বিষয়- ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাঈন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা

0
38
views

ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাঈন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
হযরাত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু হিজরী ৩য় সনের ১৫ রামজান রাতে মাদীনায়ে তাইয়্যেবায় তার
বিলাদত/জন্ম হয়। হযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম ‘হাসান’
রাখেন এবং জন্মের সপ্তম দিবসে আকীকাহ সম্পন্ন করেন। অতপর আর আদেশ ।
দিলেন হাসানের চুলের ওজন সমপরিমান রৌপ্য সাদকাহ করে দেয়া হোক। যারা নবীজির
চাদরে আবৃত হয়ে উভয় জাহানের শ্রেষ্টত্ব হাসিল করেছেন এবং আহলে বায়ত
নামে ধন্য হয়েছেন তাদেরকে ‘আহলে কা’সা বলা হয়।

হাসান নামকরণ ও নবীজীর মুহাব্বাত

হুয়ুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সাথে কেউই সুরতে বা আকৃতিতে
সাদৃশ্য পায়নি ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতিত। তার পূর্বে পৃথিবীর কারো
নাম হাসান রাখা হয়নি। এ জান্নাতি নামটি সর্বপ্রথম তাকেই দেয়া হয়েছে। হযরত
আসমা বিনতে ওমাইস রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজীর দরবারে ইমাম হাসান মুজতবার
শুভাগমনের সংবাদ পৌছালেন। অতঃপর নবীজী তাশরীফ আনলেন। আর বললেন
হে আসমা। আমার আওলাদকে আমার কাছে নিয়ে এস। হযরত আসমা একটি
কাপড় জড়িয়ে নবীজীর খিদমাতে হাসানকে নিয়ে আসেন। সায়িদে আলম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা তার ডান কানে আযান দিলেন এবং বাম কানে
তাকবীর পড়লেন। অতপর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস
করলেন, এ প্রিয় ফরযন্দের কী নাম রেখেছো? তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর
রাসুল! অনুমতি ছাড়া অগ্ৰিম নাম রাখার মত দুঃসাহস আমার হয়নি। তবে আপনি
যখন জিজ্ঞেস করলেন- তো আমার খেয়ালে যা এসেছে তা হলো- এ
নাম ‘হারব (যুদ্ধ) রাখা যেতে পারে। বাকীটা আপনারই ইচ্ছাধীন। পরিশেষে
হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা তার নাম “হাসান” রাখলেন।

