বিষয়:- সমস্ত নফল নামাজ,তাহাজ্জুদ,এশরাক,-চাশত,আওয়াবীন- সলাতুত তাসবীহ,মুশকিল আসান,এস্তেখারা ও জানাজা

0
18
views

তাহাজ্জুদের নামায

========

যে   সকল   নামায  রাতে    এশার  নামাযের   পর  আদায় করা হয়, তাকে সালাতুল লাইল বা রাতের নামায বলা হয়। এই নামাযের অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে। 

এশার   নামাযের   পর    নিদ্রা   হয়ে   যে    সকল    নামায আদায় করা হয়   তাকে তাহাজ্জুদের নামায  বলা  হয়। (তিবরানীশরীফ)

তাহাজ্জুদের    নামায   কমপক্ষে    দুই   রাকাত   আদায় করবেন।    ছরকারে   কায়েনাত  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি  ওয়াসাল্লাম   থেকে   আট   রাকাতের    প্রমাণ    পাওয়া যায়। (বাহরে শরিয়ত)

কেউ কেউ বারো রাকাতও উলেখ করেছেন।

এই  নামায   যে  কোন  সূরা   দ্বারা  আদায়   করা  যায়। তবে   সম্ভব   হলে  লম্বা  বা    কোরআনশরীফের   যত  আয়াত মুখস্ত আছে তা পাঠ করে নেবেন।

সহজ      পদ্ধতি     হল    সূরায়ে    ফাতেহার     পর     প্রতি রাকাতে    তিনবার  করে সূরায়ে এখলাস পাঠ করবেন। তাতে   প্রতি   রাকাতে   এক   মর্তবা   কোরআনশরীফ  খতম করার সওয়াব লাভ হয়।

ফজিলত:     হযরত   আবু    হুরায়রা  রাদিয়াল্লাহু  আনহু  হতে   বর্ণিত,  তিনি  বলেন,   রাসূলেপাক  সাল্লাল্লাহু আলাইহি   ওয়াসাল্লাম   এরশাদ   করেছেন,   ঐ   সকল  পুরুষলোকের   উপর   আল্লাহর   রহমত  বর্ষিত    হবে, যারা রাতে নিজে  উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে  এবং আপন     বিবিকে      (পরিবারের      লোকদিগকে)     উঠিয়ে নামায পড়ায়। যদি তারা উঠতে   না চায়,  তবে তাদের মুখে পানি ছিটিয়ে উঠায়। আর ঐ সকল স্ত্রীলোদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত  হবে, যারা রাতে উঠে  নিজে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং আপন স্বামীকে (পরিবারের লোকদিগকে)   উঠিয়ে  নামায পড়ায়।  যদি তারা  উঠতে না চায়,  তবে   তাদের  মুখে   পানি ছিটিয়ে উঠায়। (আবুদাউদ)।

অন্যত্র   রয়েছে   তাহাজ্জুদের   নামায   আদায়কারীর  নামাযকে গোরের  চাঁদ বলা হয়। তাহাজ্জুদের নামায   মুমিনদেরকে জাহ্ন্নাামের   আগুন থেকে  রা  করবে। (ফয়জানে সুন্নত)।

তাছাড়া       তাহাজ্জুদের       নামাযের       আরো      অসংখ্য ফজিলত রয়েছে।

এশরাকের নামায

========

এশরাকের  নামায  সুন্নাতে  যায়েদা।  তা   দুই   রাকাত করে  মোট   চার  রাকাত,   অন্যান্য     সুন্নত  নামাযের  ন্যায় যে কোন সূরা দ্বারা পড়া যায়।

তবে   হাজতপূরণের   উদ্দেশ্যে    নিম্নলিখিত     নিয়মে পড়তে হবে।

প্রথম রাকাতে সূরা ওয়াশশামছি।

দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ওয়াললাইলী।

তৃতীয় রাকাতে সূরা ওয়াদদোহা।

চতর্থ রাকাতে সুরা আলাম নাশ্রাহ।

এশরাকের  নামাযের ওয়াক্ত  সূর্যদ্বয়ের  ২০ মিনিট পর থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

ফজিলত:            রাসূলেপাক          সাল্লাল্লাহু           আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এরশাদ করেছেন,  যে ব্যক্তি    ফজরের নামায  আদায়   করে   আল্লাহপাকের  জিকিরে  মশগুল থাকে  এবং  সূর্যদ্বয়ের   ২০   মিনিট  পর  চার  রাকাত এশরাকের  নামায  পড়বে,   তার     আমলনামায়   একটি হজ্জ     ও     উমরার      সওয়াব      লেখা     হবে।       (বাহরে শরিয়ত)।

