বিষয়-দশ দিনের আমল

0
30
views

দশ দিনের আমল

জিলহজের প্রথম দশ রাত তার অন্যতম। মুমিন বান্দার কাছে জিলহজের প্রথম দশ রাতের রয়েছে গুরুত্ব মাহাত্ম্য তাৎপর্য ফজিলত ও করণীয় আমল। মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার সামনে এই দশ রাতের গুরুত্ব আর তাৎপর্য বুঝাতে দশ রাতের নামে শপথ করেছেন। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

শপথ ফজর কালের এবং দশ রাতের। শপথ জোড় ও বেজোড়ের। সুরা ফাজর: ১-৩

সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা. আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,

যে দশ রাতের শপথ করা হয়েছে তা জিলহজের প্রথম দশ রাত। এ রাত সমূহকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। কোন কোন মুফাসসির ফজর বলতে জিলহজের দশ তারিখের ফজর বুঝিয়েছেন এবং জোড় বলতে দশ জিলহজ ও বেজোড় বলতে নয় জিলহজ আরাফার দিন বুঝিয়েছেন।

মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে অতি প্রিয় জিলহজের প্রথম দশ দিন। প্রিয় এই দিনগুলোর ইবাদত। প্রিয় ইবাদতকারি বান্দা। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,

আল্লাহ তায়ালার কাছে জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল সবচে প্রিয়। বুখারি শরিফ: ৯৬৯

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রাদিয়াল্লাহু আনহু . বর্ণনা করেন,রাসুলে কারীম ইরশাদ করেন,

আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচে মহৎ দিন কুরবানির দিন।

হাফেজ ইবনে হাজার র. এর তাৎপর্য বলেন, এই দিনগুলোতে সকল ইবাদাতের সমাবেশ ঘটে। যেমন: নামাজ রোজা হজ সদকা, যা অন্য সময়ে সম্ভব নয়।

এই ফজিলতপূর্ণ দশ দিন বান্দা কাটাবে ইবাদাতে। কাটাবে জিকির আজকার ও তেলাওয়াতে। হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন,

জিলহজের প্রথম দশ দিনের ইবাদাত আল্লাহ তায়ালার কাছে অন্য দিনের তুলনায় বেশি প্রিয়। প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো। আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো। তিরমিজি শরিফ: ৭৫৮

এই দশ দিনের আমলে আছে বেশি বেশি তাকবির তাহলিল ও আল্লাহ পাকের প্রশংসা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. বলেছেন,

আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দশ দিন থেকে মহৎ দিন এবং প্রিয় আমল আর নেই। তাই তোমরা এই দিনগুলোতে অধিক হারে তাকবির তাহলিল ও তাহমিদ পড়। মুসনাদে আহমদ।

মুমিন বান্দা বিশেষ করে রোজা রাখবে ৯ জিলহজ আরাফার দিন। হজরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. ইরশাদ করেন,

আরাফার দিন রোজা রাখলে আল্লাহ তায়ালা পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। মুসলিম শরিফ: ১৬৬২

শক্তি সামর্থ্য থাকলে এই দিনগুলোতে বায়তুল্লাহর হজ করা। কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন,

মানুষের মাঝে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ। সুরা আল ইমরান: ৯৭

দশ জিলহজ মুমিন বান্দা সামর্থ্য থাকলে পশু কুরবানি করবে। এই কুরবানি ইবরাহীমি সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড়। এবং কুরবানি কর। সুরা কাউসার: ৩

আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহো তা’য়ালা আনহা. বলেন,

কুরবানির দিন বনি আদম এমন কোন কাজ করতে পারেনা যা আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে বেশি প্রিয়। তিরমিজি শরিফ।

হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা. বলেন,

যখন জিলহজ মাসের সূচনা হয় আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে সে যেন চুল নখ ইত্যাদি না কাটে। সুনানে নাসায়ী

জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। মহান শক্তিধর আল্লাহ পাকের কাছে এই প্রার্থনা এই আমলগুলোর মাধ্যমে জান্নাত হয় যেন আমাদের ঠিকানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here