বিষয়ঃঃ-হাদিসের আলোকে দলীল নবী-বংশের মর্যাদা

0
6
views

হাদিস-১ঃ

أخرج سعید بن منصور في سننه عن سعید بن جبیر رضی الله عنه في قوله تعالى: (قل لآ أسئلكم عليه أجرا إلا ألمودة في القربي) قال: قربی رسول الله صلى الله عليه وسلم.

হাদীছ নং- ০১:
হযরত সাঈদ ইবনে মনসুর তাঁর সুনান এ বর্ণনা করেছেন হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে, তিনি আল্লাহ তা’আলার বাণী قليلة لآأسئلکم علیه أجراها إلا المودة فی القربی (টীকা) অর্থাৎ, হে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি বলে দিন, (নবুয়তি দায়িত্ব পালনে আমার পরিশ্রমের) জন্য আমি তােমাদের থেকে কোন বিনিময় চাইনা, শুধু আমার নিকটাত্মীয়দের ভালবাসা ব্যতিত। সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি (হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বলেন, القربی বা নৈকট্য প্রাপ্তরা হচ্ছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আত্মীয়।

টীকা:

সূরা আশ শূরা, আয়াত ২৩।

১.বর্ণনাসূত্র:

১. জামেউল বয়ান- তাবারী -১১:১৪৪।
২. যাখায়েরুল উকবা, মুহীব্বুত তাবারী- পৃষ্ঠা: ৩
৩. অনুরূপ দাবি করেছেন- ইবনুসসির।
৪. আদদুররুল মনছুর, লিখক- জালালুদ্দীন সুয়ুতী, ৫: ৭০১।
৫. বুখারীতেও অনুরূপ রয়েছে।
তবে তিনি তাতে আরাে বৃদ্ধি করেছেন যে,

(فقال ابن عباس رضي الله عنهما عملت إن النبيﷺ لم يكن بطن من قريش الا كان له فيهم فرابة، فقال: إلا أن تصلوا مابيني وبينكم من القرابة)

অর্থাৎ: (হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইরের এ কথা শুনে) হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু বলেন, তুমি তাড়াতাড়ি করে ফেললে। কেননা, কুরাইশের কোন শাখা ছিলনা যেখানে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তা ছিলনা। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমার এবং তােমাদের মধ্যে যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে তার ভিত্তিতে তােমরা আমার সঙ্গে আত্মীয়তাসূলভ আচরণ কর। তাই আমি তােমাদের থেকে কামনা করি। আর লিখক (আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ) আদদুররুল মনছুরে এ হাদীসের একটি অনুসন্ধানী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং বিস্তারিত জানার জন্য তা দেখা যেতে পারে)।

হাদিস-২ঃ

أخرج ابن المنذر، وابن ابی حاتم وابن مردويه في تفاسيرهم، والطبراني في المعجم الكبير عن ابن عباس رضي الله عنهما، لما نزلت هذه الآية: (قل لآ أسئلكم عليه أجرا إلا المودة فی القربی) قالوا: يا رسول الله من قرابتك هؤلاء الذين وجبت مودتهم؟ قال صلى الله عليه وسلم: علی، وفاطمة، وولداهما؛

ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে মারদাওইয়্যাহ প্রমূখ তাফসীর কারকগণ আপন আপন তাফসিরের কিতাবে এবং ইমাম তাবরানী ‘আল মু’জামুল কাবীর’-এ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, যখন (টীকা) قل لآ أسئلکم علیه أجراإلا المودةفی القربی; আয়াতটি নাযিল হয় তখন সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার ঐসব নিকটত্মীয় কারা, যাদেরকে ভালবাসা আমাদের ওপর আবশ্যক? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে ইরশাদ করলেন, (তারা হল) আলী, ফাতিমা এবং তাদের দু’সন্তান।

টীকা:

সূরা আশ শূরা, আয়াত ২৩। অনুবাদ ১ নং হাদীছ দ্র.।

বর্ণনাসূত্র:

১. আল জামে’ লি আহকামিল কুরআন (তাফসীরে কুরতবী)- ইমাম কুরতুবী – ৮:২১।
২. তাফসীরে কাবীর- ফকরুদ্দীন রাজী ২৭:১৬৬।
৩. আল মু’জামুল কাবীর- ইমাম তাবরানী-৩: ৪৭ (২৬৪১)/১১: ৩৫১ (১২২৫৯)।
৪. মাজমাউজ জাওয়ায়েদ আল হায়ছামী ৯:১৬৮/৭:১০৩।
৫. আদ দুররুল মনছুর- লিখক (জালালুদ্দীন সুয়ূতী) – ৫:৭০১।

হাদিস-৩ঃ

أخرج ابن ابی حاتم، عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى(ومن يقترف حسنة)
قال: المودةلآلمحمدﷺ.

