বিষয়- হযরত ইমাম হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খিলাফত

0
49
views

হযরত ইমাম হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খিলাফত
হযরত মাওলা আলী শেরে খোদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের পর হযরত ইমাম
হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহ খিলাফতের মাসনাদে আলোকিত হন। তার
পবিত্র হাতে বায়আত গ্রহণ করে। তিনি কিছু দিন খিলাফতে থাকার করার পর ।খিলাফতের এ মহা দায়িত্ব হযরত আমীরে যুয়াবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে
নিন্মোক্ত শর্ত-সাপেক্ষে হস্তান্তর করেন।
১) হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের দায়িত্ব শেষে তা
পুনরায় হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পৌছবে।
২) মাদীনাহ-হিমাজ এবং ইরাকবাসীর মধ্য হতে কাউকেই আমিরুল মুমিনিন
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকাল বিষয়ে ধর-পাকড় কিংবা
অনুসন্ধান করা যাবে না।
৩) হযরত আমিরে মুয়াবিয়া হযরত ইমাম হাসানের দিওয়ান বা দপ্তরের কাজ
সম্পাদন করবেন।
হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সকল শর্তাবলী মেনে নিলেন এবং পরস্পর সন্ধি
হলো। ঐতিহাসিক সুলেহ বা সমঝোতা বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে হস্তরে
আনওয়ার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার (পূর্ব ঘোষণার প্রতিফলন) মুজিযার
প্রকাশ পেলো। কারণ নবীজী পূর্বে ইরশাদ করেছিলেন- মহান আল্লাহ এ প্রিয়
আউলাদ (ইমাম হাসান)র বদৌলতে মুসলমানের দুটো দলের মাঝে মীমাংসা
করাবেন। অতঃপর হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহ ‘তখতে সালতানাত’ হযরত
আমিরে মুয়াবিয়াহ রাদিয়াল্লাহ আনহর জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন।
এ ঘটনাটি ছিলো হিজরী ৪১ সনের রবিউল আউয়াল মাসে। হঠাৎ এভাবে
খিলাফতের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহর সঙ্গী
সাথীদের পছন্দ হয়নি। তারা এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রশাংসা করলেও
পরোক্ষভাবে মূলতঃ অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। হযরত ইমাম হাসান।
তাদেরকে বুঝাতে চাইলেন যে, এ রাজত্বের জন্য তোমাদেরকে কতল করা হোক
তা আমার কাছে বরদাশত হবে না। তাই খিলাফত ছেড়ে দিলাম। অতঃপর হযরত
ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফা ত্যাগ করেন এবং মদীনায়ে তাইয়্যেবাহ
বসবাস শুরু করেন। এদিকে হযরত আমিরে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহর পক্ষ
থেকে ইমাম
হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রাপ্য ভাতা পৌছুতে কিছুটা দেরি
হয়ে যায়। ফলে তিনি দরিদ্রতার মুখোমুখি হন। ফলে এ ব্যাপারে হযরত আমীরে
মুয়াবিয়ার কাছে ‘অভিযোগ পত্র পাঠানোর ইচ্ছা করেন। এমনকি পত্র লেখার জন্য
কালিও সরবরাহ করেন। কিন্তু পরিশেষে কি যেনো ভেবে থেমে গেলেন। হুজুরে
পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হাসানকে স্বপ্নে দীদার দিলেন।
নবীজী অবস্থার কথা জানতে চাইলেন। বললেন, হে প্রিয় বৎস। কী অবস্থা হযরত
হাসান বললেন , আলহামদুলিল্লাহ। ভালো আছি। অতপর প্রাপ্য ভাতার বিলম্ব
হওয়া প্রসঙ্গে অভিযোগও করলেন। নবীজী বললেন, হে হাসান তুমি কালিএনেছিলে এমন একজন মাখলুকের কাছে স্বীয় কষ্টের কথা জানিয়ে অভিযোগ
করতে, যে কিনা তোমারই মত একজন । মাখলুক। হযরত হাসান বললেন ইয়া
রাসুল্লাল্লাহু! আমি মাজবুর ছিলাম। কীইবা করার আছে। রাহমাতুলি আলামীন।
বললেন, এ দোআটি পাঠ করো-
اللهم افذف فی قلبی رجاءك واقطع رجاءی عمن سواك حتی لا ارجوا احدا غيرك اللهم وما ضعفت عنه قوتی وقصرعنه عملی ولم نته اليه رغبتی ولم تبلغه مسءلتیولم يحر علی لسانی مما اعطيت من الاولين والاخرين من اليقين تخصنی به يارب العالمين

অনুবাদ: হে আল্লাহ। আমার হৃদয়ে তোমার কামনা ঢেলে দাও । তুমি ব্যতিত ।
আমার কামনাকে বিচ্ছিন্ন করে দাও। যাতে তুমি ছাড়া কারো কাছেই আমার কামনা
যেন না রাখতে পারি। হে প্রতিপালক। তার সাথেই আমাকে খাস করো যা দ্বারা
আমার শক্তি দূর্বল হয়ে যায়, আমার আমল ভ্রাতর হয়ে যায় এবং যে পর্যন্ত
আমার আগ্রহ, আমার হাতপাতা না পৌছে। আমার মুখে তা যেনো জারী না হয়।
ভূমি পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীদের মধ্য থেকে যাকেই দিয়েছ, হে প্রতিপালক। তুমি।
আমাকে তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর।
হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ দোয়াটি পাঠান্তে এক সপ্তাহ
অতিক্রান্ত হয়নি। হযরত আমীরে মুয়াবিয়া আমার কাছে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার।
তোহফা পাঠিয়ে দিলেন। আমি মহান আল্লাহর হামদু-সানা আদায়
করলাম এবং তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। অতপর স্বপ্নে পুনঃরায় নবীজিকে
দেখার দৌলত লাভ করি। সরকারে দোআলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে হাসান! কী অবস্থা মহান আল্লাহর শুকর আদায়
করে আমি সম্পূর্ন ঘটনা খুলে বলি। অতঃপর নবীজী ইরশাদ করলেন, হে প্রিয়
বা। যে ব্যক্তি সৃষ্টি থেকে হাত না পেতে শ্ৰষ্টার কাছেই আশা করবে তার কাজ
এমনি করেই পূর্ণ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here