বিষয়-ইতিকাফের বিভিন্ন বিধানঃ-

0
5
views

ইতিকাফের বিভিন্ন বিধানঃ-
🔺তাদের এই বিষয়গুলো জেনে রাখা জরুরী।🔻

✴️(১) রামাদ্বানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা পুরুষের জন্য সুন্নাতে কিফায়াহ। অর্থাৎ কোনো মহল্লার মসজিদে পুরুষদের মধ্যে একজনও যদি ইতিকাফ করে, তবে পুরো মহল্লার লোকজন দায়মুক্ত হয়ে যাবে। কেউ ইতিকাফ না করলে সকলেই গুনাহগার হবে। ইতিকাফকারীকে ইতিকাফের স্থানে ২০ রামাদ্বান সূর্যাস্তের আগেই চলে যেতে হবে। এরপর ঈদের চাঁদ দেখা গেলে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবে।

✴️(২) মাসজিদে এটাচড বাথরুম থাকলে এবং অজুর ব্যবস্থা থাকলে এটিতেই প্রয়োজন পূর্ণ করতে হবে। প্রস্রাব-পায়খানা বা অজুর জন্য দূরে যাওয়া যাবে না। আর যদি এটাচড বাথরুম না থাকে, তবে বাইরে যাওয়া যাবে। তবে চলার পথে থামা যাবে না। দ্রুত চলে আসতে হবে মাসজিদে। [হিদায়াহঃ-১/২৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়াঃ-১/২১১]

✴️(৩) ইতিকাফ অবস্থায় রাতেও সহবাস করা যাবে না। করলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক চুম্বন, আলিঙ্গন ও উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করা ইতিকাফ অবস্থায় বৈধ নয়। যদি এসবের কারণে বীর্যপাত ঘটে, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭; বাদায়িউস সানায়ে: ২/২৮৫; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১৩]

✴️(৪) জুমার দিনে গোসল করা সুন্নাহ। এ দিন ইতিকাফকারী চাইলে গোসল করতে পারবে। অন্যান্য দিনে এভাবে গোসল করা যাবে না; করলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। তবে, সর্বোচ্চ এটুকু সুযোগ রয়েছে যে, প্রস্রাব-পায়খানা করে ফিরে আসার সময় অজু করতে যে সময়টুকু লাগে এটুকু সময় শরীরে পানি ঢেলে দ্রুত ইতিকাফের স্থানে চলে আসবে। কোনো সাবান, শ্যাম্পু, ফেইসওয়াশ ইত্যাদি ব্যবহার করবে না। [রাদ্দুল মুহতার: ২/৪৪০; ২/৪৪৫; আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫১৫]

✴️(৫) পূর্ণ দশ দিনের সুন্নাত ইতিকাফ পালন করা অনেকের জন্যই অসম্ভব। এক্ষেত্রে তারা যে কদিন সম্ভব, নফল ইতিকাফ করতে পারেন। লাইলাতুল কদর তালাশে শুধু রাতের বেলাতেও নফল ইতিকাফ করা যাবে। কিংবা কয়েক ঘণ্টার জন্যও নফল ইতিকাফ করা যাবে।

✴️(৬) সুন্নাত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। রোজা না থাকলে ইতিকাফ হবে না। [সুনান বাইহাকি: ৪/৩১৭; বাদায়িউস সানায়ে’: ২/২৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১]

✴️(৭) কোনো কারণে ইতিকাফ ভেঙে গেলে, পরে কমপক্ষে একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। সেটা রামাদ্বানেই হতে হবে, এমনটি জরুরি নয়; তবে রামাদ্বানে হলে সেটিই ভালো। এই এক দিন কাজা করার নিয়ম হলো, একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে। পরবর্তী দিন রোজা থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে। এভাবে একদিন রোজাসহ ইতিকাফ করলেই কাজা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে না। তবে, অবশিষ্ট দিনগুলো কাজা করলে, সেটিই উত্তম। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৭; আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫০২]

✴️(৮) ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানা বা অজুর জন্য মসজিদের বাইরে গেলে আসা যাওয়ার পথে চলতে-চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। এসময় পথ চলতে-চলতে কারো সাথে অল্প-স্বল্প কথাও বলতে পারবে। এতে ইতিকাফের ক্ষতি হবে না। তবে কারো সাথে কথা বলা বা কুশলাদি জিজ্ঞাসার জন্য মসজিদের বাইরে অল্প সময়ও দাঁড়ানো জায়েয হবে না। তেমনি, মাসজিদের বাইরে গিয়ে কোনো জানাযার নামাজেও শরিক হওয়া যাবে না। আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় (প্রয়োজনে বাইরে গেলে) যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে অতিক্রম করতেন, তখন হাঁটা অবস্থাতেই ঐ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়ে নিতেন। [আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৪৭২]

✴️(৯) ইতিকাফের স্থানে অল্প-স্বল্প বৈধ কথা-বার্তা বলা জায়েয আছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যাহ (রা.)-এর সাথে কথা-বার্তা বলেছিলেন। [বুখারি, আস-সহিহ: ২০৩৮; মুসলিম, আস-সহিহ: ২১৭৫]

✴️(১০) মসজিদে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে খাবার আনার জন্য বাসায় যাওয়া যাবে। এ কারণে ইতিকাফ ভাঙবে না। তবে খাবার আনার জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য কোনো কাজে বিলম্ব করা যাবে না। অন্য কাজে অল্প সময় ব্যয় করলেও ইতিকাফ ভেঙে যাবে। অবশ্য কোনো কারণে খাবার প্রস্তুত হতে লেইট হলে, সেজন্য অপেক্ষা করতে পারবে। [আল বাহরুর রায়িক: ২/৩০৩; আল মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৮০]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here