হাদীছটি ইবনে আবি হাতেম, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহ তা’আলার বাণী (টীকা) ومن یقتر فكانت حسنة; অর্থ এর ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে حسنة বা কল্যাণকর কাজ অর্থ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গের প্রতি ভালবাসা পােষণ করা।

টীকা:

ذلك الذي يشر الله عباده الذين امنوا وعملوا الصالحات قل لا اسئلکم علیه اجرا الا المودة في القربي ومن يقترف حسنة فزاد له فيها حسنا ان الله غفور شکور

অর্থ: এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তাঁর সেসব বান্দাকে, যারা ঈমান আনয়ন করে এবং সৎকাজ করে। হে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি বলে দিন, আমি আমার দাওয়াতের জন্য তােমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না, আমার নিকটতাত্মীয়দের ভালবাসা ব্যতিত। আর যে কেউ কোন ভাল কাজ করে, আমি তার জন্য তাকে সওয়াব বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী। সূরা আশ-শুরা, আয়াত : ২৩।

বর্ণনাসূত্র:

১. আল জামে’লি আহকামিল কুরআন- ইমাম কুরতুবী: ৮:২৪।
২. জাওয়াহেরুল ইকদিয়্যিন- আস সামহুদী ২:১৩
৩. আযযুররিয়্যাতুত-তাহেরা- আদ-দুলারি পৃ. ৭৪, হাদীছ নং ১২১ (হাসান ইবনে আলী (রা.) এর বর্ণনায়)।
৪, আদদুররুল মনছুর- জালালুদ্দীন সুয়ূতী – ৫:৭০১।

হাদিস-৪ঃ

أخرج أحمد، والترمذي وصححه، والنسائی، والحاکم عن المطلب بن ربيعة رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (والله لا يدخل قلب امریء مسلم إيمان، حتى يحبكم للهولقرابتی)

ইমাম আহমদ, ইমাম তিরমিজী (তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) ইমাম নাসায়ী এবং হাকেম প্রমূখ হযরত মুত্তালিব ইবনে রাবীয়াহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহর শপথ! ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মুসলিমের ক্বলবে ঈমান প্রবেশ করবেনা, যতক্ষন সে তােমাদেরকে আল্লাহ ও আমার নিকটাত্মীয়দের কারণে (ওয়াস্তে) ভালবাসবেনা।

বর্ণনাসূত্র:

১. মুসনাদ এ ইমাম আহমদ ১:৩৪২ (১৭৮০)/৫:১৭২ (১৭০৬১)।
২. তিরমীজি- ৫: ৬১০ (৩৭৫৮)।
৩. নাসায়ী-৫:৫১ (৮১৭৫)।
৪, আল মুসতাদরিক- ৪:৮৫:৬৯৬০।

হাদিস-৫ঃ

أخرج مسلم، والترمذي، والنسائي عن زيد بن أرقم رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أذكركم الله في أهل بیتی

ইমাম মুসলিম, তিরমিজী ও নাসায়ী প্রমূখ হযরত ইয়াজিদ ইবনে আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি তােমাদেরকে আমার আহলে বায়তের (হক্বের) ব্যাপারে আল্লাহর (আদেশের) কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

বর্ণনাসূত্র:

১. জামেউল বয়ান- তাবারী -১১:১৪৪।
২. যাবায়েরুল উকবা, মুহব্বত তাবারী- পৃষ্ঠা: ৩
৩. অনুরূপ দাবি করেছেন- ইবনুসসির।
৪. আদদুররুল মনছুর, লিখক জালালুদ্দীন সুয়তী, ৫: ৭০১।
৫. বুখারীতেও অনুরূপ রয়েছে। তবে তিনি তাতে আরাে বৃদ্ধি করেছেন যে,

لم يكن بطن من قريش الا كان له فيهم

فقال ابن عباس رضي الله عنهما عملت إن النبي فرابة، فقال: إلا أن تصلوا مابيني وبينكم من القرابة