চাশতের নামায (সালাতুত দোহা)

========

চাশতের নামায সুন্নত। তা কমপে দুই রাকাত পড়তে হবে।   তবে  ১২    রাকাত   পড়াই  উত্তম।    এশরাকের নামাযের       পর       থেকে       দ্বিপহরের       পূর্বপর্যন্ত  চাশতের নামাযের ওয়াক্ত থাকে।

ফজিলত:  হযরত  বোরাইদা  রাদিয়াল্লাহু  আনহু  হতে  বর্ণিত   তিবি  বলেন,  আমি  রাসূলেপাক  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে  শুনেছি   যে, মানুষের মধ্যে     ২৬০টি     গ্রন্থি     (জোড়া)     রয়েছে।     সুতরাং  প্রত্যেক    জোড়ার     পরিবর্তে     একটি    সদকা    করা আবশ্যক।      সাহাবায়ে     কেরাম    আরজ     করলেন    হে আল্লাহর রাসূল, এ সাধ্য কার   আছে? তিনি এরশাদ করলেন     মসজিদ    থেকে    থু     থু    অর্থাৎ    আবর্জনা  পরিস্কার   করা     একটি    সদকা   এবং    রাস্তা    থেকে কষ্টদায়ক  বস্তু  সরিয়ে   দেয়াও   একটি সদকা। যদি এগুলো    করার    সুযোগ   না   পাও,   তবে   চাশতের     দু   রাকাত         নামাযই        তোমার         পে        যথেষ্ট         হবে। (আবুদাউদ)।

হযরত আনাস  রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত  তিনি   বলেন রাসূলেপাক  সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ  করেছেন,   যে   ব্যক্তি   ১২  রাকাত  চাশতের  নামায পড়বে,  আল্লাহ তায়ালা  তার জন্য  বেহেশতে স্বর্ণের একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (তিরমিজী)।

হযরত আবু  হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু  হতে   বর্ণিত তিনি      বলেন        রাসূলেপাক       সাল্লাল্লাহু      আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে   ব্যক্তি   চাশতের দুই রাকাত নামাযের যথাযথ সংরণ করবে তার গোনাহ মা  করা   হবে।  যদিও  তা  সমুদ্্েরর  ফেনার   সমান হয়। (মিশকাতশরীফ)

আউয়াবীনের নামায

========

আউয়াবীন    নামাযের    ওয়াক্ত    মাগরিবের    নামাযের  ফরয ও সুন্নাতের   পর হতে  এশার ওয়াক্তের   পূর্ব পর্যন্ত   থাকে।  এই   নামায  কমপে  ৬   রাকাত   এবং ঊর্ধ্বে      ২০   রাকাত   পর্যন্ত    পড়া    যায়।   বিভিন্ন হাদীসশরীফে এর প্রমাণ রয়েছে।

ফজিলত:     হযরত     আয়েশা     সিদ্দিকা     রাদিয়াল্লাহু  আনহা        হতে        বর্ণিত,       তিনি       বলেন-        নবীপাক  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ  করেছেন যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর ২০ রাকাত নামায পড়বে   আল্লাহপাক  তার   জন্য   বেহেশতে   একখানা ঘর নির্মাণ করবেন। (তিরমিজীশরীফ)।

অন্য    এক   হাদীসে   রয়েছে,    যে   ব্যক্তি   মাগরিবের নামাযের  পর   ছয়রাকাত  আউয়াবীনের  নামায পড়বে সে   বারো   বৎসরের   ইবাদতের   সমান   সওয়াব   লাভ  করবে। (তিরমিজীশরীফ)।

ছালাতুত তাছবীহ-এর নামায

========

ইহা    চাররাকাত   বিশিষ্ট     একটি   গুরুত্বপূর্ণ   নফল   নামায। এ নামাযে প্রতি রাকাতে سبحان الله والحمد لله ولا   اله  الا  الله  والله  اكبر  (উচ্চারণ: ছোবহানাল্লাহী ওয়াল     হামদুলিল্লাহি      ওয়ালা     ইলাহা     ইল্লাল্লাহু  ওয়াল্লাহু   আকবার)  তাছবীহখানা  ৭৫বার  করে  পাঠ  করত  সমস্ত  নামাযে  সর্বমোট  ৩০০বার  পাঠ  করা  হয়    বলে    এর    নাম    হয়েছে    ‘ছালাতুছ    তাছবীহ’    বা  তাছবীহর নামায।

