বিষয়-নামাযের ওয়াজিব সমূহ

0
19
views

নামাযের ওয়াজিব সমূহ
নামাযের মধ্যে যে সকল ওয়াজিব আছে, ইহা থেকে কোন একটিও ভুল বশতঃ ছাড়িয়া দিলে শেষ বৈঠকে ছিজদায়ে সাহু দিতে হবে।
১) প্রত্যেক রাকাতে প্রথম সূরাহ ফাতিহা পাঠ করা।
২) সূরাহ্ ফাতিহার পর অন্য একটি সূরাহ মিলাইয়া পড়া (বড় এক আয়াত বা ছোট তিনি আয়াত)
৩) পরপর নামাযের রোকন গুলি সম্পন্ন করা অর্থাৎ প্রত্যেক রুকু সিজদা করা এবং তার-তিবের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৪) প্রথম বৈঠক।
৫) আত্তাহিয়্যাতু পড়া।
৬) নামাযান্তে সালাম ফিরান।
৭) দুই ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা।
৮) ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকআতে, সুন্নত ও নফল নামাযে সকল রাকআআতে সূরা ফাতিহার সহিত অন্য একটি সূরা পড়া।
৯) নামাযের রোকনগুলি আস্তে আস্তে আদায় করা।
১০) যে নামায উচ্চঃস্বরে পড়িতে হয়, তাহা উচ্চঃস্বরে পড়া এবং যাহা আস্তে আস্তে পড়িতে হয় তাহা আস্তে আস্তে পড়া।

ফরয সমূহ

নামায আদায় করিতে হইলে কতকগুলি নিয়ম অবশ্যই পালন করিতে হইবে। নামাজের বাহিরে আটটি নিয়ম । ইহাকে নামাজের শর্ত বলে এবং নামাজের ভিতরে ছয়টি ফরয । ইহাকে রোকন বলে ।
নামাযের শর্তসমূহ
নামাজ আরম্ভ করিবার পূর্বে যে সমস্ত কাজ অবশ্য কর্তব্য, তাহাকে নামাযের শর্ত বলে । ইহা আটটি; যথা :-
১) শরীর পাক-পবিত্র করিয়া লওয়া, অর্থাৎ অযু কিংবা গোসলের প্রয়োজন হইলে তাহা আদায় করিয়া লইতে হইবে ।
২) পোষাক পাক হওয়া । যদি কাপড়ে কোন নাপাক বস্তু নাগিয়া থাকে তাহা ধুইয়া পাক করিয়া লইবে অথবা উহা পরিবর্তন করিয়া পাক-পবিত্র কাপড় পরিধান করিয়া লইতে হইবে ।
৩) স্থান পাক হওয়া -অর্থাৎ যে স্থানে দাঁড়াইয়া নামায পড়িবে, তাহা পাবিত্র হওয়া ।
৪) সতর ঢাকিয়া লওয়া – অর্থাৎ নামায পড়িবার সময়ে পুরুষের নাভী হইতে ও স্ত্রীলোক হইলে মুখ, হাতের কব্জা ও পায়ের তলা ব্যতীত সমুদয় শরীর ঢাকিয়া লওয়া কিন্তু বাদী হইলে পেট, পিঠ, পার্শ্ব ও নাভী হইতে জানুর নীচ পযন্ত কাপড় দ্বারা ঢাকিয়া লওয়া ফরয ।
৫) কাবা শরীফের দিক মুখ করিয়া দাঁড়ান ।
৬) নির্দিষ্ট ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা । নিয়ত করা-যে ওয়াক্তের নামায পড়িবে, তাহার নিয়ত করা ।
৭) তাকবীরে তাহরীমা বলা । অর্থৎ নামাজের নিয়ত করিয়া “আল্লাহু আকবার” বলিয়া নামায আরম্ভ করা।
নামাযের রোকনসমূহ
নামায আরম্ভ করিবার পর হতে যে সকল কাজ করা ফরয, তাহাকে নামাযের রোকন বলে । ইহা মাত্র ছয়টি; যথা :-
১) দাঁড়াইয়া নামায আদায় করা ।
২) নামাযের মধ্যে কোরান পাকের কিছু আয়াত পাঠ করা ।
৩) রুকু করা ।
৪) সিজদা করা ।
৫) শেষবারে তাশাহুদ পাঠ করা ।
৬) ইচ্ছা পর্বক কোন কাজ করিয়া নামায ভঙ্গ করিয়া লওয়া ।
সালামের সহিত নামায ভঙ্গ করা সুন্নত । নামায আদায় করিতে গিয়া উপরোক্ত ১৪টি ফরযের কোন একেটি ভুলেও ছাড়িয়া দিলে নামায শুদ্ধ হবে না; নামায পুণরায় পড়িতে হইবে ।
নামাযের সুন্নত সমূহ

