বিষয়-নবী করীম (ﷺ) নাম শুনে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমা খেয়ে চোখে লাগানো সুন্নাত

0
11
views

নবী করীম (ﷺ) নাম শুনে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমা খেয়ে চোখে লাগানো সুন্নাত

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আপন হাবীব (ﷺ) এর মুহাব্বতকে আপন বান্দাদের উপর আবশ্যক করেছেন এবং লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম তার প্রিয় রাসূলের উপর , যিনি কিয়ামতের দিবসে শাফায়াত করবেন তার আশিকদের জন্য এবং সালাত ও সালাম তার পরিবার , আসহাবদের উপর যারা নবীয়ে পাককে আপন জান থেকেও প্রিয় জানতেন আমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও তার হাবীব (ﷺ) এর উম্মতের দাবিদার এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই।কিন্তু কিছু কিছু উম্মতের দাবীদার (যারা উম্মত নামের কলঙ্ক) তারা হাবীবে দুজাহানের প্রতি ভালবাসা , শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে শিরিক মনে করে।যেমন, দাঁড়িয়ে নবীকে সালাম প্রদান করা, রাসূলে পাক (ﷺ) নাম শুনার পর মুহব্বতে বৃদ্ধ ও শাহাদাত আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মুখে মালিশ করা, রাসূলকে নূরের সৃষ্টি মানা, রাসূলকে এলমে গায়েবের অধিকারী মানা ইত্যাদি।❏ তাই আমি অধম আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রযা খাঁন (رحمة الله) সুপ্রসিদ্ধ কিতাব منير العين فى حكم تقبيل الابهامين (মুনিরুল আইন ফী হুকমি তাক্ববিলুল ইবহামাইন) এবং মুফতি আহমদ ইয়ার খাঁ নঈমী (رحمة الله) এর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব جا الحق وزهق الباطل (জা’আল হ্বক ওযাহাকাল বাতিল) ও অন্যান্য কিতাব সমূহ পড়ে মনস্থ করলাম যে, রাসূলে পাক (ﷺ) এর নাম মোবারক আজানে শুনার পর দরূদ শরীফ পড়তঃ আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মালিশ করার ফজিলত দুনিয়া ও আখিরাতে কি রকম ?এ বিষয়টি সাধারণ জনতার মাঝে বই আকারে দিতে পারলে সরল প্রাণ মুসলিম জনতা ও আমি নিজেও উপকৃত হব।সাথে সাথে এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে রাসূলে পাক(ﷺ) এর নূরানী কদমে উৎসর্গ করলাম।হতে পারে এই বইয়ের দরূণ বহু বিভ্রান্ত জনতা হকের দিশা পাবে এবং হতে পারে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য নাজাতের উছিলা হবে।আল্লাহ আমাদের সকলকে তার রাসূলে পাক (ﷺ) এর গোলাম হিসেবে কবুল এবং মন্জুর করুক ।আমিন।❏ আল্লাহ পাক কুরআনে পাকে এরশাদ করেন-اليوم نختم على أفواههم وتكلمناايديهم وتشهدارجلهم بماكانوايكسبون(سوره يس٦٥)অর্থ:-আজ (কিয়ামতের দিবসে) আমি তাদের মুখে তালা মেরে দেব এবং তাদের হাত কথা বলবে, তাদের পা সাক্ষ্য দেবে দুনিয়ার মধ্যে তারা যা অর্জন করেছিল। (সূরা ইয়াছিন-৬৫)উপরোক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় কিয়ামতের ময়দানে মানুষের হাত, পা কথা বলবে এবং তারা হাত, পা কে কোন কাজে ব্যবহার করেছিল, পক্ষে ও বিপক্ষে তথা পূণ্য করেছিল না গুনাহের কাজ করেছিল তা আল্লাহর সামনে বলে দিবে।আর যে উম্মত রাসুলে পাক (ﷺ) এর নাম শুনে মহব্বতে আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মালিশ করে অবশ্যই কিয়ামতের ময়দানে সেই আঙ্গুল ও সাক্ষ্য দেবে, হয়ত এটাই নাজাত তথা মুক্তির বড় মাধ্যম হতে পারে।কারণ মানুষ তার ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে জান্নাত পাবে এর কোন সিউরিটি নেই বরং একমাত্র আল্লাহ তায়ালার দয়ার মাধ্যমেই জান্নাত পাওয়া যায়। আর কাজটি যেহেতু তার হাবীব (ﷺ) এর প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।সেহেতু আল্লাহ তায়ালা চাইলে আপন হাবীবের প্রতি দৃষ্টিপাত করে তার গুনাহগার উম্মতের উপর রহমত ও দয়া করতে পারেন।যা আমাদের বিশ্বাস যাতে কোনো সন্দেহ নাই। তা ছাড়া রাসুলে পাক (ﷺ) এর নাম শুনে আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মালিশ করা যে মুস্তাহাব তার অসংখ্য দলিল ও প্রমাণাদি রয়েছে। অথচ অনেকে রাসুলের এই মহব্বতের কাজটাকে নাজায়েজ বলে । অথচ তারা জানে না যে, একটা কাজ নাজায়েজ বলার জন্য অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন হয়।আর এই কাজটি নাজায়েজ হওয়ার পক্ষে শরীয়তের কোন দলিল নাই।আর এমন একটি ভালো বা পূণ্যের কাজে কেউ যদি বাধা দেয় ধরে নিতে হবে তার অন্তরে হাবীবে খোদার প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে। বুঝে নিতে হবে সে রাসুলে পাকের শান ও মান সহ্য করতে পারেনা।কুরআনের ভাষায় তাদের অন্তরে বক্রতা , কপটতা , নিপাকতি রয়েছে। আমরা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাব যারা না বুঝে এরকম ভালো কাজে মানুষকে বাধা দেয় আল্লাহ যেন তাদের বুঝার তাওফিক দান করেন। (আমিন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here