এ নামাযের ফজিলত  বর্ণনাতীত, হুজুর  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তার প্রিয় চাচা  হযরত  আব্বাস    রাদিয়াল্লাহু    তায়ালা    আনহুকে    ল্য    করে  বললেন-   হে   চাচাজান!   আমি    কি     আপনাকে     এমন  একটি   আমল-কাজের   কথা   বাতলিয়ে    দেব    না?   যা পালন     করলে    আল্লাহ    তা’য়ালা    আপনার       আগের জীবনের         ও         পরের           জীবনের         নূতন-পুরাতন,   ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত,       প্রকাশ্যে       ও       গোপনীয়,  সগিরা-কবিরা,  সর্বপ্রকারের   পাপ-গোনাহ  মা   করে দেবেন।   উত্তরে হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেলেন হ্যাঁ নিশ্চয় বলুন!

তখন   আল্লাহর  প্রিয়  রাসূল  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি  ওয়াসাল্লাম আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ছালাতুত তাছবীহর  তালিম   দান   করলেন।  অতঃপর  আল্লাহর হাবীব    আরো  বললেন!   চাচা   আপনি  যদি   পারেন   এ নামায প্রতিদিন  একবার  করে আদায়  করুন, তা যদি সম্ভব   না  হয়  তাহলে প্রত্যেক মাসে একবার   করে আদায়    করুন,    তাও       যদি      সম্ভব    না    হয়    তাহলে প্রতিবৎসরে  একবার  করে   আদায়  করুন।   এও  যদি সম্ভব  না হয় তাহলে অন্তত জীবনে একবার  হলেও আদায় করুন।’ তাই এ  নামায প্রত্যেক ছালেকীনগণ  নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করবেন।

ছালাতুত তাছবীহর নামাযের নিয়ত

========

نويت ان اصلى  لله تعالى اربع  ركعات  صلوة التسبيح  سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة  الشريفة  الله  اكبر

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা আরবায়া     রাকআতি       ছালাতুত     তাছবিহ          সুন্নাতু   রাসূলিল্লাহি তা’য়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আলাহু আকবার।

সালাতুত তাছবীহ নামায আদায়ের নিয়ম

========

নিয়ত   করে     তাকবীরে  তাহরীমা   বলে  দোয়ায়ে  ছানা পাঠ করার পর  এ তাছবীহ (ছোবহানাল্লাহী…)   ১৫বার পাঠ     করতে    হয়,   অতঃপর   যথা   নিয়মে    তাউজ    ও   তাছমিয়া, সূরা ফাতেহা এবং  অন্য কোন সূরা-আয়াত  পাঠ  করার  পর  এ   দাঁড়ান  অবস্থায়  রুকুতে  যাওয়ার  আগে উক্ত তাছবীহ পুন: ১০বার পাঠ করতে হয়।

রুকুতে  গিয়ে  রুকুর  তাছবীহ  আদায়  করার  পর  উক্ত  তাছবীহ  ১০বার।  ছামিয়াল্লাহু  লিমান  হামীদাহ  বলে  রুকু থেকে  উঠে ‘রাব্বানা  লাকাল হাম্দ  বলে নেওয়ার পর  ঐ   দাঁড়ান  অবস্থায়  এ  তাছবীহ    ১০বার   বলতে হয়। অতঃপর আল্লাহু  আকবার বলে সিজদাতে গিয়ে সিজদার  তাছবীহ    আদায়   করার  পর  এ  তাছবীহ  ১০ বার, প্রথম সিজদা  থেকে  উঠে  বসা অবস্থায় উক্ত তাছবীহ ১০ বার, অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে ২য় সিজদাতে  গিয়ে  সিজদার  তাছবীহ  আদায়  করার  পর  উক্ত    তাছবীহ    সিজদারত   অবস্থায়   ১০   বার    পাঠ করতে হয়। 

এ  নিয়মে  পরের  প্রতি   রাকাতে  মোট    ৭৫বার  করে চাররাকাতে   সর্বমোট  ৩০০বার  উক্ত   তাছবীহ  পাঠ করতে অত্র তাছবীহর নামায শেষ করতে হয়।

