বিষয় :-দুয়া কবুল হওয়ার স্থান

0
24
views

আল্লাহ্‌ পাক যে কোন সময় যে কোন স্থানে বান্দার দুয়া কবুল করে থাকেন,
তার মধ্যে কিছু সময় ও স্থান আছে যে দুয়া অতি তাড়াতাড়ি কবুল হয়,আসুন জেনে নি সেই সময় আর স্থান,
১,আরাফাতের ময়দানে,(হজ্জের সময়)
২,রামজান মাসে!
৩, প্রত্যেক ফরজ নামাজ বাদে,!
৪,কাবা ঘরে,
৫,মসজিদে নাবিবেতে,
৬,সেহরী খাবার সময় ও এফতার করার পুর্ব্বে,
৭,রাত্রের শেষ ভাগে ও তাহুজ্জুদের পরে,

৮,বাইতুল মুকাদ্দেসে, ও জমজম কূপের নিকটে
৯,সাফা মারওয়ার মধ্যবর্ত্তী স্থানে,
১০,কুরআন পরার পর ও যে কন নেক আমলের পর,♦♦দু’আ কবুলের অনুকূল সময়: ( ১ম পর্ব)
কিছু সময় রয়েছে যাতে দুআ কবুল করা হয়। যেমন…
১-আযানের সময় এবং যুদ্ধের ময়দানে যখন মুজাহিদগণ
সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। হাদীসে এসেছে :
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺛﻨﺘﺎﻥ ﻻ ﺗﺮﺩﺍﻥ- ﺃﻭ ﻗﻠﻤﺎ ﺗﺮﺩﺍﻥ – ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻋﻨﺪ
ﺍﻟﻨﺪﺍﺀ ﻭﻋﻨﺪ ﺍﻟﺒﺄﺱ ﺣﻴﻦ ﻳﻠﺤﻢ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺑﻌﻀﺎ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ (
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন : দুটো সময় এমন যাতে দুআ ফেরত দেয়া হয় না
অথবা খুব কম ফেরত দেয়া হয়। আযানের সময়ের দুআ এবং
যখন যুদ্ধের জন্য মুজাহিদগণ শক্রের মুখোমুখি হন। (আবু
দাউদ)
২- আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :
ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻻ ﻳﺮﺩ ﺑﻴﻦ ﺍﻵﺫﺍﻥ ﻭﺍﻹﻗﺎﻣﺔ ﻓﺎﺩﻋﻮﺍ ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ
ﻓﻲ ﺍﻹﺭﻭﺍﺀ ﺑﺮﻗﻢ 244 (
আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দুআ ফেরত দেয়া হয়
না। সুতরাং তোমরা দুআ কর। (তিরমিজী ও আহমদ)
৩- সিজদার মধ্যে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন
ﺃﻗﺮﺏ ﻣﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻌﺒﺪ ﻣﻦ ﺭﺑﻪ ﻭﻫﻮ ﺳﺎﺟﺪ، ﻓﺄﻛﺜﺮﻭﺍ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ . ‏(ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ
ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ 8190 (
বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে
সেজদারত থাকে। সুতরাং তোমরা এ সময় বেশি করে দুআ
কর। (আবু দাউদ ও নাসায়ী)

দু’আ কবুলের অনুকূল সময়: ( ২য় পর্ব)
৪- ফরজ সালাতের শেষে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে
জিজ্ঞেস করা হল :
ﺃﻱ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺃﺳﻤﻊ؟ ﻗﺎﻝ : ﺟﻮﻑ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺍﻵﺧﺮ ﺓﺩﺑﺮ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﻤﻜﺘﻮﺑﺔ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ
ﻭﺣﺴﻨﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ (
কোন দুআ সবচেয়ে বেশি কবুল করা হয়? তিনি বললেন,
শেষ রাতে এবং ফরজ সালাতের শেষে। (তিরমিজী)
৫- জুমআর দিনের শেষ অংশে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺍﺛﻨﺘﺎ ﻋﺸﺮﺓ ﺳﺎﻋﺔ، ﻣﻨﻬﺎ ﺳﺎﻋﺔ ﻻ ﻳﻮﺟﺪ ﻋﺒﺪ ﻣﺴﻠﻢ ﻳﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻬﺎ ﺷﻴﺌﺎ
ﺇﻻ ﺁﺗﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻳﺎﻩ، ﻓﺎﻟﺘﻤﻮﺳﻬﺎ ﺁﺧﺮ ﺳﺎﻋﺔ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﻌﺼﺮ . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ
ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ 8190 (
জুমআর দিন বারটি ঘন্টা। এর মধ্যে এমন একটি সময় আছে,
সে সময় একজন মুসলিম বান্দা যা আল্লাহর কাছে চায়,
তা-ই তিনি দিয়ে দেন। তোমরা সে সময়টি আছরের পর
দিনের দিন অংশে তালাশ কর। (আবু দাউদ, নাসায়ী)
৬- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
রাত এমন একটা সময় যখন প্রত্যেকে তার আপনজনের
সঙ্গে অবস্থান করে। এ সময় একজন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর
সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতর করার সুযোগ গ্রহণ করে থাকে। আর
