বিষয়-শবে কদরের আলামত

0
208
views

শবে ক্বদরের আলামাত
হযরত সায়্যিদুনা ওবাদাহ ইবনে সামিত رضي الله عنه
সারকারে আলী
ওয়াকার মাদানী তাজেদার, নবী ই মুখতার হযরত মুহাম্মদ ﷺ
এর বরকতময় দরবারে শবে ক্বদর সম্পর্কে প্রশড়ব করলেন, তখন হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করলেন, শবে ক্বদর রমযানুল মুবারকের শেষ
দশদিনের মধ্যে বিজোড় রাতগুলোতে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ কিংবা ২৯ শে রমযান
রাতে হয়ে থাকে। তাই যে কেউ ঈমান সহকারে সাওয়াবের নিয়্যতে এ
রাতগুলোতে ইবাদত করে, তার বিগত সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়। সেটা
বুঝার জন্য এটাও রয়েছে যে, ওই মুবারক রাত খোলাখুলি, সুষ্পষ্ট এবং পরিস্কার
ও স্বচ্ছ থাকবে। এতে না বেশি গরম থাকে, না বেশি ঠান্ডা, বরং এ রাত মাঝারী
ধরণের হয়ে থাকে। এমন মনে হয় যেনো তাতে চাঁদ খোলাখুলি ভাবে উদিত। এ
পূর্ণ রাতে শয়তানদেরকে আসমানের তারা ছুঁড়ে মারা হয়।
আরো নিদর্শনাদির মধ্যে এও রয়েছে যে, এ রাত অতিবাহিত হবার পর
যেই ভোর আসে, তাতে সূর্য আলোকরশ্মি ছাড়াই উদিত হয়, আর তা এমন হয়
যেনো চৌদ্দ তারিখের চাঁদ।
আলহামদুলিল্লাহ
ওই দিন সূর্যোদয়ের সাথে শয়তানকে বের হতে দেয়া
হয়না। (এ দিন ব্যতীত অন্যান্য প্রত্যেক দিনে সূর্যের সাথে সাথে শয়তানও বের
হয়ে পড়ে) (মুসনাদে ইমাম আহমদ, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪১৪, হাদিস নং ২২৮২৯)
সমুদ্রের পানি মিষ্ট হয়ে যায়
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! হাদিসে পাকে বর্ণিত রয়েছে, রমযানুল
মুবারকের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলো কিংবা শেষ রাত, চাই তা ত্রিশতম
রাতই হোক, এ রাতগুলোর মধ্যে যে কোন একটি রাত শবে ক্বদর। এ রাতকে
গোপন রাখার মধ্যে হাজারো হিকমত রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে নিশ্চয় একটি এও
যে, মুসলমান প্রতিটি রাত এ রাতের খোঁজে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের মধ্যে এ
ভেবে অতিবাহিত করার চেষ্টা করবে, জানিনা কোন রাত শবে ক্বদর হয়ে যায়। এ
হাদিসে পাকে শবে ক্বদরের কিছু আলামতও ইরশাদ করা হয়েছে। এ চিহ্নগুলো
ছাড়াও অন্যান্য বর্ণনায় শবে ক্বদরের আরো আলামত বর্ণিত হয়েছে। এ আলামত
বুঝা সবার জন্য সম্ভব নয়, বরং এটা শুধু অন্তর দৃষ্টিসম্পনড়বরাই বুঝতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা আপন বিশেষ বান্দাদের উপর সেগুলো প্রকাশ করেন। শবে
ক্বদরের একটা চিহ্ন এও রয়েছে যে, এ রাতে সমুদ্রের লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যায়।
তাছাড়া মানুষ ও জিন ছাড়া সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু আল্লাহ তাআলার মহত্ব স্বীকার করে
সিজদাবনত হয়ে যায়, কিন্তু এ দৃশ্য সবাই দেখতে পায়না।

ঘটনা
হযরত সায়্যিদুনা ওবাইদ ইবনে ইমরান رضي الله عنه
বলেন, “আমি
এক রাতে লোহিত সাগরের তীরে ছিলাম। আর ওই লোনা পানি দিয়ে ওযু
করছিলাম। যখন আমি ওই পানি স্বাদ গ্রহণ করলাম তখন ওই পানিকে মধুর
চেয়েও মিষ্টি পেলাম। আমি সীমাহীন আশ্চর্যান্বিত হলাম। আমি যখন সায়্যিদুনা
ওসমান গনী
رضي الله عنه এর নিকট এ ঘটনা বর্ণনা করলাম,
তখন তিনি বললেন, “হে ওবায়দা
رضي الله عنه সেটা শবে ক্বদর হবে। তিনি
আরো বললেন যে, “যে ব্যক্তি এই রাতে আল্লাহ তাআলার স্বরণের মধ্যে
অতিবাহিত করে সে যেনো হাজার মাস থেকে বেশী সময় ইবাদত করলো। আর
আল্লাহ তাআলা তার সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করে দেবেন।”
(তাযকিরাতুল ওয়া’ইযীন, ৬২৬ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায়
আমাদের ক্ষমা হোক।
ঘটনা
হযরত সায়্যিদুনা ওসমান ইবনে আবিল আস
رضي الله عنه এর গোলাম তাঁর
নিকট আরয করলেন, “হে আমার মুনিব!
رضي الله عنه নৌকা চালাতে চালাতে
আমার জীবনের একটা অংশ অতিবাহিত হয়েছে। আমি সমুদ্রের পানিতে একটা
অবাক বিষয় অনুভব করেছি, যা আমার বিবেক মেনে নিতে অস্বীকার করছে।“
তিনি বললেন, “ওই আশ্চর্যজনক বিষয় কি?” আরয করলো, “হে আমার মুনিব!
প্রতি বছর একটা এমন রাতও আসে, যাতে সমুদ্রের পানি মিষ্টি হয়ে যায়।” তিনি
গোলামকে বললেন, “এবার খেয়াল করো। যখনই পানি মিষ্ট হয়ে যায়, তখনই
জানাবে।” যখন রমাযানের ২৭ তম রাত আসলো, তখন গোলাম মুনিবের দরবারে
আরয করলো, “মুনিব! আজ সমুদ্রের পানি মিষ্টি হয়ে গেছে।”
(রুহুল বয়ান, খন্ড ১০ম, পৃষ্ঠা ৪৮১)
আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায়
আমাদের গুনাহ্ ক্ষমা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here