বিষয়- হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে কূফাবাসীর চিঠি:

0
30
views

হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে কূফাবাসীর চিঠি:

মক্কা শরীফ আগমনের সাথে সাথে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে কূফা থেকে লাগাতার চিঠিপত্র এবং সংবাদ-বাহক আসতে শুরু করলো। অল্প সময়ের মধ্যে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে দেড়শত চিঠি এসে পৌঁছল। উলামায়ে কিরাম-এর কেউ কেউ তাঁদের কিতাবে বারশত চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কিতাবে দেড়শত চিঠির কথা উল্লিখিত হয়েছে। দেড়শত চিঠিই বিশেষ নির্ভরযোগ্য। কারণ সেই যুগে ডাক আদান-প্রদান অত সহজ ছিল না। লোকেরা চিঠি-পত্র, পত্র-বাহকের মাধ্যমে প্রেরণ করতো এবং পত্র-বাহক পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে গন্তব্যস্থানে চিঠি পৌঁছিয়ে দিত। এমতাবস্থায় দেড়শত চিঠি পৌঁছাটা অতটা সহজ ব্যাপার ছিল না।

যা হোক, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে দেড়শত চিঠি পৌঁছেছিল। প্রত্যেক চিঠির বিষয়বস্তু খুবই আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিষয়বস্তুগুলো হচ্ছে এরকম, “হে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমরা আপনার সম্মানিত পিতা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারই অনুসারী এবং আহলে বাইত-এর ভক্ত। আমরাতো হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে সমর্থন করিনি। তাঁর অনুপযুক্ত ছেলে ইয়াযীদকে মানার প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আপনার পিতা হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও আপনার ভাই হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সমর্থনকারী। আমরা ইয়াযীদের অনুসারী নই। ইয়াযীদ এখন তখতারোহন করেছে, কিন্তু আমরা ইয়াযীদকে খলীফা বা ইমাম মানতে পারি না। আপনাকেই বরহক ইমাম, বরহক খলীফা মনে করি। আপনি মেহেরবানী করে কূফায় তাশরীফ আনুন। আমরা আপনার হাতে বাইয়াত করবো এবং আপনাকে খলীফা হিসেবে গ্রহণ করবো। আপনার জন্য আমাদের মাল-জান কুরবান করতে প্রস্তুত এবং আপনার হাতে বাইয়াত করে আপনার অনুসরণে জিন্দেগী অতিবাহিত করতে ইচ্ছুক। তাই আপনি আমাদের কাছে তাশরীফ আনুন। আমাদের প্রতি মেহেরবানী করুন এবং আমাদেরকে আপনার ছোহবতে রেখে আপনার ফয়েজ-বরকত দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন”।

সমস্ত কাবিলা খানদানের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এই ধরণের চিঠি এসেছিল। অনেকেই এই ধরণের চিঠিও লিখেছিল, “হে মহান ইমাম, আপনি যদি আমাদের কাছে না আসেন, আমাদেরকে বাধ্য হয়ে ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত করতে হবে; কারণ সরকারের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাল কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ্ তা’য়ালা যখন জিজ্ঞেস করবেন- কেন আমরা নালায়েক ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম, তখন আমরা পরিস্কার বলব, হে মওলা! আমরা আপনার পেয়ারা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম-এর দৌহিত্রের কাছে চিঠি লিখেছিলাম, সংবাদ পাঠিয়েছিলাম, মাল-জান কুরবানী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তাশরীফ আনেননি এবং আমাদের দাওয়াত গ্রহণ করেননি। তিনি যখন অগ্রাহ্য করলেন, আমরা বাধ্য হয়ে ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত করেছি। তাই হে ইমাম! আপনি স্মরণ রাখবেন, আমাদের এ বাইয়াতের জন্য আপনিই দায়ী হবেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here