বিষয়ঃ- জশনে জুলুসে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (ﷺ)’’র গুরুত্ব

0
5
views

‘‘বালাগাল উলা বিকামালিহী, কাশাফাদ দোজা বি-জামালিহী,
হাসানাতজমি ওয়া খিছালিহী, সাল্লু আলায়হি ওয়াআলিহী।’’
বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত ইমামূল আম্বিয়া রাহমাতুল্লিল আলামিন নুরনবী আক্বা ও মাওলা হযরত আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা (ﷺ)’ ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল ‘ফজল’ ও ‘রহমত’ হিসেবে এ নশ্বর পৃথিবীতে শুভাগমন করেন। ‘আইয়্যামে জাহেলিয়া’র সে যুগে উদ্ভাসিত আলোকবর্তিকার শুভাগমন। বিশ্ব মুসলিমের নিকট অবিস্মরণীয়, ঈমানী চেতনা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে উদ্ভাসিত, চতুর্দশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ, আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান ফাজেলে বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, প্রিয় নবী যখন অস্তিত্বে ছিলেন না, তখন মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। হুযূর করিম (ﷺ)’ তো সমগ্র জাহানেরই প্রাণ, জান থাকলেই তো সমগ্র জাহান অস্তিত্বশীল থাকবে।’’ এজন্যে হাদীসে ‘কুদসীতে বলা হয়েছে ‘‘লওলাকা লামা খালাক্বতুল আফলাক’ অর্থাৎ হে হাবীব, ((ﷺ)’) আপনি যদি না হতেন নিশ্চয়ই আমি আসমান জমিন সৃষ্টি করতাম না। কাজেই এ বিশ্বে প্রিয়নবী (ﷺ)’-এর শুভাগমনের দিন খুশী উদ্যাপন করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। শরীয়তসম্মত পন্থায় আনন্দ উৎসব আয়োজন করা সর্বোত্তম পূণ্যের কাজ। আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, ‘‘কুল বি ফাদ্বলিল্লাহি ওয়া বি-রাহমাতিহী- ফাবিযালিকা ফাল ইয়াফরাহূ হুয়া খায়রুম মিম্মা ইয়াজমাউন’’ অর্থাৎ হে হাবীব (ﷺ)’ আপনি মুমিনদেরকে বলে দিন আল্লাহর পক্ষ হতে অনুগ্রহ ও রহমত অর্জিত হলে তারা যেন এজন্যে খুশী উদ্যাপন করে। আর এ খুশী উদ্যাপন করা তাদের সমুদয় পূণ্যকাজ থেকেও অতি উত্তম।’ সুবহানাল্লাহ্!।

এদিন নবী প্রেমিকরা মিলাদ মাহফিল, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা দান-খয়রাত যিকির আযকার, দোয়া-দরূদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, নাতখানি, ফাতেহাখানি আয়োজন করে থাকে। এ সকল অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা, ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)’ উদ্যাপন করে আসছে নবী প্রেমিকরা। অনন্তকাল ধরে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

‘জশনে জুলুছ’র ‘জশন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশী/উৎসব, ‘জুলুছ’ শব্দটি জলসা শব্দের বহুবচন, অর্থ বসা বা উপবেশন। নামাজ আল্লাহর যিকিরের জলসা। একইস্থানে দাঁড়িয়ে/বসে সম্পন্ন করা হয়। ‘হজ্ব’ হলো আল্লাহর যিকিরের ‘জুলুছ’ যা এক বৈঠকে সম্পন্ন করা যায় না। পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তাবুতে সকীনা ফিরিশতাগণ জুলুছ সহকারে নিয়ে এসেছিলেন। ‘মিলাদুন্নবী’র অর্থ হলো নূরনবীর জন্মবৃত্তান্ত ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর আলোচনা। সুতরাং ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (ﷺ)’ উপলক্ষে মিছিল সহকারে আনন্দ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত অনুষ্ঠান। প্রিয়নবীর প্রতি আন্তরিক মুহাব্বতের বহিঃপ্রকাশের উত্তম ব্যবস্থা। সহীহ্ মুসলিম শরীফের ২য় খণ্ডের ‘হাদীসুল হিজরত’ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, হুজুর পাক (ﷺ)’ যখন মক্কা শরীফে প্রবেশ করলেন, তখন মদীনাবাসী রাস্তায় বাড়ির ছাদে আরোহণ করে প্রিয় নবীকে খোশ আমদেদ জানান। সকলেই শ্লোগান দিতে দিতে মিছিল সহকারে পথ পরিক্রমন করেন। সেদিন আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল।
‘‘তালাআল বদরু আলাইনা
মিন ছানিয়াতিল ওয়াদায়ি
ওয়াজাবাশ্ শুকরু আলাইনা
মাদা‘আ লিল্লাহি দায়ি।’’
 