এটা এমন এক সময় যখন দুআ কবুল করার জন্য আল্লাহর
ঘোষণা রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :
ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻟﺴﺎﻋﺔ ﻻ ﻳﻮﺍﻓﻘﻬﺎ ﺭﺟﻞ ﻣﺴﻠﻢ ، ﻳﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻴﺮﺍ ﻣﻦ ﺃﻣﺮ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭﺍﻵﺧﺮﺓ،
ﺇﻻ ﺃﻋﻄﺎﻩ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺫﻟﻚ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ 75 (
রাতের এমন একটা অংশ আছে যখন মুমিন বান্দা আল্লাহর
কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যা কিছু চায় আল্লাহ তা
দিয়ে দেন। আর এ সময়টা প্রতি রাতে। (মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো
বলেন :
ﻳﻨـﺰﻝ ﺭﺑﻨﺎ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺣﻴﻦ ﻳﺒﻘﻰ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺍﻵﺧﺮ، ﻓﻴﻘﻮﻝ ﻣﻦ
ﻳﺪﻋﻮﻧﻲ ﻓﺄﺳﺘﺠﻴﺐ ﻟـﻪ؟ ﻭﻣﻦ ﻳﺴﺄﻟﻨﻲ ﻓﺄﻋﻄﻴﻪ ؟ ﻭﻣﻦ ﻳﺴﺘﻐﻔﺮﻟﻲ ﻓﺄﻏﻔﺮ ﻟـﻪ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭ ﻣﺴﻠﻢ (
আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতে পৃথিবীর আকাশে
অবতরণ করেন, যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে।
তখন তিনি বলেন : কে আছে আমার কাছে দুআ করবে আমি
কবুল করব? কে আমার কাছে তার যা দরকার প্রার্থনা
করবে আমি তাকে তা দিয়ে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা
প্রার্থনা করবে আমি ক্ষমা কেও দেব।
৭- দুআ ইউনুস দ্বারা প্রার্থনা করলে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :
ﺩﻋﻮﺓ ﺫﻱ ﺍﻟﻨﻮﻥ ﺇﺫ ﺩﻋﺎ ﺑﻬﺎ ﻭﻫﻮ ﻓﻲ ﺑﻄﻦ ﺍﻟﺤﻮﺕ : ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺃﻧﺖ ﺳﺒﺤﺎﻧﻚ ﺇﻧﻲ ﻛﻨﺖ
ﻣﻦ ﺍﻟﻈﺎﻟﻤﻴﻦ، ﻟﻢ ﻳﺪﻉ ﺑﻬﺎ ﺭﺟﻞ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺷﻲﺀ ﻗﻂ ﺇﻻ ﺍﺳﺘﺠﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻪ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ 338 (
মাছওয়ালা (ইউনুস আ.) এর দুআ হল যা সে মাছের পেটে
থাকা অবস্থায় করেছে; লাইলাহা ইল্লা আনতা
ছুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলিমীন। (আপনি ব্যতীত
কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র, সুমহান। আমিই তো
অত্যাচারী। (তিরমিজী)
৮- মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করা
আল-কুরআনুল কারীম ও হাদীসে সকল মুসলিমের জন্য দুআ
করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের
বিভিন্ন স্থানে বিপদগ্রস্ত মুসলিমদের জন্য
দুআ করা
আমাদের দায়িত্ব। হাদীসে এসেছে :
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻘﻮﻝ :
ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﺮﺀ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻷﺧﻴﻪ ﺑﻈﻬﺮ ﺍﻟﻐﻴﺐ ﻣﺴﺘﺠﺎﺑﺔ، ﻋﻨﺪ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻠﻚ ﻣﻮﻛﻞ، ﻛﻠﻤﺎ ﺩﻋﺎ
ﻷﺧﻴﻪ ﺑﺨﻴﺮ، ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻮﻛﻞ ﺑﻪ : ﺁﻣﻴﻦ ﻭﻟﻚ ﺑﻤﺜﻞ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ 2733 (
আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন : মুসলিম ব্যক্তি তার
মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দুআ করলে তা
কবুল করা হয়। দুআকারীর মাথার কাছে একজন
দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা থাকে। যখনই তার ভাইয়ের
জন্য কল্যাণের দুআ করে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা তার
দুআ শুনে আমীন বলতে থাকে এবং বলে তুমি যে কল্যাণের
জন্য দুআ করলে আল্লাহ অনুরূপ কল্যাণ তোমাকেও দান
করুন। (মুসলিম)
এ হাদীস দ্বারা যেমন আমরা দুআ কবুলের বিষয়টি
বুঝেছি, এমনিভাবে অপর মুসলমান ভাইদের জন্য দুআ করার
বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়ার কথা শিখেছি। এতে যার জন্য দুআ
করা হবে তার যেমন কল্যাণ হবে, তেমনি যিনি দুআ
করবেন তিনি লাভবান হবেন দুদিক দিয়ে, প্রথমত তিনি
দুআ করার সওয়াব পাবেন। দ্বিতীয়ত তিনি যা দুআ করবেন
তা নিজের জন্যও লাভ করবেন।
৯- সিয়ামপালনকারী, মুসাফির, মজলুমের দুআ এবং