১) তাকবীর বলিয়া দুই হাত কর্ণের লতি পর্যন্ত উঠান ।
২) হাতের আঙ্গুল পরস্পর পৃথক রাখা ।
৩) ইমামের জন্য নামায আরম্ভের তাকবীর উচ্চঃস্বরে পড়া ।
৪) সানা পাঠ করা ।
৫) “আউযুবিল্লাহ্” পাঠ করা ।
৬) “বিসমিল্লাহ্” পাঠ করা ।
৭) সূরা ফাতিহা পাঠ করিবার পর ঈমাম ও মুস্তাদিগণের মৃদুস্বরে “আমীন” বলা ।
৮) পুযরুষের জন্য নাভীর নীচে তাহরিমা বাঁধা আর স্ত্রী লোকের জন্য ছিনার উপরে তাহরিমা বাঁধা ।
৯) রুকুর তাকবীর বলা ।
১০) রুকুতে দুই জানু ধরা ও আঙ্গুল সমুহ পরস্পর পৃথক রাখা ।
১১) রুকুর ভিতরে তিন, পাঁচ বা সাতবার তাসবীহ্ বলা ।
১২) রুকু হইতে উঠিয়া সোজা হইয়া দাঁড়ান ।
১৩) রুকু হইতে উঠিবার সময়ে ইমামের “সামিয়াল্লাহ হুলিমান হামীদা” ও মোক্তাদিগণের “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলা ।
১৪) সাজদায় যাইয়া দুই হাঁটু ও তাকবীর বলিয়া বসা ।
১৫) সাজদায় তাছবীহ্ পড়া ।
১৬) পুরুষের জন্য সাজদাহ হইতে উঠিয়া ডান পা খাড়া রাখিয়া বাম পায়ের উপর বসা, আর স্ত্রীলোকের উভয় পা ডান দিকে বাহির করিয়া সতরের উপর বসা ।
১৭) সাজদা থেকে উঠিয়া এক তসবীহ্ পরিমাণ সময় বসিয়া থাকা ।
১৮) দরুদ শরীফ পাঠ করা ।
১৯) দোয়ায়ে মাসুরা পড়া ।
২০) দুই দিকে সালাম ফিরান ।