অর্থাৎ (হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইরের এ কথা শুনে) হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহ বলেন, তুমি তাড়াতাড়ি করে ফেললে। কেননা, কুরাইশের কোন শাখা ছিলনা যেখানে নবী সাল্লাল্লাহ আহাহ ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তা ছিলনা। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমার এবং তােমাদের মধ্যে যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে তার সিওতে তােমরা আমার সঙ্গে আত্মীয়তাসূলভ আচরণ কর। তাই আমি তােমাদের থেকে কামনা করি। আর লিখক (আল্লামা জালালুদ্দীন সুরুজ (রহ) আদদুররুল মনছুরে এ হাদীসের একটি অনুসনী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং বিস্তারিত জানার জন্য তা দেখা যেতে পারে)।

হাদিস-৬ঃ

أخرجه الترمذي وحسنه، والحاكم عن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني تارك فيكم ما إن تمسكتم به بعدی لن تضلوا: کتاب الله وعترتی أهل بیتی. إنهمالن يتفرقا حتی یردا على الحوض، فانظروا كيف تخلفونی فيهما؛

ইমাম তিরমিজি (তিনি এটিকে হাসান বলেছেন) এবং হাকেম প্রমূখ হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় আমি তােমাদের জন্য এমন কিছু রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তােমরা আমার পরে কখনাে পথভ্রষ্ট হবেনা, (তা হচ্ছে) আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও আমার পরিবার পরিজন। তথা আমার আহলে বায়ত। আর নিশ্চয় এ দুটা (একে অপর থেকে) কখনাে বিচ্ছিন্ন হবেনা, যে পর্যন্ত না তারা আমার কাছে আমার হাউজে কাউছারের নিকট অবতরণ না করে। সুতরাং, আমার পরে তাদের সাথে তােমরা কী আচরণ করছ তা লক্ষ্য রেখ।

বর্ণনাসূত্র:

১. তিরমীজি- ৫:৬২২ (৩৭৮৮)। তিনি এটাকে হাসান গরীবও বলেছেন, আর তাতে لن تضلوا بعدی এর পরে রয়েছে যে, احلهمااعظم منالاخر کاب الله حبل مملود من السماء অর্থাৎ তাদের একটি আরেকটি থেকে মহান। একটি হচ্ছে কিতাবুল্লাহ অপরটি হচ্ছে, আসমান থেকে দীর্ঘ রশি।

২. মুসতাদরিক হাকেম-৩:১৬০ (৪৭১১)। আর তিনি বলেছেন, এই হাদীছটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর শর্তমতে সহীহ সনদ বিশিষ্ট কিন্তু তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আর এ রকম বলেছেন, ইমাম যাহাবী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)।

হাদিস-৭ঃ

أخرج عبد بن حميد في مسنده عن زيد بن ثابت رضی الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني تارك فيكم ما إن تمسكتم به بعدی لن تضلوا: كتاب الله و عترتی أهل بیتی. إنهما لن يتفرقا حتى يردا على الحوض –

আব্দু ইবনে হুমাইদ তার মসনদে হযরত যায়েদ ইবনে ছাবেত রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, “নিশ্চয় আমি তােমাদের জন্য এমন কিছু রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে আমার পরে তােমরা কখনাে পথ ভ্রষ্ট হবেনা। তা হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও আমার পরিবার পরিজন তথা আহলে বায়ত। নিশ্চয় এ দুটো ততক্ষণ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। যতক্ষণ তারা (কুরআন ও আমার আহলে বায়ত) আমার নিকট হাউজে কাউছারে প্রত্যাবর্তন করবে।

বর্ণনাসূত্র:

১. আল মুন্তাখাব-১০৭:২৪০।
২. আল মুসনাদ -৬: ২৩২ (২১০৬৮)/২৪৪ (২১১৪৫)।
৩. মাজমাউজ জাওয়ায়েদ – আল হাইছামি-৯: ১৬২। এতে انی تارک فیکم خلیفتین অর্থাৎ নিশ্চয় আমি তােমাদের জন্য দুটি খলিফা বা প্রতিনিধি রেখে যাচ্ছি উল্লেখ রয়েছে।
অনুরূপভাবে বর্ণনা রয়েছে, ইবনে আবি শাইবার ‘আল মুসান্নাফ এ – ৬:৩১৩ (৩১৬৭০) এবং ইমাম ফাসভীর “মা’রেফাতুত তারিখ”-৯:৫৩৭ -এ।

