বিষয় – আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন দাতা আর হুজুর (ﷺ) হলেন বন্টনকারী।

0
10
views

আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন দাতা আর হুজুর (ﷺ) হলেন বন্টনকারী।

হযরত মুয়াবিয়া (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, عَنْ مُعَاوِيَةَ، خَطِيبًا يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ: «مَنْيُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللَّهُ يُعْطِي (متفق عليه)অনুবাদ: আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, আল্লাহ যার মঙ্গল চান তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। আর নিশ্চয় আমিই হচ্ছি বন্টনকারী আর আল্লাহ হচ্ছেন দাতা।তথ্যসূত্রঃ১.সহীহ বুখারী, অধ্যায়-ইলম, ১/৩৯, হা:৭১, হা: ২৯৪৮, অধ্যায়- কিতাব ও সুন্নাহকে শক্তভাবে আকড়ে ধরা, হা:২৮৮২।২.সহীহ মুসলিম, অধ্যায়-যাকাত, ২/৭১৮, হা:১০৩৭।৩.সুনানে তিরমিযী, অধ্যায়-ইলম ৫/২৭ হা: ২৬৪৫।৪.ইবনে মাজাহ ১/৮০, হা:২২০-২২১।৫. নাসাঈ কৃত সুনানে কুবরা, ৩/৪২৫, হা:৫৮২৩।৬.মুয়াত্তা ইমাম মালেক, ২/৯০০, হা:১৫৯৯৭.মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল, ২/২৩৪, হা: ৭৯৩।প্রিয় নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেন-اعطيت مفاتيح خزائن الارضঅর্থঃ আমাকে দান করা হয়েছে পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি সমূহ৷ [সূত্রঃ সহীহ বুখারী শরীফ, হাদিস নং-৪০৮৫]প্রিয় নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেন-اتيت بمفاتيح خزائن الارض فوضعت في يدي،অর্থঃ পৃথিবীর ধন ভান্ডার সমূহের চাবি সমূহ আমার কাছে আনা হয়েছে৷ অতঃপর আমার হাতে রাখা হয়েছে৷১. সহীহ বুখারী শরীফ, হাদিস নং-৭০১৩, ৬৯৯৮, ৭০৩৭২. মুসনাদে ইমাম আহমদ, হাদিস নং- ৯৫৫৭, ” ৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাছীর, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা- ৪৭, ৪.মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-৫১২প্রিয় নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেন-اعطيت الكنزين الاحمر والابيض،অর্থঃ আমাকে লাল এবং সাদা দুটি ধন ভান্ডার দান করা হয়েছে৷[সূত্রঃ মেশকাত শরীফ, খতীব তিবরিযী, পৃষ্ঠা-৫১২]প্রিয় নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেন-.قال: فوضع كفه بين كتفي فوجدت بردها بين ثديي، فعلمت ما في السموات والارض،অর্থঃ অতঃপর আল্লাহ পাক তার কুদরতী হাতের তালু আমার দুই কাধের মধ্যস্থলে রাখলেন৷ সুতরাং আমি তার শীতলতা আমার বক্ষস্থলে অনুভব করলাম৷ অতঃপর সাত আসমান ও সাত জমীনে যা কিছু রয়েছে সব কিছুর জ্ঞান আমি অর্জন করেছি৷তথ্যসূত্রঃ১. মুসান্নাফে আবী শায়বা, ৫/৩১৩, হাদিস নং- ৩১৭০৬, ২. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ২৩২১০, ৩. তাবাকাতে ইবনে সা’দ, ৭/১৫০, ৪. মু’জামুল কবীর, ইমাম তাবরানী, ২০/১০৯, ৫. সুনানে দারেমী, ২/৫১, হাদিস নং- ২১৫৫, ৬. মুসনাদে শাময়ীন, ইমাম তাবরানী, ১/৩৩৯-৩৪০, হাদিস নং- ৫৯৭, ৭. মুসনাদে বাজ্জার, ৭/১১০-১১১, হাদিস নং- ২৬৬৮, ৮. দারে কুতনী, হাদিস নং- ২৩৩, ২৪০, ৯. জামিউল আহাদিস, ইমাম সুয়ূতী, ২০/৮২, হাদিস নং- ১৫৬৮৮, ১০. সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, সালেহী শামী, ১০/১০, ১১. মিশকাত শরীফ, খতীবে