একটি লিখা খুব শীঘ্রই আসছে। ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আপনারা দোওয়া করবেন।

৮)👉🏻জগৎ বিখ্যাত কিতাব শারহে ফিক্বহে আকবার আরবী ২০৪ পৃষ্ঠার শেষ লাইনে শাইখ মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এ ব্যাপারে কিছু আলোচনা করার পর পরিস্কার ভাবে লিখেছেন যে,
ان قول علی علیہ السلام من شعار اھل البدعہ
অর্থাৎ- নিশ্চয়, আলী আলাইহিস সালাম বলাটা বেদাতীদের আলামত।

واللہ سبحانہ وتعالی و رسولہ اعلم بالصواب

ইহা ছাড়াও আরো অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাবে এই মসলাটি সু-স্পষ্ট ভাষায় লিখা আছে।
বেশী লম্বা লেখা পড়তে মানুষ যেন বিরক্ত না হয়, সেই কারনে আজকের মত এখানেই লিখা শেষ করছি।
ভাষাগত ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।

আরয গুযার
ইতি- ৩০/০৮/২০২১
খাদিমে আহলে সুন্নাত ওয়া জামায়াত
মোঃ আলীমুদ্দিন রেজবী মাযহারী জঙ্গীপুরী।
(সভাপতি)
জামিয়া গাওসিয়া রেজবীয়া
গাড়িঘাট,রঘুনাথগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ,পশ্চিম বঙ্গ,ভারত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here