হাদিস-৮ঃ

أخرج أحمد وأبو يعلى، عن أبي سعيد الخدری رضی الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إنی أوشك أن أدعى فأجيب، وإني تارك فيكم الثقلين كتاب الله و عترتی أهل بیتی. وإن اللطيف الخبير خبرنی، أنهما لن يتفرقا حتى یردا على الحوض، فانظروا كيف تخلفونی فيهما؛

ইমাম আহমদ, আবু ই’য়ালা প্রমূখ হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আমি এটা কামনা করি যে, আমাকে (আল্লাহর পক্ষ হতে) আহ্বান করা হবে আর আমিও সাড়া দেব (ইন্তিকাল করব)। আর নিশ্চয় আমি তােমাদের জন্য দুটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ জিনিস রেখে যাচ্ছি, (তা হচ্ছে) কিতাবুল্লাহ (কুরআন) এবং আমার পরিবার পরিজন তথা আহলে বায়ত। আর সুক্ষ্ম দ্রষ্টা (আল্লাহ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, তারা উভয়ে (কুরআন এবং আমার আহলে বায়ত) কখনাে পৃথক হবেনা যতক্ষণ না উভয়ে আমার নিকট হাউজে কাউছারের নিকট মিলিত হয়। সুতরাং আমার পরে তােমরা তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করছ তা লক্ষ্য রেখ।

বর্ণনাসূত্র:

১. আল মুসনাদ- ৩: ৩৯৩ (১০৭৪৭)।
২. আবু ইয়ালা-২:৬ (১০১৭)/ ৯:(১০২৩)/ ৪৭:(১১৩৫)।

হাদিস-৯ঃ

أخرج الترمذي وحسنه، والطبراني عن ابن عباس رضی الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحبوا الله لما يغذوكم به من نعمه، وأحبونی لحب الله، وأحبوا أهل بیتی لحبی۔

ইমাম তিরমিজী (তিনি হাদীছটিকে হাসান বলেছেন) ও ইমাম তাবরানী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তা’আলা তার নেয়ামতরাজি দ্বারা তােমাদেরকে যেভাবে পানাহার করান তার জন্য তাকে ভালবাস। আর আল্লাহর ভালবাসা পেতে আমাকে ভালবাস, আর আমার ভালবাসা পেতে আমার পরিবার-পরিজনকে ভালবাস।

বর্ণনাসূত্র:

১. তিরমীজি- ৫:৬৩৩ (৩৭৮৯), আর তিনি বলেছেন, হাদীছটি হাসান গরীব।
২. আল মুজামুল কবীর-ইমাম তাবরানী-৩:৪৬ (২৬৩৮)।
৩. আল মুসতাদরিক- ইমাম হাকেম- ৩: ১৬২ (৪৭১৬), আর তিনি বলেছেন, হাদীছটি সনদের দিক দিয়ে সহীহ, তবে তারা হাদীছটি বর্ণনা করেননি।
অনুরূপ বলেছেন, ইমাম যাহাবী এবং ইমাম বায়হাকী তার শুয়াবুল ঈমানে (২:১৩০/১৩৭৮)।

হাদিস-১০ঃ

أخرج البخاري عن ابي بكر الصديق رضي الله عنه:قال: “ارقبوا محمدا صلى الله عليه وسلم في أهل بيته .

ইমাম বুখারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি (হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বলেন, তােমরা হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান রক্ষা করবে তার পরিবারবর্গকে সম্মান করার মাধ্যমে।

বর্ণনাসূত্র:

১. বুখারী, বাবু মানাকিবি কারাবাতি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ইমাম আবু আব্দিল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী – ৩:২৫ (৩৭১৩)/ বাবু মানাক্বিবিল হাসান ওয়াল হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা) – ৩২:(৩৭৫১)।
২. ইমাম সামহুদী তার জাওয়াহেরুল ইকদিয়্যীন -২:৩১১।
৩, দারু কুত্বনী – বিভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে কোন কোন বর্ণনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে এসেছে। তিনি (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বলেছেন, ارقبوا محمداﷺفی اهل بیته অর্থ, ‘তােমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গের মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখাবে। অপর বর্ণনায় ارقبوا এর স্থলে اخفظوا (তােমরা সংরক্ষণ করবে) আছে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here