নামাযের মোস্তাহাব সমূহ।
এক্বামতের সময়ে “হাইয়্যালাল ফালাহ্” বলামাত্র নামাযে ঠিকভাবে দাঁড়ান ।
তাকবীরে তাহরীমা বলার সময়ে আস্তিন হইতে হাতের তালু বের করা।
দাঁড়াইবার সময়ে সাজদার জায়গার প্রতি দৃষ্টি রাখা ।
রুকুতে পায়ের পাতার দিকে দৃষ্টি রাখা ।
বৈঠকে কোলের দিকে দৃষ্টি রাখা ।
সাধ্যানুযায়ী হাসি ও কশি বন্দ রাখা ।
রুকুতে মাথা ও পৃষ্ঠ ভাগ সমান উঁচু রাখা ।
সাজদায় প্রথমে দুই জানু ও দুই হাত জমিনে রাখা, পররে নাক ও তারপরে কপাল জমিনে রাখ এবং সাজদা হইতে উঠিবার সময়ে যথাক্রমে প্রথমে কপাল, পরে নাক উঠাইয়া তৎপর দুই হাত জানুর উপরে রাখিয়া বসা ।
দুই হাতের মধ্যে মস্তক রাখা, নাক দুই বুদ্ধাংগুলির মধ্যে বরাবর রাখা ।
হাত-পায়ের আঙ্গুলিসমূহ কেবলা মোখ রাখা ।
সালাম ফিরাইতে দুই স্কন্ধের প্রতি দৃষ্টি রাখা ।
সাজদায় পুরুষের পক্ষে দুই বাজু প্রথক ভাবে রাখা ও এইরূপ ভাবে উঁচুতে রাখিতে হইবে । যেন বকরীর বাচ্চা যাতায়াত করিতে পারে । কিন্তু স্ত্রীলোকের পক্ষে সাজদায় ইহার বিপরীত করিতে হইবে । যেমন দুই বাজু চাপিয়া রাখা এবং রানের উপর পেট রাখা ।
তিন বারের অধিক-বেজোড় তসবীহ্ পড়া ।
ফযরের নামাযে প্রথম রাকআতে ত্রিশ আয়াত পাঠ করা । দ্বিতীয় রাকআতে কুড়ি আয়াতপাঠ করা।
জোহরের নামাজে ত্রিশ আয়াত পাঠ করা ।
আছরের নামাজে ২০ (কুড়ি) আয়াত পাঠ করা ।
মাগরিবের নামাজে ছোট ছোট সূরাহ পাঠ করা ।
এশার নামাজে বিশ আয়াত পাঠ করা ।
নামাযের মাকরূহাত
১) চাদর বা জামা না পড়িয়া কাঁধে ঝুলাইয়া রাখা ।
২) ময়রা ধুলা-বালি লাগিবার ভয়ে কাপড় জামা গুটানো ।
৩) আঙ্গুল মটকান ।
৪) বস্ত্র শরীর অথবা দাঁড়ির সহিত খেলা করা ।
৫) এদিক ওদিক দেখা ।
৬) চুল মাথার উপরিভাগে বাঁধা ।
৭) বিনা ওজরে সেজদার স্থানের ইট-পাথর সরান ।
৮) আলস্যভরে শরীর মোড়ামুড়ি করা ।
৯) সিজদার সময়ে হাত বিছাইয়া দেওয়া ।
১০) আগের কাতারে স্থান থাকিতে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো ।
১১) অবহেলা করিয়া খালি মাথায় নামায পড়া ।
১২) আকাশের দিকে তাকান ।
১৩) ভাল কাপড় থাকা সত্ত্বেও মন্দ কাপর পড়ে নামায পড়া ।
১৪) নামাযের মধ্যে কপালের মাটি মুছিয়া ফেলা ।
১৫) কোন প্রাণীর ছবি সম্মুখে ডাইনে বামে মস্তকের উপর বা কাপড়ের মধ্যে থাকা ।
১৬) সিজদার সময়ে বিনা কারণে হাটুর পূর্বে হাত মাটিতে রাখা ।
১৭) বিনা কারণে আসন পাতিয়া বসা ।
১৮) ফরয নামাযে এক সূরা বার বার পড়া ।
১৯) কোন মানুষের মুখের দিক হইয়া নামায পড়া ।
২০) সিজাদাতে পিঠ উভয় উরুর সহিত মিলাইয়া দেওয়া ।
২১) এক হাত বা তদুর্ধ স্থানে ইমামের দাঁড়ান ।
২২) নাক-মুখ ঢাকিয়া নামায পড়া ।
২৩) উভয় সিজদার মধ্যে অথবা তাশহুদ পড়িবার সময়ে কুকুরের ন্যায় বসা ।
২৪) দুই হাতে মাটি ভর দিয়া উঠা ।
২৫) কোন সুন্নত পরিত্যাগ করা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here