মুশকিল আসানীর বিশেষ নামায

========

হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত  আছে, যে ব্যক্তি নিম্নে বর্ণিত   নিয়মে চার রাকায়াত      নফল       নামায      পড়বে,       আল্লাহ      পাক  (ইনশাআল্লাহ)     তার   যেকোন    মুশকিল    আসান   করে দিবেন। (এ আমল পরীতি )

চার  রাকায়াত   নফল   নামায  পড়ার  নিয়তে  তাকবীরে তাহরীমা   বলে  হাত  বাঁধবে এবং সূরা ফাতেহার   পরে  ১০০ বার এ দোয়া পড়বে-

لااله  الا انت سبحانك انى   كنت   من الظلمين-  فاستجبناله ونجينه من الغم وكذالك ننجى المؤمنين- 

দ্বিতীয়  রাকয়াতে  সূরা   ফাতেহার  পরে  ১০০বার    এ দোয়া পড়বে-

انى مسنى الضر وانت ارحم الرحمين

তৃতীয়   রাকায়াতে   সূরা   ফাতেহার   পরে   ১০০বার   এ  দোয়া পড়বে- 

افوض امرى الى الله ان الله بصير بالعباد

চতুর্থ   রাকায়াতে   সূরা  ফাতেহার   পরে    ১০০বার  এ  দোয়া পড়বে-

حسبنا الله ونعم الوكيل

নামায  শেষে  সালাম   ফিরানোর     পরে  সেজদায়  মাথা রেখে  ১০০বার  এ  দোয়া   পড়বে-  انى     مغلوب  فانتصر তার  পর  নিজের   হাজত   পেশ  করে   আল্লাহর  কাছে সাহায্য    চাইবে,     ইনশাআল্লাহ     হাজত    পুরা      করে দিবেন। (কামালাতে আজিজী)

এস্তেখারার নামায ও দোয়া

========

কোন    কাজ   করার   পূর্বে   আল্লাহ   তায়ালার    নিকট খায়ের ও বরকতের জন্য দোয়া করাকেই এস্তেখারা বলে। যাবতীয় মোবাহ্  কাজের জন্য এস্তেখারা করা সুন্নাত।  এস্তেখারা  সুন্নত  পদ্ধতি  হলো  এই  যে,  এশার নামাযের পর তারপর নিম্নের দোয়াটি তিনবার পাঠ করে পাক-পবিত্র বিছানায় শুয়ে থাকবেন-

اللهم انى استخيرك بعلمك واستقدرك بقدرتك واسئلك من فضلك العظيم-  فانك تقدر   ولا اقدر وتعلم   ولا اعلم وانت علام الغيوب- اللهم ان كنت تعلم ان هذا الامر خيرلى  فى دينى ومعاشى وعاقبة امرى او عاجل عمرى واجله فاقدره لى ويسره لى  ثم بارك  لى فيه ان كنت  تعلم ان هذ الامر شرلى فى  دينى ومعاشى وعاقبة امرى اوعاجل امرى واجله  فاصرفه عنى  واصرفنى  عنه   واقدرلى  الخير حيث كان  ثم ارضنى  به-

অর্থ:   হে    আল্লাহ   তোমার   ইলমের   মধ্যে     নিহিত মঙ্গল আমি প্রার্থনা করছি এবং তোমার  কুদরতের প্রার্থনা করছি,  কেননা  তুমি শক্তিমান,   আর কোন শক্তি নেই। তুমি জ্ঞানবান আমি অজ্ঞ ও বে-খবর তুমি গায়েব সম্পর্কের ও সম্যক অবগত প্রভু, যদি তোমার  জ্ঞানে   এ  কাজ   আমার দ্বীন  (ধর্ম) আমার ইহজীবন     ও     পরিণতির     দিক     হতে     (অথবা     তিনি  বলেছেন আমার  জন্য ত্বরিতে) অথবা শেষ পর্যন্ত মঙ্গলজনক, 

তবে  তুমি   ইহা  আমার  জন্য   নির্ধারিত     করে  দাও। এবং ইহা আমার পে সহজ করে দাও। অতঃপর আমার জন্য  ইহাতে বরকত দান কর আর তুমি যদি জান যে, বিষয়টি আমার পে অকল্যাণ কর হবে আমার দ্বীনের ব্যাপারে,  আমার   জীবন  ধারণের ব্যাপারে ও  আমার পরিণামে        অথবা        হুজুর        সাল্লাল্লাহু        আলাইহি  ওয়াসাল্লাম বলেন- আমার ইহকালে বা পরকালে, তা হলে      তুমি       উহাকে     আমার      থেকে     ফিরিয়ে      রাখ, অধিকন্তু আমার জন্য ভাল  নির্ধারণ  কর, যথা   উহা আছে,  তৎপর  তুমি    আমাকে  উহাতে  সন্তুষ্ট  রাখ।  (মুসলিমশরীফ)

