বিষয়-ফিতরার ১৬টি মাদানী ফুল: [গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা সম্বলিত]

0
5
views

ফিতরার ১৬টি মাদানী ফুল:
[গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা সম্বলিত]

﴾১﴿ সদকায়ে ফিতর ঐসকল মুসলমান পুরুষ ও নারীর উপর ওয়াজিব, যারা “ নিসাবের অধিকারী ” এবং তাদের নিসাব “ হাজতে আসলিয়্যা ” (জীবনের মৌলিক চাহিদা যেমন; অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি) এর অতিরিক্ত হয়। (আলমগীরী থেকে সংক্ষেপিত, ১ম খন্ড, ১৯১ পৃষ্ঠা)

﴾২﴿ যার নিকট সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রূপা কিংবা সাড়ে ৫২ ভরি রূপার সমমূল্য টাকা বা এতাে টাকা মূল্যের ব্যবসায়ীক পণ্য থাকে (আর এ সবই জীবনের মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত হয়) অথবা এতাে টাকা মূল্যের জীবনের মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত মালপত্র থাকে, তাকে “ নিসাবের অধিকারী ” বলা হয়। ”

(নিসাবের অধিকারী, ধনী, ফকির ও হাজতে আসলিয়্যাহ ইত্যাদি পরিভাষার বিস্তারিত বিবরণ হানাফী ফিকাহ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘বাহারে শরীয়াত’ ৫ম অধ্যায়ে দেখুন।)

﴾৩﴿ সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য “ বুদ্ধিমান ও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া শর্ত নয়। বরং শিশু কিংবা পাগলও যদি নিসাবের মালিক হয়, তবে তাদের সম্পদ থেকে তাদের অভিভাবক পরিশােধ করবে। (রদুল মুহতার: ৩য় খন্ড, ৩৬৫ পৃষ্ঠা)

সদকায়ে ফিতরের জন্য নিসাবের পরিমাণ তাে হচ্ছে যাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে যে, সদকায়ে ফিতরের জন্য সম্পদ বর্ধনশীল হওয়া ও বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। অনুরূপভাবে যে সমস্ত বস্তু প্রয়ােজনের অতিরিক্ত (যেমন; প্রয়ােজনের অতিরিক্ত পােষাক, না সিলানাে কাপড়, ঘরের আসবাবপত্র ইত্যাদি) এবং এর মূল্য নিসাব পরিমাণ পৌঁছায়, তবে সে সমস্ত বস্তুর কারণে সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে। (ওয়াকারুল ফাতাওয়া: ২য় খন্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

﴾৪﴿ নিসাবের অধিকারী পুরুষের উপর নিজের পক্ষ থেকে, নিজের ছােট শিশুদের পক্ষ থেকে আর যদি কোন উন্মাদ (পাগল) সন্তান থাকে (ঐ পাগল সন্তানটি প্রাপ্ত বয়স্কই হােক না কেন) তার পক্ষ থেকেও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব, অবশ্য ঐ শিশু বা পাগল যদি নিজেই নিসাবের অধিকারী হয়, তবে তার সম্পদ থেকে ফিতরা পরিশােধ করবে। (আলমগীরী: ১ম খন্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা)

﴾৫﴿ পুরুষ নিসাবের অধিকারীর উপর তার স্ত্রী কিংবা মাতাপিতা অথবা ছােট ভাইবােন ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের ফিতরা ওয়াজিব নয়। (প্রাগুক্ত, ১৯৩ পৃষ্ঠা)

﴾৬﴿ পিতা না থাকলে দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ আপন গরীব ও এতিম নাতি-নাতনির পক্ষ থেকে তার উপর সদকায়ে ফিতর দেয়া ওয়াজিব। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা)

﴾৭﴿ মায়ের উপর তার ছােট শিশুর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর দেয়া ওয়াজিব নয়। (রদুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা)

