বিষয়ঃ- জানাজার নামাজ পড়ার পরে দোয়া করার ব্যাপারে কোন হাদিস আছে কি না?

0
97
views

আমাদের দেশের সর্বত্রে একটি রেওয়াজ আছে যে, জানাজার নামাজ শেষ হইয়া যাইবার পরে পরেই কিছু সূরাহ, কিরাত পাঠ করে হাত উঠাইয়া মুর্দার জন্য দুয়া করা হইয়া থাকে। অবশ্য এই দুয়ার সময়ে মানুষ একেবারে পুর্বের ন্যায় দাঁড়াইয়া থাকে না, বরং লাইন ভাঙিয়া যে| যাহার মত পাঁড়াইয়া যায়। নিশ্চয় দুয়া একটি ভাল কাজ। ইহাতে মুর্দার লাভ বই ক্ষতি নাই। এইরূপ একটি হাদীস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠিত কাজকে| সমাজ থেকে উঠাইয়া দেওয়ার চেষ্টা করা নিশ্চয় শয়তানী কাজ হইবে।
আসুন দেখি জানাজার নামাজের পরে দোয়া করার ব্যাপারে কোন হাদিস আছে কি না।

দলীল নং- ১:عن ابي هريرة رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء – অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে ফেলবে তখন সাথে সাথেই (বিলম্ব না করেই) তার জন্য একটি খাস দো’আ কর। এ হাদীস দ্বারা প্রমানিত হল যে, জানাযা নামাযের পর পরই মৃত ব্যক্তির জন্য খাস করে দো’আ করারাসুল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ । জানাযা নামাযের পর দো’আ অস্বীকারকারীগণ এ হাদীসের উল্লেখিত দোয়াকে নামাযের মধ্যে পঠিত দো’আ অথবা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরস্থানে দো’আ করাকে বুঝাতে আপ্রান চেষ্টা চালায়।

উক্ত হাদীস শরীফের ইবারত হল- اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء অর্থাৎ যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে ফেল। অতঃপর তাঁর জন্য খাস করে দো’আ কর। আলোচ্য ইবারতে প্রথমে নামায পড়ার কথা বলা হয়েছে। তার পর দো’আ করার জন্য বলা হয়েছে। তাই উক্ত দোয়াটি নামাযে পঠিত দো’আ হিসেবে গন্য হবেনা। নামাযের পরেই বিলম্ব না করে দো’আ করতে হবে। এবং নামাযের পর দাফন পর্যন্ত বিলম্ব করে তার পরে পঠিত দো’আ হিসেবে ও উক্ত দো’আটি যদি দাফনের পরবর্তী দোআ হিসেবে বুঝানো হত তাহলে হাদীস শরীফের ইবারতেفاء হরফ ব্যবহার না করে ثم(সুম্মা) হরফ ব্যবহার করা হত ”।

তাই বুঝা গেল রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাযা নামাযের পর পরই দোআ করার জন্য আদেশ করেছেন। আর যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ কে পালন করলো তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত কে পালন করল। আর যারা ছেড়ে দিলো তারা সুন্নত কে ছেড়ে দিল।
দলীল নং- ২:عن امامة رضى الله تعالى عنه قال قيل يا رسول الله اي الدعاء اسمع ؟ قال جوف الليل الاخرودبر الصلوات المكتوبات – অর্থাৎ হযরত উমামাহ রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কোন মুহূর্তের দো’আ অধিক কবুল হয়ে থাকে? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন রাতের শেষাংশের দো’আ (তাহাজ্জুদের সময়) এবং ফরয নামায সমূহের পরের দো’আ (দ্রুত কবূল হয়ে থাকে)”। জানাযা যেহেতু ফরযে কেফায়ার নামায তাই এ নামাযের পরে ও দো’আ করা এ হাদীসের ভিত্তিতে জায়েয, যেভাবে পাচঁ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরেও জায়েয।
দলীল নং- ৩: মুতার যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীর জানাযা নামাযের পর কী করলেন তা ইমাম বায়হাক্বী সুন্দর করে সহীহ সনদে এভাবে বর্ননা করেছেন

عن عاصم بن عمر بن قتادة ان النبى صلى الله عليه و سلم قال لما قتل زيد اخذ الراية جعفر بن ابى طالب فجاءه الشيطان فجبب اليه الحياة وكره اليه الموتى ومنه الدنيا فقال الان حين استحلم الايمان فى فلوب المؤمنين تمنينى الدنيا ؟ ثم مضى قدوما حتى استشهد فصلى عليه صلى الله عليه و سلم ودعا له وقال استغفروالاخيكم فانه شاهد دخل الجنة وهو يطير فى الجنة بجناحين من ياقوت حيث يشاء من الجنة

অর্থাৎ হযরত আসিম বিন উমর বিন কাতদাহ বর্ণনা করেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জানাযার নামায পড়লেন এবং তাঁর জন্য দোআ করলেন তারপর বললেন তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার কর, নিশ্চয়ই সে এখন শহীদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছে এবং ইয়াকুত ডানায় ভর করে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়াচ্ছেন ”।
দলীল নং- ৪: বর্নিত হয়েছে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা জানাযার নামায শেষ করলেন। এরপর হযরত ওমর ফারুক উপস্থিত হলেন তাঁর সাথে কিছু লোক ও ছিল। তিনি দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়তে চাইলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বললেন জানাযার নামায দ্বিতীয় বার পড়া যায়না ولكن ادع للميت و استغفر له তবে তুমি মৃত ব্যক্তির জন্য দোআ করতে পার এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো”।
সুতরাং উপরোক্ত দলিলাদির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম জানাযা নামাযের পর মৃত ব্যক্তির জন্য তাঁর বিদায় বেলায় মুনাজাত বা দোআ করা একটি উত্তম কাজ।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল কে সঠিকটা বুঝায় এবং সঠিক বুঝে আমল করার তৌফিক দান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here