هذا  الامر উচ্চারণকালে   আপন মাকসুদের কথা স্বরণ করবে।   ভোরে    উঠে   যা   ভালো    বিবেচিত   হবে   তাই করবে। 

জানাযার নামায

========

কোন মুসলমানের ইন্তেকাল হলে তার জানাযা নামায পড়া   সংশিষ্ট   এলাকার  সকল   লোকের  উপর  ফরযে কেফায়াহ।     অর্থাৎ     কিছু     লোক      আদায়      করলেই  সকলের দায়িত্ব  মুক্ত হয়ে যাবে। আর  কেউ আদায় না  করলে   সকলেই  ফরয  তরকের  গোনাহগার    হবে। জানাযা      নামায    সমাপ্তিরপর    কাতার      ভঙ্গ     করে মউতের জন্য  দোয়া  করা সুন্নাত। মিশকাতশরীফের ১৪৬ পৃষ্ঠায় হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে   বর্ণিত এক হাদিসশরীফে রয়েছে-

عن ابى  هريرة  رضى الله عنه قال سمعت  رسول  الله صلى الله عليه وسلم  يقول  اذا صليتم  على  الميت  فاخلصوا له الدعاء-

অর্থাৎ- হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-     তিনি      বলেন,     আমি      রাসূল     সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি এরশাদ করেছেন-  যখন  তোমরা  যানাযার  নামায  পড়ে  নিবে,  তারপর সাথে সাথে মুর্দার জন্য খালিস নিয়তে দোয়া করবে।

‘কিতাবুল       মাবসুত’      এর      মধ্যে      রয়েছে-       হযরত  আব্দুল্লাহ ইবনে  সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত ওমর        রাদিয়াল্লাহু        আনহু-এর       যানাযা       পাননি। (যানাযার   পর)   তিনি    যখন   উপস্থিত   হলেন,    তখন বললেন, তোমরা যানাযার নামায  যদিও আমার পূর্বে পড়ে       ফেলেছ,      তবে       দোয়ার      েেত্র       আমার   অগ্রগামী   হবে   না।  অর্থাৎ    আমাকে   নিয়েই  দোয়া  কর)।    বুঝা     গেল    মৃতব্যক্তির     জন্য    দোয়া     করা অবশ্যই জায়েয বরং খাস সুন্নাতে রাসূল ও সূন্নাতে সাহাবা।

জানাযা নামাযের নিয়ম

========

নিয়ত      করে      উচ্চৈ:স্বরে     প্রথম       তাকবীর     বলে যথানিয়মে   তাহরীমা     বাঁধবেন।   মোক্তাদিরাও   চুপে  চুপে নিয়ত   ও  তাকবীর বলে  তাহরীমা বেঁধে  ইমামের অনুসরণ  করবেন।  অতঃপর  ইমাম-মোক্তাদি  সকলে চুপে   চুপে   সানা    পড়বে।    ইমাম     উচ্চৈ:স্বরে    এবং মোক্তাদিরা      নীরবে      দ্বিতীয়      তাকবীর      বলবেন। তারপর     সকলে   চুপে    চুপে    দরূদ   পাঠ   করে     ইমাম উচ্চৈ:স্বরে এবং মোক্তাদিরা নীরবে তৃতীয় তাকবীর বলবেন।        তারপর        সকলে         দোয়া       পড়ে       ইমাম উচ্চৈ:স্বরে চতুর্থ তাকবীর বলে  উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে        নামায          শেষ         করবেন।         সাথে        সাথে মোক্তাদিরাও চুপে চুপে চতুর্থ তাকবীর বলে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

প্রকাশ থাকে   যে,  যানাযার নামাযের চার তাকবীরের মধ্যে   শুধু   প্রথম   তাকবীরের   সময়   দুই   হাত   কান  পর্যন্ত উঠাতে   হবে।  এছাড়া  অন্য কোন  তাকবীরে হাত উঠাতে হবে না।

জানাযা নামাযের নিয়ত (১ম তাকবীর)

نويت  ان   اؤدى    لله   تعالى  اربع  تكبيرات   صلوة  الجنازة فرض   الكفاية    الثناء    لله    تعالى    والصلوة   على   النبى والدعاء لهذا الميت  متوجها الى جهة الكعبة  الشريفة  الله اكبر

