বিষয়ঃ- শবে বরাতে হালুয়া রান্না করা কি জরুরী

0
7
views

শবে বরাতের হালুয়া রান্না করে

শবে বরাতের হালুয়া রান্না করা না জরুরী , না-জায়েয এর কিছুই নয়।বরং, প্রকৃত কথা হচ্ছে যে, শবে বরাতের মধ্যে অন্যান্য সকল খাবার এর ন্যায় হালুয়া রান্না করাও মুবাহ্ ও জায়েয কাজ।আর যদি তা এই ভালো নিয়্যত এর সাথে হয় যে, একটি উত্তম ও সুস্বাদু খাবার ফকির-মিসকিন এবং নিজ পরিবার পরিজনকে খাওয়ানো হবে তাহলে, এটি একটি সওয়াবের কাজও বটে।

প্রকৃতপক্ষে এই রাতে হালুয়ার প্রচলনটি এরুপ হলো যে, এই পবিত্র ও মহিমান্বিত রাতটি হলো সদকা, খয়রাত, ঈসালে সওয়াব ও আত্বীয়তার বন্ধন রক্ষা করার একটি বিশেষ রাত।

সুতরাং, এমন বিশেষ মুহূর্তে মানুষের স্বভাবগত চাহিদা হচ্ছে যে, এই রাতে কোনো পছন্দনীয় ও সুস্বাদু খাবার রান্না করা হোক। কতিপয় ওলামায়ে কেরামগণ এর দৃষ্টি বুখারী শরীফ এর এই হাদীস শরীফটির দিকে পড়ল যে,

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِیَ اللہُ عَنْهَا قَالَتْ: کاَنَ رَسُوْلُ اللہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْهِ وَ سَلَّمْ یُحِبُّ الْحَلْوَاء وَ الْعَسَل

অনুবাদঃ

হযরত আয়িশাহ্ সিদ্দিকা رضی اللہ تعالي عنها হতে বর্ণিত,তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ্ صلي الله تعالي عليه وآله وسلم হালুয়া (মিষ্টান্ন) ও মধু পছন্দ করতেন।

(সহীহ্ বুখারী শরীফ, কিতাব-উল-আত’আমাতি, অধ্যায় – আল-হালওয়ায়ি ওয়াল-আসালি, খন্ড নং – ০৩, পৃষ্ঠা নং – ৫৩৬, হাদীস নং – ৫৪৩১)

সুতরাং, সেই ওলামায়ে কেরামগণ এই হাদীসের উপর আমল করতঃ উক্ত রাতে হালুয়া রান্না করলেন। পরে ধীরে ধীরে সর্বসাধারণের নিকট এটির চর্চা ও প্রচলন হয়ে গেলো।

যেমনটি হযরত শাহ আব্দুল আযিয মুহাদ্দিস দেহলভী رحمت الله تعالي عليه এর মালফূযাত (উক্তি সমূহ) শরীফে কিছুটা এরুপ রয়েছে যে, ভারতবর্ষে শবে বরাতে রুটি এবং হালুয়াতে ফাতিহাহ্ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে এবং সামারকন্ড ও বুখারায় (তৎকালীন রুশ /রাশিয়া অঞ্চল, বর্তমান উজবেকিস্তান ) কতলমা নামক এক মিষ্টি জাতীয় খাবার এর উপর ফাতিহাহ্ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

তাছাড়া,প্রচলিত হালুয়া সর্বপ্রথম হযরত সায়্যিদুনা উসমান গণী رضي الله تعالي عنه বানিয়ে হুযুর পূর নুর صلي الله تعالي عليه وآله وسلم এর খিদমতে পেশ করেন, যাতে আটা,ঘি ও মধু ছিল এবং হুযুর صلي الله تعالي عليه وآله وسلم তা খুব পছন্দ করেন।

(মির’আত-উল-মানাজিহ্, খন্ড নং – ০৬, পৃষ্ঠা নং – ১৯)
(মিরকাত, খন্ড নং – ০৮, পৃষ্ঠা নং – ২১,হাদীস নং – ৪১৮২)

সুতরাং,শবে বরাতের হালুয়া হোক বা ঈদের সেমাই, মুহর্’রমের খিচুরী হোক বা মালিদাহ্ (ঘি ও চিনিতে চূর্ণ করা রুটি, যা এক ধরণের মিষ্টান্ন) শুধুমাত্র একটি প্রচলিত সংস্কৃতি,রীতিনীতি ও প্রথা এর কারণে মানুষ রান্না করে নিজে খায় অন্যদের খাওয়ায় ও বন্টন করে থাকে।

কেউই এই আক্বীদা পোষন করে না যে, এটি করা ফরয কিংবা সুন্নাত। তাই, এই কাজকে না-জায়েয বলা সঠিক নয়।স্মরণে রাখুন যে,কোনো হালাল জিনিসকে হারাম বলা হচ্ছে আল্লাহ্ এর উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া। যা হচ্ছে একটি নিকৃষ্ট গুনাহ্।

কুর’আন-উল-কারীমে বর্ণিত রয়েছে যে,

قُلْ اَرَءَیْتُمْ مَّاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ لَكُمْ مِّنْ رِّزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِّنْهُ حَرَامًا وَّ حَلٰلًاؕ-قُلْ ٰآللهُ اَذِنَ لَكُمْ اَمْ عَلَى اللّٰهِ تَفْتَرُوْنَ

(পারা নং – ১১,সুরা ইউনুস, আয়াত নং – ৫৯)

অনুবাদঃ

আপনি বলুন,হ্যাঁ, বলোতো, সেটাই, যা আল্লাহ্ তোমাদের জন্য রিযিক অবতরণ করেছেন,তাতে তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকে হারাম ও হালাল স্থির করে নিয়েছো।আপনি বলুন (ওহে নবী), আল্লাহ্ কি তোমাদেরকে সেটার অনুমতি দিয়েছেন,না তোমরা আল্লাহ্ এর প্রতি মিথ্যা রটছো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here