এ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় সাহাবায়ে কেরাম হুজুর পাক (ﷺ)’-এর শুভাগমনে জুলুছ আকারে ইয়া রাছুলাল্লাহ্ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলেছিলেন। এজন্য নবীপ্রেমিক মুসলমানগণ সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ করে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (ﷺ)’ এর খুশীতে বিভোর হয়ে মিছিল সহকারে আনন্দ উদ্যাপন করে থাকে এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ্, সালাত-সালাম ও নবী প্রশস্তিÍমূলক নানা কসিদা, কবিতা, না’ত, হামদ এর সুরলহরীতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে জুলুছ (মিছিল) করে আনন্দ খুশী প্রকাশ করা হয়, যা নিন্মের আয়াতে করীমার নির্দেশ মোতাবেক উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআন শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে। ‘‘কুল বিফাদ্বলিল্লাহি ওয়া বি রাহমাতিহী ফা-বিযালিকা ফালইয়াফরাহু’’ অর্থাৎ- ‘‘হে নবী আপনি উম্মতকে বলে দিন, আল্লাহর ফজল এবং তার রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন খুশী উদ্যাপন করে।’’ আমাদের প্রিয় নবী আল্লাহর ফজল তথা অনুগ্রহ এবং রহমত উভয়ই। কেননা কুরআন পাকে রয়েছে, লাক্বাদ মান্নাল্লাহু আলাল মুমিনীনা ইয বাআসা ফিহিম রাছুলা।’’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিনদের ওপর বড়ই অনুগ্রহ বা ফজল করেছেন যে, তাদের মধ্যে একজন সম্মানিত রসূল প্রেরণ করেছেন। অন্য আয়াতে ঘোষিত হয়েছে, ‘‘ওয়ামা আরছালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন।’’ অর্থাৎ হে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম, ‘‘আমি আপনাকে সমগ্র আলমের জন্য রহমত করেই পাঠিয়েছি।’’ উপরোল্লিখিত আয়াতদ্বয় দ্বারা শরীয়তসম্মতভাবে, ‘জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী’ উদ্যাপন করা পবিত্র কুরআন পাকের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। নিঃসন্দেহে এটা বৈধ ও উত্তম। এটা কখনও বিদআত হতে পারে না। কারণ প্রিয় নবী ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উৎকৃষ্ট নিয়মপদ্ধতি বের করবে এর প্রতিদান তার আমলনামায় লেখা হবে, অথচ অনুসরণকারীদেরও সওয়াবের কোন অংশ কম হবে না।[মিশকাত শরীফ] ইসলামের মধ্যে যে প্রচলন বা রীতি কুরআন সুন্নাহ্, ইজমা কিয়াসের পরিপন্থী হবে না তা কখনো নিন্দনীয় বা বিদআত হতে পারে না। [মিরকাত শরীফ]

নবী-ওলী প্রেমিক মুসলমানদের দেশ-দেশান্তরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গগনবিদারী শ্লোগান ‘নারায়ে তাকবীর’ আল্লাহু আকবর, নারায়ে রিসালত, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম, নারায়ে গাউসিয়া-ইয়া গাউসুল আযম দস্তগীর রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর মাধ্যমে বাতিলদের প্রতিহত করতে হবে।
পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে আল্লাহ্ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও প্রিয় মুর্শিদের রেজামন্দি হাসিলে যেন আমরা কামিয়াব হই। আ-মী-ন।
🌹দোয়া প্রার্থী 🌹
মোঃ আব্দুল কাইউম
ঈমাম বালুটুঙ্গী মাঝপাড়া জুম্মা মসজিদ।
বালুটুঙ্গি ,লালগোলা,মুর্শিদাবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here