বিষয়- হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত

0
27
views

হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত

হযরত ইবনে সা’দ রাহিমাহুল্লাহ হযরত ইমরান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ত্বালহা
রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, কেউ একজন হযরত ইমাম হাসান
রাদিয়াল্লাহ ,
আনহুকে স্বপ্নে দেখতে পান যে তার দু’চোখের মধ্যখানে ক্বুল
হুওয়াল্লাহু আহাদ” লিখা আছে। তার পরিজন এ ঘটনায় বেশ খুশি হলেন। কিন্তু
যখনি এ স্বপ্নের কথা সাঈদ ইবনে মূসায়্যিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বর্ণনা করা হয়
তখন তিনি বললেন যদি বাস্তবেই এ স্বপ্ন দেখা হয়েছে- তো ইমাম
হাসানের হায়াতের অল্প কিছুদিন বাকী আছে। পরবর্তীতে এ ব্যাখ্যাটিই সত্য হলো
এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ইমাম হাসানকে বিষ প্রয়োগ করা হয়। বিশ্বের
প্রভাবে পেটের যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। তীব্র পাতলা পায়খানা আরম্ভ হয়। পেটের
অভ্যন্তরে প্রতিটি অংশ টুকরো টুকরো হয়ে পাতলা পায়খানার সাথে বের হতে
থাকে। এমন অসহ্য যন্ত্রণায় আরো চল্লিশ দিন কেটে যায়। ওফাত নিকটবর্তী
সময়ে প্রিয় ছোট ভাই হযরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু জানতে চায়লেন
হে বড় ভাই! কে সেই ব্যক্তি যে আপনাকে বিষ দিয়েছে? হযরত হাসান বললেন,
তুমি কি তাকে হত্যা করবে? ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, অবশ্যই
কাতল করবো। হযরত ইমাম আলী মকাম বললেন- যার দিকে আমার সন্দেহের
তীর এবং বাস্তবে সেই যদি হত্যাকারী হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহই প্রকৃত
প্রতিশোধ গ্রহণকারী। তার ধর-পাকড় বড়ই কঠিন হবে। আর যদি সে না হয়ে
থাকে, তো আমি চাইনা আমার কারণে নিরপরাধ কেউ সংকটে পতিত হোক। হে
হুসাইন! আমাকে এর পূর্বেও বিষ দেয়া হয়েছিলো কিন্তু এ বারের বিষ গুলো খুবই
শাক্তিশালী অনুভূত হচ্ছে। হযরত ইমাম হাসানের মরতাবা কতো সু-উচ্চ জানা
নেই, যিনি কঠিন যন্ত্রণায় পতিতনাড়ি-ভুড়ি টুকরো টুকরো বের হয়ে আসছে।
শাহাদাতের আলিঙ্গণ ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে, এতদত্ত্বেও ইনসাফের বাদশাহ স্বীয়
আদালত ও ইনসাফের বরখেলাফ করলেন না। ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টান্তহীন হবার
প্রমাণ রেখে গেলেন। সর্তকতা ও দূরদর্শিতা তাকে অনুমতি দেয়নি যে, যার দিকে
সন্দেহের তীর, তার নাম উল্লেখ করে দেয়া হোক। ঐ সময় হযরত ইমাম হাসান
রাদিয়াল্লাহু আনহুর বয়স ছিল ৪৫ বছর কয়েক মাস কিছু দিন। হিজরীর ৪৯ সনের
৫ রবিউল আউয়াল মদীনা মুনওয়ারাতে অস্থায়ী এ জগত ছেড়ে তিনি চির বিদায়
নিলেন- ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইল্লা ইলাইহি রাজিউন।
ওফাতের সন্নিকট সময়ে হুসাইন রাদিয়াল্লাহ আনহ দেখতে পেলেন
হযরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু দেখতে
যে, মুহতারাম বড় ভাই ইমাম হাসানের অস্থিরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখায়ববে।
বিষন্নতার নির্দশন তীব্রতর হতে চলেছে। এমন নাজুক হালত দেখে ইমাম হুসাইন
রাদিয়াল্লাহ আনহু শান্তনার বারতা শুনালেন। বললেন হে ভাইজান। কেনো । অস্থির
হচ্ছেন? কেনইবা বিষন্নতা প্রকাশ করছেন? আপনাকে মুবারকাবাদ! মুৰারকাদ হে
ভাইজান। অনতিবিলম্বে হুজুরে পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সান্নিধ্যে
আপনি মিলিত হবেন অচিরেই হযরত আলী হযরত খাদীজাহ, মা ফতিমাহ,

হযরত কাসিম, হযরত তালিব এবং হামযাহ ও জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুমের সাথে
আপনার সাক্ষাত হবে। অতএব চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই।
হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে প্ৰিয় হসাইন। আমি এমন কিছু
ব্যাপারে অনুপ্রবেশ করতে যাচ্ছি যা। ইতিপূর্বে করা হয়নি এবং খোদার সৃষ্টির মাঝে
এমন সৃষ্টি দেখতে পাচ্ছি যে সবের সাদৃশ্য ইতিপূর্বে দেখা হয়নি। সে সাথে ইমাম
হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহ, অদূর ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া হৃদয় বিদারক কারবালার
ঘটনা এবং কুফাবাসী ের বদ আচরণনির্যাতনের কথাও বলে দিলেন। ইমাম
হাসানের এ ইরশাদে ম বারক থেকে বুঝা যায়, ঐ সময়েও কারবালার সে ভয়াবহ
রক্তাক্ত দৃশ্য এবং প্রিয় ছোট ইমাম হুসাইনের অসহায়ত্বের নকশাহ চোখের সামনে
ভাসছিলো আর জঘন্য কুফাবাসীর নির্যাতনের ছবি তাকে আরো বিষন্ন করে
তুলছিল। হযরত ইমাম হাসান আরো বললেন, আমি উম্মুল মুমিনিন হযরত
আয়েশাহ সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে আবেদন রেখেছিলাম যে, যেন
আমাকে নানাজানের পবিত্র রওজার পাশেই দাফন করা হয়। তিনি আমার এ
আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তদুপরি যেন আমার ওফাতের পর তার খিদমাতে বিষয়টি
পুনঃরায় আরয করা হয়। তবে আমার মনে হচ্ছে কাওম এ কাজে বাঁধা সৃষ্টি
করবে। যদি তারা সত্যিই বাধা দেয়, তাহলে জবরদস্তির কোন প্রয়োজন নেই।
অতঃপর হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওফাতের পর ওসিয়ত মুতাবেক
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে আবেদন পেশ করা
হয়। মা আয়েশ তা কবুল করে নিলেন। ইরশাদ করলেন, আমি অত্যন্ত
সাম্মান ও মর্যাদ র সাথে কবুল করলাম। কিন্তু ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহ আনহর
ধারণা সত্যে হল। মারওয়ান এ কাজে বাধা সৃষ্টি করলো। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে
পৌছলো যে,শেষ পর্যন্ত হযরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহ আনহু ও তার সঙ্গীদের
হাতিয়ার স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহ আনহু
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি তাদেরকে ইমাম হাসানের ওসিয়াতের কথা স্মরণ
করিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে দিলেন। অবশেষে ফারযানদে রাসুল, জিগারে গুশায়ে বাতুল
হ্যরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহ আনহুকে
জান্নাতুল বাকী শরীফে প্ৰাণ প্ৰিয় জননী
খাতুনে জান্নাত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার পাশে দাফন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here