﴾৮﴿ পিতার উপর তার সজ্ঞান ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সদকায়ে ফিতর দেয়া ওয়াজিব নয়। (রদ্দুল মুহতার সম্বলিত দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ৩৭০ পৃষ্ঠা)

﴾৯﴿ কোন শরয়ী অপারগতার কারণে রােযা রাখতে পারলােনা বা আল্লাহর পানাহ! কোন অপারগতা ছাড়াই রমযানুল মােবারকের রােযা রাখলাে না, তার উপরও নিসাবের অধিকারী হওয়ার অবস্থায় সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। (রদুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা)

﴾১০﴿ স্ত্রী বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান, যাদের ভরণপােষণ ইত্যাদি যে ব্যক্তির দায়িত্বে রয়েছে, সে যদি তাদের অনুমতি ব্যতিত তাদের ফিতরা পরিশােধ করে দেয়, তবে আদায় হয়ে যাবে। হ্যাঁ যদি ভরণপােষণ তার দায়িত্বে না থাকে, যেমন; প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বিয়ে করে আলাদা ঘরে বসবাস করে এবং নিজের ব্যয় নিজেই বহন করে, তবে তার ভরণপােষণের দায়িত্ব তার নিজের দায়িত্বেই হয়ে গেলাে। সুতরাং এমন সন্তানের পক্ষ থেকে তার অনুমতি ছাড়া ফিতরা দিলে তা আদায় হবে না।

﴾১১﴿ স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া যদি ফিতরা পরিশােধ করে দেয়, তবে আদায় হবে না। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩৯৮ পৃষ্ঠা)

﴾১২﴿ ঈদুল ফিতরের সুবহে সাদিকের সময় যে নিসাবের অধিকারী ছিলাে, তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব, যদি সুবহে সাদিকের পর নিসাবের অধিকারী হয়, তবে ওয়াজিব নয়। (আলমগীরী থেকে সংক্ষেপিত, ১ম খন্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা)

﴾১৩﴿ সদকায়ে ফিতর আদায় করার উত্তম সময় হচ্ছে, ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পর থেকে ঈদের নামায আদায় করার পূর্বে আদায় করা, যদি চাঁদ রাত কিংবা রমযানুল মােবারকের যেকোন দিন বরং রমযান শরীফের পূর্বেও যদি কেউ আদায় করে দেয়, তবুও ফিতরা আদায় হয়ে যাবে এবং এরূপ করা একেবারে জায়িয। (প্রাগুক্ত)

﴾১৪﴿ যদি ঈদের দিন অতিবাহিত হয়ে যায় এবং ফিতরা আদায় করেনি, তবুও ফিতরা রহিত হয়ে যাবে না; বরং সারা জীবনে যখনই পরিশােধ করবে, তা আদায় হবে। (প্রাগুক্ত)

﴾১৫﴿ সদকায়ে ফিতর নেয়ার উপযুক্ত সেই, যে যাকাত নেয়ার উপযুক্ত। অর্থাৎ যাকে যাকাত দেয়া যাবে, তাকে ফিতরাও দেয়া যাবে এবং যাকে যাকাত দেয়া যাবে না তাকে ফিতরাও দেয়া যাবে না। (প্রাগুক্ত, ১৯৪ পৃষ্ঠা)

﴾১৬﴿সৈয়দ বংশীয়দেরকে সদকায়ে ফিতর দেয়া যাবে না। কেননা তারা হচ্ছে বণী হাশিম গােত্রের। ‘বাহারে শরীয়াত’ ১ম খন্ডের ৯৩১ পৃষ্ঠায় রয়েছে: “ বনী হাশিমদেরকে যাকাত (ফিতরা) দেয়া যাবে না। অন্য কেউ তাদের দিতে পারবে না, এক হাশেমী অপর হাশেমীকেও দিতে পারবে না। বনী হাশিম দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, হযরত আলী, জাফর, আকিল এবং হযরত আব্বাস ও হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here