সন্তানের বিরুদ্ধে মাতা-পিতার দুআ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :
ﺛﻼﺙ ﺩﻋﻮﺍﺕ ﻣﺴﺘﺠﺎﺑﺎﺕ ﻻ ﺷﻚ ﻓﻴﻬﻦ : ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻮﺍﻟﺪ ﻋﻠﻰ ﻭﻟﺪﻩ، ﻭﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﺴﺎﻓﺮ،
ﻭﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﻈﻠﻮﻡ . ‏( ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻲ ﺍﻷﺩﺏ ﺍﻟﻤﻔﺮﺩ ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﺍﺑﻦ
ﻣﺎﺟﺔ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ 3032 (
তিনটি দুআ কবুল হবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই। সন্তানের
বিপক্ষে মাতা-পিতার দুআ, মুসাফিরের দুআ এবং মজলুম
বা অত্যাচারিত ব্যক্তির দুআ। (বুখারী-আল আদাবুল
মুফরাদ, আবু দাউদ, তিরমিজী)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন
মুআজ ইবনু জাবালকে ইয়েমেনে গভর্নর করে পাঠান তখন
তাকে কয়েকটি নির্দেশ দেন। তার একটি ছিল :
ﻭﺍﺗﻖ ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﻈﻠﻮﻡ، ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﺑﻴﻨﻬﺎ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﺠﺎﺏ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭﻣﺴﻠﻢ )
সাবধান থাকবে মজলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির দুআ
হতে। জেনে রেখ! তার দুআ ও আল্লাহর মধ্যে কোনো
অন্তরায় নেই। (বুখারী ও মুসলিম)
মজলুমের বদ দুআ থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে সর্বদা।
এর অর্থ এটা নয় যে, মজলুমকে দুআ করতে দেয়া যাবে না।
বরং রাসূলের বাণীর উদ্দেশ্য হল, কখনো কাউকে
সামান্যতম অত্যাচার করা যাবে না। নিজের কাজ-কর্ম,
কথা দ্বারা কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এটার প্রতি
সতর্ক থাকা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম- এর এ হাদীসের উদ্দেশ্য। যদি আমার দ্বারা
কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সে হবে মজলুম বা
অত্যাচারিত। সে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দুআ
করলে তা অবশ্যই কবুল হবে। এটা ভয় করে চলতে পারলে এ
হাদীস স্বার্থক হবে আমাদের জন্য।♦♦ দু’আ কবুলের অনুকূল অবস্থা: (৩য় পর্ব)
১০- আরাফা দিবসের দুআ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :
ﺧﻴﺮ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻳﻮﻡ ﻋﺮﻓﺔ ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ (
সর্বোত্তম দুআ হল আরাফার দুআ।
জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখে যারা আরফাতে অবস্থান
করেন তাদের দুআ কবুল হয়। এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু সংখ্যক হাদীস দ্বারা
প্রমাণিত।
১১- বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তির দুআ
বিপদগ্রস্ত অসহায় তথা আর্তের দুআ কবুল করা হয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন মুশরিক আর্ত মানুষের দুআ
কবুল করেন তখন মুসলমানের দুআ কেন কবুল করবেন না।
আবার যদি সে মুসলিম ঈমানদার ও মুত্তাকী হয় তখন তার
দুআ কবুলে বাধা কি হতে পারে?
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :
ﺃَﻣَّﻦْ ﻳُﺠِﻴﺐُ ﺍﻟْﻤُﻀْﻄَﺮَّ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﻋَﺎﻩُ ﻭَﻳَﻜْﺸِﻒُ ﺍﻟﺴُّﻮﺀَ ‏(ﺍﻟﻨﻤﻞ 62 : )
কে আর্তের প্রার্থনায় সাড়া দেয়? যখন সে তাঁকে ডাকে
এবং কে বিপদাপদ দূর করেন। (আন নামল : ৬২)
১২- হজ্ব ও উমরাকারীর দুআ এবং আল্লাহর পথে জিহাদে
অংশগ্রহণকারীর দুআ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :
ﺍﻟﻐﺎﺯﻱ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺍﻟﺤﺎﺝ ﻭﺍﻟﻤﻌﺘﻤﺮ ﻭﻓﺪ ﺍﻟﻠﻪ، ﺩﻋﺎﻫﻢ ﻓﺄﺟﺎﺑﻮﻩ ﻭﺳﺄﻟﻮﻩ
ﻓﺄﻋﻄﺎﻫﻢ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ 4171 (
আল্লাহর পথে জিহাদকারী যোদ্ধা, হজ্বকারী এবং
উমারাহকারী আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা দুআ করলে
আল্লাহ কবুল করেন এবং প্রার্থনা করলে আল্লাহ দিয়ে
থাকেন। (ইবনু মাজাহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here