তিবরিযী, পৃষ্ঠা- ৬৯-৭০, ১২. তাফসীরে কবীর, ইমাম রাযী, ১/১২৭, ১৩. তাফসীরে ইবনে কাছীর, আল্লামা ইবনে কাছীর, ৪/২৯৫, মুল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-فتح علي ابواب الغيوب،অর্থাৎ আল্লাহপাক আমার জন্য সমস্ত গায়েব সমূহের দরজা সমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন৷[সূত্রঃ মিরকাত শরহে মিশকাত, মুল্লা আলী ক্বারী, খন্ড-২, পৃষ্ঠা- ২১০]প্রিয় নবীজি (ﷺ) কে মি’রাজে নিয়ে আল্লাহ পাক বিশেষ ইলম প্রদান করেছেন৷আল্লাহ পাক বলেন-ثم دنا فتدلي فكان قاب قوسين او ادني، فاوحي الي عبده ما اوحي،অর্থঃ অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, অতি নিকটবর্তী, তখন দুই ধনুক বা তার চেয়েও কম ব্যবধান ছিল৷ অতঃপর আল্লাহপাক তার প্রিয় হাবীবের প্রতি ওহী করলেন যা ওহী করার ছিল৷ [সূরা নজম, আয়াত নং- ৮-১০]অত্র আয়াতের তাফসীর সমূহঃহযরত আনাস (رضي الله عنه) হতে শারীক ইবনে আবি নুমার (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন-ودنا الجبار رب العزة فتدلي حتي كان منه قاب قوسين او ادني، فاوحي الله اليه ما شاء، فاوحي الله فيما اوحي خمسين صلاة علي امته كل يوم و ليلة،অর্থাৎ পরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত নিকটবর্তী হলেন, অতঃপর তিনি অধিক নিকটবর্তী হলেন৷ এমনকি রাসুল (ﷺ) এর দুই ধনুক পরিমাণ ব্যবধান অথবা তার চেয়েও অধিক কম৷তারপর আল্লাহপাক ইচ্ছানুযায়ী তার প্রতি ওহী প্রদান করলেন৷ অতঃপর আল্লাহপাক তার প্রতি যা ওহী প্রদান করলেন তা হলো- প্রত্যেক দিন ও রাতে তার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ৷তথ্যসূত্রঃ১. সহীহ বুখারী শরীফ, ২/১১২০, হাদিস নং- ৭৫১৭, ২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৯২, হাদিস নং- ১৬২, ৩. মেশকাত শরীফ, খতীব তিবরিযী, পৃষ্ঠা- ৫২৮, ৪. তাফসীরে তাবারী, ২২/৫০২, হাদিস নং- ২৫১১১, সূরা- বনী ইসরাঈল, আয়াত-১, হাদিস নং-১৬৬১৯, ৫. তাফসীরে যাদুল মাসীর, ইবনে জাওযী, ৭/২২৭, ৬. তাফসীরে ইবনে কাছীর, সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত নং- ১, ৭. তাফসীরে রুহুল মায়ানী, আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী, সূরা- নজম-১০, ৮. তাফসীরে মায়ালিমুত তানযীল, ইমাম বাগভী, সূরা-নজম, আয়াত-১০, ৯. তাফসীরে দূররে মানসুর, ইমাম জালালুদ্দীন, সুয়ূতী, ১০. তাফসীরে জালালাইন, সূরা- বনী ইসরাঈল, আয়াত নং- ১, পৃষ্ঠা- ২২৯, ১১. ফতহুল বারী শরহে বুখারী, ইবনে হাজর আসক্বালানী, ১৩/৪৮৮, ১২. শরহে বুখারী, আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী, ২৫/১১৭, ১৩. শিফা শরীফ, আল্লামা কাযী আয়ায (رحمة الله), ১/৩৯৫, ১৪. ইতহাফুল খায়রা, ইমাম শরফুদ্দীন বুসিরী, ১/৯৩১, মুল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) كتاب العلم এর সূচনায় ওহী এর পরিচয় দিয়ে বলেন-و هذا قد يكون بغير واسطة في محل الشهود، كما قال تعالي: فاوحي الي عبده ما اوحي،অর্থাৎ আর এটা উপস্থিত ক্ষেত্রে কোন প্রকার মাধ্যম ছাড়াও হতে পারে৷ যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন- অতঃপর আল্লাহপাক তার প্রিয় হাবীবের প্রতি ওহী করলেন যা ওহী করার ছিল৷[সূরা নজম, আয়াত নং-১০][সূত্রঃমিরক্বাত শরহে মিশকাত, মুল্লা আলী ক্বারী, খন্ড-১, পৃষ্ঠা- ৬৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here