বিষয়-হাদিস শরীফ ও নিয়ত

0
37
views

হাদীস ও নিয়াত
নবীপাক সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বাণী, কর্ম, ও মৌন সমর্থনকে হাদীস
বলে। হাদীসেও নিয়াতের উপর খুবই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যেমন
১। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন সমস্ত আমলের নেকী নিয়াতের উপর নিৰ্ভর করে এর প্রত্যেক মানুষের জন্য ওটাই,যার সে নিয়াত করেছে।
যার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসুলের জন্য হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসুলের জন্যেই । আর যার হিজরত দুনিয়া উপার্জন বা কোনো রমনীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তার হিজরত ওর জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত
করেছে। (বোখারী, মুসলিম)

:-এ হাদীস এরশাদের কারণ:-

এর কারণ কী ? ? কোন পরিস্থিতিতে নবীপাক
কখন এবং কেন সাহাবায়ে কেরামের সামনে এরশাদ করলেন,তার ঘটনা খুবই আশ্চর্য ও শিক্ষনীয়।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-এক
মুসলমান রমনী যার নাম কায়লা,সাধারনত লোকে তাকে ‘উম্মে কায়েস’ বলে সম্বোধন করত তাকে এক ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব দিল, উম্মে কায়েস তার উত্তরে বলল যে, যতক্ষন তুমি মক্কা হতে মদীনা হিজরত না করবে,আমি তোমাকে বিবাহ করব না । তখন সে তাকে বিবাহ করার জন্য হিজরত করল ।
সাহাবায়ে কেরামের মাঝে একথা ছড়িয়ে গেল । তখন সাহাবায়ে কিরাম তাকে মুহাজিরে উম্মে কায়েস বলতে আরম্ভ করলেন। আর সে এনামে এত খ্যাত হল যে, তার আসল নাম লোকেরা ভুলেই গেল । (কস্তালানী)
এ সংবাদ নবী পাকের দরবারে পৌছে যাওয়ায় নবীপাক সাল্লাল্লাহো আলাইহে ওয়া সাল্লাম সে ব্যক্তিকে সাবধান ও হেদায়াত করার জন্য মেম্বারে খুৎবার মাঝে এ হাদীস এরশাদ করলেন।
আমলের নেকী নিয়াতের উপর নির্ভর করে। যে ব্যক্তি যে নিয়াতে হিজরত করবে,সে সেটাই পাবে। বোঝা গেল আন্তরিক আমল হোক বা দৈহিক আমল। নির্দেশের উপর আমল হোক বা নিষেধ হতে বিরত থাকা
হোক। এবাদতের আমল হোক বা অভ্যাস গত আমল, সমস্ত আমলের নেকী ঐ সময় পাওয়া যাবে,যখন আমল আল্লাহর নৈকট্যও সন্তুষ্টির নিয়াতে হবে আর যদি কোন আমল তা যতই ভাল হোক না কেন আল্লাহর সন্তুষ্টির
জন্য না করা হয়,বরং লোক দেখানো বা খ্যাতি লাভের নিয়াতে করা হয়, আর সেটা ফরয,ওয়াজিব,সুন্নাত ও মুস্তাহাব হোক না কেন, কখনও তাতে কোন নেকী পাওয়া যাবেনা। বরং ঈমানের ক্ষতি, যেমন
,নামাজ পূর্ন আমল
আল্লাহর সন্তুষ্টি ওতার নৈকট্য লাভ ও খোদার ফরয আদায়ের নিয়াতে পড়া হয়,তবে সুবহানাল্লাহ ! তার বদলা ও সওয়াবের কথা কী বলব ! নুর আলা
নুর, নুরের উপর নুর । কিন্তু এ নামাজই যদি কেউ এ নিয়াতে পড়ে যে,আমাকে লোকে নামাজী বলবে আমার খুব খাতির-সম্মান করবে আর আমার শ্রেষ্ঠত্বের
খুব চর্চা হবে। তবে পরিস্কার যে,এ নামাজ উত্তম এবাদত ছিল কিন্তু তাতে খারাপ নিয়াত বিদ্যমান থাকায় গোনাহর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন নামাজী
আল্লাহর গজব, আজাব ছাড়া কী পেতে পারে ?
মোট কথা একটি ভালো আমল ভালো নিয়াতে ভাল, নেকীর উপযুক্ত,আর
মন্দ নিয়াতে আজাবের উপযুক্ত।
২। হযরত আবু হোরায়রাহ রাদিয়াল্লাহো আনহু হতে বর্ণিত
রাসুলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহো আলাইহে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন কিয়ামতে সর্বপ্রথম যার ফায়সালা হবে,সে শহীদ,তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাকে নিজ অনুগ্রহের কথা স্বীকার করাবেন সে স্বীকার করবে ।
তখন আল্লাহ বলবেন-তুমি এর শুকরিয়ায় কী করেছ ? সে বলবে-তোমার রাস্তায় জেহাদ করেছি।
এমনকী আমাকে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলবেন তুমি। মিথ্যা বললে,তুমি এজন্য জেহাদ করেছ যেন তোমাকে যোদ্ধা বলা হয় তা তোমাকে বলা হয়েছে । অতঃপর নির্দেশ হবে,ফলে তাকে মুখের ভরে টেনে
নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে দেওয়া হবে।
অতঃপর এমন এক ব্যক্তিকে আনা হবে, যে জ্ঞানার্জন করেছে এবং জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছে আর কোরআন পড়েছে। তাকে আল্লাহ নিজ নেয়ামত সমূহের কথা স্বীকার করাবেন,সে স্বীকার করবে। আল্লাহ বলবেন-তার শুকরিয়ায় তুমি কী আমল করেছ ? সে বলবে জ্ঞানার্জন করেছি,জ্ঞানশিক্ষা
দিয়েছি, ও কোরআন পড়েছি। আল্লাহ বলবেন-তুমি মিথ্যা বললে,তুমি এ জন্য এলম অর্জন করেছ,যেন তোমাকে আলেম বলা হয়, কোরআন এ জন্য পড়েছ যেন কারী বলা হয়। তা তো তোমাকে বলা হয়েছে। তার পর নির্দেশ
দেওয়া হবে,তাকে মুখের ভরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে।
অতঃপর ঐ ব্যক্তিকে হাজির করা হবে, যাকে আল্লাহ সামর্থ ও সব রকমের
সম্পদ দান করেছেন । আল্লাহ তাকে নিজ অনুগ্রহের কথা স্বীকার করাবেন,সে স্বীকার করবে । আল্লাহ বলবেন-এর কৃতজ্ঞতায় কী করেছ ? সে বলবে-আমি
এমন কোনো রাস্তায় খরচ করতে বাকি রাখিনি,যাতে তুমি সন্তুষ্ট । আর তোমার
সন্তষ্টির জন্য খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেন তুমি মিথ্যা বললে,তুমি খরচ
করেছ যেন তোমাকে দাতা বলা হয়, তাই তোমাকে বলা হয়েছে।
অতঃপর হুকুম হবে,তাকে মুখের ভরে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। (মেশকাত শরীফ ৩৩পৃঃ
চিন্তা করা দরকার যে.জীবন যেটা

