বিষয়ঃ- মুমিনকাকে_বলে

0
16
views

মুমিনকাকে_বলে ?

আমরা কোন মানুষকে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, দান-সদকা, তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি আমলগুলো করতে দেখলে তাকে মুমিন মুসলমান মনে করে থাকি। কিন্তু কথা হচ্ছে, এসব আমল দিয়ে কী মুমিন মুসলমান চিহ্নিত করা যায় ?

এমন কাজ যদি হয় মুমিনের সংজ্ঞা, তাহলে অনেক কুখ্যাত ব্যক্তি ও মুনাফিকরা মুমিন মুসলমান হওয়ার দৌড়ে সবার আগে এগিয়ে থাকবেন।

অথচ তাদের বাহ্যিকভাবে এসব আমল সবই ছিল এবং আছে কিন্তু শুধু নেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা।

এখন অনেকেই (সুন্নী ভাইয়েরা) বলবেন, ভাই! তারা শুধু রাসূল (ﷺ)-কে ভালোবাসে না কিন্তু মহান আল্লাহকে ভালোবাসে!!

অর্থাৎ সেসব ভাইয়েরা বুঝাতে চাইছেন যে, তারা (মুনাফিক) আল্লাহকে ভালোবাসে কিন্তু রাসূল (ﷺ)-কে ভালোবাসে না!!!

তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, রাসূল (ﷺ)-কে ভালো না বাসলে আল্লাহকে কিভাবে ভালোবাসা হয় ???

আপনার সন্তানকে থাপ্পর মেরে আপনাকে সালাম দেওয়া যেমন না দেওয়ার মতন, রাসূল (ﷺ)-কে ভালো না বেসে আল্লাহকে ভালোবাসাও ঠিক তেমন।

মুমিনের পরিচয় মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে দিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, (হে রাসূল আপনি) বলুন! তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় করো এবং তোমাদের বাসস্থান যাকে তোমরা পছন্দ করো, আল্লাহ তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।

{রেফারেন্স: সূরা: তওবা, আয়াত: নং ২৪}

এই আয়াত অনুযায়ী পৃথিবীর যত কিছুকে আমরা ভালোবাসি সবকিছু থেকে আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (ﷺ) আমাদের কাছে যদি অধিক প্রিয় না হন, তবে আমাদের ঈমান ও আমল আল্লাহ পাকের দরবারে গ্রহণযোগ্য কখনোই হবে না।

তাই আল্লাহ তায়ালাকে যেভাবে ভালোবাসতে হবে তেমনি প্রিয় রাসূল (ﷺ)-কেও আমাদের ভালোবাসতে হবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন, নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের প্রাণের অপেক্ষা অধিক প্রিয়।

{রেফারেন্স: সূরা: আহজাব, আয়াত: নং ৬}

এই আয়াতে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন যে, দুনিয়ার সকল মানুষ ও সকল সহায়-সম্পদ থেকে রাসূল (ﷺ) অধিক প্রিয় না হলে আমাদের ঈমান পরিপূর্ণ হবে না, আমরা সত্তিকারের মুমিন হতে পারবো না, তাই আমাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় রাসূল (ﷺ)-কে জানতে হবে।

যেমনটি প্রিয় রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, সেই মহান স্বত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি তাদের কাছে তাদের নিজেদের প্রাণ, সম্পদ, সন্তান ও সকল মানুষ থেকে অধিক প্রিয় না হবো।

{রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ নং-৮ রাসূল কে ভালোবাসা ঈমানের অংশ, হা নং ১৩-১৪}

অতএব, প্রকৃত মুমিন তাঁরা যাঁদের হৃদয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর ভালোবাসাতে কোন ঘাটতি নেই।

হৃদয় নামক শব্দটি মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ভালোবাসতে।

_উল্লেখ্য আমি একথা বলছি না যে, আমলের কোন প্রয়োজন নেই, আমলের প্রয়োজন অবশ্যই আছে কিন্তু তা কাজে তখনই আসবে যখন হৃদয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) থাকবেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জানার ও মানার তৌফিক দান করুন।

!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here