এক বর্ণনায় এইও এসেছে, নবীজী অপেক্ষায় ছিলেন। অতঃপর হযরত জিবরীল
তাশরীফ আনলেন এবং আরয করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার দরবারে
হযরত আলীর মর্যাদা ঠিক তেমন যেমনটা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দরবারে হযরত
হারুনের মর্যাদা সংরক্ষিত ছিলো। যথাযথ হবে এ আউলাদের পাকের নাম
হযরত হারুনের নামানুসারে রাখা। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন তার নাম কী ছিল?
জিবরাইল আরয করলেন হযরত হারুনের নাম ছিল “শাব্বির। প্ৰিয় নবী এবার
বললেন হে জিবরীল। অভিধানে এ শব্দের অর্থ কী? জিবরীল বললেন হাসান
(সুন্দর)। অতঃপর তার নাম ‘হাসান’ রাখা হলো।
বুখারী ও মুসলিম শরীফে হ্যরত বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত আছে- তিনি বলেন, একবার আমি রুহে মুজাসসাম, জানে মুসাওয়ার,
সৈয়দ আলম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামার সাক্ষাৎ লাভ করি। এ সময়
ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু নবীজীর কাঁধ মোবারকে চড়ে আছেন। এমন
হালতে নবীজী দোয়া করছিলেন হে আল্লাহ! আমি হাসানকে ভালোবাসি-অতএব
তুমিও তাকে ভালোবাসো ।
ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার নাবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে।
তাশরীফ রাখলেন। হযরত ইমাম হাসান নবীজির বাহু মুবারকে ছিলেন। এ
অবস্থায় নবীজী একবার উপস্থিত জনতার দিকে আরেকবার ইমাম হাসানের
দিকে তাকাচ্ছিলেন। (রাবি বলেন) আমি নবীজীকে ইরশাদ করতে শুনেছি, এ
হলো আমার ফরযন্দে সাইয়্যেদ। মহান আল্লাহ তার বদৌলতে মুসলমানের দুটো
দলের মাঝে সুলেহ বা মীমাংসা করবেন।
বুখারী শরীফে হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে হুযুরে
পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইরশাদ করেন, হাসান ও হুসাঈন এই
পৃথিবীতে আমার দুটি ফুল।
তিরমিযী শরীফে আছে, নবীজি আলাইহিস সালাম ইরশাদ
করেন, হাসান ও হুসাইন উভয়ে বেহেশতী যুবকদের সরদার।
ইবনে সাদ,ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে
ববর্ণিত , আহলে বায়তের মধ্যে রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সাথে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং অধিক প্রিয় ছিলেন হযরত ইমাম
হাসান ও ইমাম হুসাইন। একবার আমি দেখেছি নবীজী সাজদাহ রত আর সাহিবযাদাগণ গর্দান
মুবারক অথবা পিঠে বসে আছেন। যতক্ষণ না তারা নেমে না আসতেন, ততক্ষণ
পর্যন্ত নবীজীও মাথা মুবারক উঠাতেন না। আমি দেখেছি নবীজী রুকুরত হতেন।
আর প্রিয় দৌহিত্রদের জন্য পাক কদময়কে এত বেশী বিস্তত করে দিতেন।
যাতে তারা সে পথ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন।
নবী দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহ আনহু গুণাবলীর শেষ নেই। জ্ঞান
সম্মান শৌর্যবীর্য, দয়া-দাক্ষিণ্য তপস্যা ও আনুগত্যে ছিলেন তিনি সুউচ্চ। তিনি
দান করতেন অকাতরে। হযরত ইমাম হাসান জনে জনে লাখো দাক্ষিণ্যের দৃষ্টান্ত
স্থাপন করেন।
হযরত হাকেম ওহযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওবাইদ ওমাইর থেকে ববর্ণিত
যে, হযরত ইমাম হাসান। রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঁচশবার পায়ে হেটে হজ
করছেন।
বাহন তার সঙ্গী হবার চেষ্টা করতো কিন্তু ইমাম আলী মকাম’র বিনয়
ইখলাস ও আদবের চাহিদা ছিলো যে, তিনি শুধুমাত্র পায়ে হেটে হজ্বের সফরে
যাবেন। ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাষা ছিলো মাধুর্যপূর্ণ ও সাবলিল।
এমনকি মজলিসে লোকেরা না চায়তো যে, তার। বক্তব্য সমাপ্ত হয়ে যাক।
হযরত ইবনে সা’দ ও হযরত আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জাদআন
রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত করেন, হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু
জীবনে দু’বার আল্লাহ পাকের রাস্তায় নিজের সমস্ত সম্পদ দান করে দিয়েছেন।
তিনবার সমস্ত সম্পদের অর্ধেক দান করার সময় এমন নিখুঁতভাবে ভাগ ।
করেছিলেন যে, নালাঈন শরীফ (জুতা মোবারক) এবং মোজা থেকেও একটি
একটি করে দিয়ে দিতেন এবং একটি করে নিজের কাছে রেখে দিতেন।
সহনশীলতা
হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সহনশীলতার অবস্থা এমন ছিল
খুব
যে, তার ওফাতের পর সেই সহনশীলতার কথা স্মরণ করে ‘মারওয়ান’ কান্না
করেছিলো (ইবনে আসাকির)। হযরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে
বললেন, হে মারওয়ান! আজতো তুমি কান্না করছ। অথচ তার জীবদ্দশায় তার
সাথে কতোইনা মন্দ আচরন করেছো! তখন মারওয়ান পাহাড়ের দিকে ইশারাহ
করে বলতে লাগলো, আমি পাহাড়ের চেয়েও অধিক সহনশীল ব্যক্তির সাথে এমন
আচরণ করতাম। আল্লাহু আকবর। হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর
সহনশীলতার কথা মারওয়ান পর্যন্ত স্বীকার করেছে। তার উদারতা-সহনশীলতা
ছিলো পাহাড়ের চেয়ে অধিক উচ্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here