মানুষের সর্বাধিক প্রিয়,শহীদ সেটা
কাফেরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে উৎসর্গ করেদিল । আলিম কোরআন হাদীস শিক্ষা অর্জনে ও শিক্ষাদানে জীবন অতি বাহিত করেদিল ।আর দাতা
মাসজিদ,মাদ্রাসা,আলেম,তালেবে ইলম এবং গরীব মিসকীনের জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করেদিল কিন্তু এ সমস্ত আমলে আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্টি
লাভের নিয়াত না থাকায় ও পার্থিব খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্য থাকায় সব আমল
বৃথা হয়ে গেল । জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হল
৩ । হযরত ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহো আনহু হতে বর্নিত-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহো আলাইহে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য
নামাজ পড়ল সে শিরক করল, আর যে লোক দেখানোর জন্য রোজা রাখল,
সে শিরক করল,আর যে লোক দেখানোর জন্য সাদকাহ করল,সে শিরক
করল। (মেশকাত শরীফ ৪৫৫পৃঃ)
শির্ক দুই প্রকারশিরকে জালী আর শিরকে খাফী। এটা শিরকে খাফী
(গোপনীয়)
৪। হযরত আদুল্লাহ বিন উমার রাদিয়াল্লাহো আনহুমা হতে বর্নিত-রাসুলে পাক স্বাল্লাল্লাহো আলাইহে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি মানুষের
মাঝে নিজ আমলের চর্চা করবে,তো আল্লাহ তাকে লোকেদের মাঝে খ্যাত করে দিবেন। আর তাকে নিকৃষ্ট ও লাঞ্চিত করবেন। (মেশকাত শরীফ
৪৫৪পৃষ্ঠায়)
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক নিয়ত রেখে আমল করার তৌফিক দান করেন আমীন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here