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উয়াদ্দিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা আরবায়া তাকবীবিরাতি ছালাতিল জানাযাতি  ফারদিল  কিফায়াতি আছ ছানাউ লিল্লাহি তা’য়ালা ওয়াচ্ছালাতু আলান    নাবীই    ওয়াদ      দোয়াউ     লিহাজাল    মাইয়িতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ  শারিফাতি আলাহু আকবার।

(বি:দ্র:)    মৃতব্যক্তি    স্ত্রীলোক    হলে    لهذا    الميت  (লিহাযাল     মাইয়িতি)      এর     পরিবর্তে    لهذه     الميت (লিহাযিহিল    মাইয়িতি)    বলতে    হবে।    মোক্তাদিগণ  বলবেন   اقتديت   بهذا  الامام  (ইকতেদাইতু    বিহাযাল ইমাম)  আর  যিনি   ইমাম  তিনি  বলবেন  انا    امام  لمن حضر     ومن  يحضر  (আনা  ইমামুল্লিামান   হাদারা   ওয়া মাঁইয়্যাহদোরু)।

জানাযা নামাযের সানা (২য় তাকবীর)

سبحانك اللهم  وبحمدك وتبارك  السمك وتعالى جدك   وجل   ثناءك ولا اله غيرك

উচ্চারণ:   সুবহানাকাল্লাহুম্মা     ওয়াবিহামদিকা    ওয়া তাবারা  কাছমুকা  ওয়া   তায়ালা জাদ্দুকা ওয়া  জাল্লা  ছানাউকা ওয়া লাইলাহা গাইরুকা।

জানাযা নামাযের দরূদশরীফ (৩য় তাকবীর)

اللهم  صلى   على  محمد وعلى    ال محمد كما صليت  وسلمت  وبركت على ابراهيم وعلى ال ابراهيم انك حميد مجيد

উচ্চারণ:     আল্লাহুম্মা     ছাল্লি     আলা     মুহাম্মাদিউ  ওয়ালা     আলী     মুহাম্মাদীন     কামা    ছাল্লাইতা     ওয়া ছাল্লামতা   ওয়া    বারাকতা    আলা   ইব্রাহিমা   ওয়ালা  আলী ইব্রাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

জানাযা নামাযের দোয়া (৪র্থ তাকবীর)

اللهم     اغفر   لحينا   وميتنا    وشاهدنا    وغائبنا   وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وانثنا-   اللهم من احييته   منا   فاحييه على    الاسلام    ومن    توفيته    منا    فتوفه    على    الايمان  برحمتك ياارحم الرحمين-

উচ্চারণ:       আল্লাহুম্মাগ       ফিরলী         হাইয়িনা       ওয়া মাইয়িতিনা    ওয়া      শাহিদীনা    ওয়া     গাইয়িবীনা     ওয়া ছগিরীনা ওয়া কাবিরীনা ওয়া জাকারিনী ওয়া উনছানা। আল্লাহুম্মা  মান    আহইয়াইতাহু   মিন্না  ফা  আহইহি  আলাল    ইসলাম    ওয়ামান    তাওয়াফফাইতাহু      মিন্না ফতাওয়াফফাহু     আলাল     ঈমান     বিরাহমাতিকা     ইয়া  আরহামার রাহিমীন।

বি:দ্র:-  নাবালক  শিশুর  যানাযায়  চতুর্থ  তাকবীরের  দোয়ার পরিবর্তে নিম্নলিখিত দোয়া পড়তে হয়।

নাবালকের যানাযার দোয়া

اللهم  اجعله  لنا فرطا  واجعله  لنا اجرا وذخرا واجعله  لنا شافعا ومشفعا

উচ্চারণ:      আল্লাহুম্মাজ       আলহু      লানা       ফারাতাউ ওয়াজআলহু লানা আজরাউ ওয়া জুখরাউ  ওয়াজআলহু লানা শাফিআউ ওয়া মুশাফফাআন।

নাবালিকার যানাযার দোয়া

اللهم اجعلها لنا فرطا  واجعلها لنا اجرا وذخرا واجعلها لنا شافعة ومشفعة-

উচ্চারণ:      আল্লাহুম্মাজ      আলহা     লানা      ফারাতাউ  ওয়াজআলহা           লানা           আজরাউ          ওয়া           জুখরাউ ওয়াজআলহালানা শাফিয়াতাও ওয়া মুশাফফায়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here