বিষয় – শবে বরাতের মধ্যরাত্রির সম্পর্কে আলোচনা

0
18
views

শবে বরাতের মধ্যরাত্রির সম্পর্কে আলোচনা


হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,তিনি বলেন: এক রাতে আমি রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বিছানা মুবারক-এ না পেয়ে উনার খোজে বের হলাম । অতঃপর আমি উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। আমি দেখলাম সেখানে প্রিয় নবী মাথা মোবারক আসমানের দিকে উততোলন করে আছেন । আমাকে দেখা মাত্র প্রিয় নবীজী বলেন, হে আয়েশা! তুমি কি এই আশংকা করছো যে, আল্লাহ ও তার রাসুল তোমার প্রতি আমানতের খিয়ানত (অবিচার) করবে ? আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা তো আদোও আমার জন্য সমীচীন নয়। আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অপর কোন স্ত্রীর হুজরায় তাশরীফ নিয়েছেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন-নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা শা’বানের পনেরতম রাত্রিতে (শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) প্রথম আসমানে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি কালব গোত্রের বকরীর (মেষের) গায়ে যতো পশম রয়েছে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। (১. ইবনে মাজাহ, ১ম খনড, হাদীস নং-১৩৮৯, ইসমালিক ফাউনডেশন বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত । ২. তিরমিযী । ৩. মেশকাত )
অতএব প্রমাণিত হলো যে, আল কোরআন ও হাদীস শরীফেই শবে বরাতের কথা উল্লেখ আছে। তবে কুরআন শরীফে বরাতের রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ আর হাদীস শরীফে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান’ বলা হয়েছে।
অনেকে বলে থাকে যে, সূরা দুখানের উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে ক্বদরের রাতকে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, “নিশ্চই আমি সেটাকে বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি”। অপরদিকে কুরআন শরীফ যে ক্বদরের রাত্রিতে নাযিল হয়েছে তা ‘সূরায়ে ক্বদরেও’ উল্লেখ আছে। মূলতঃ যারা উপরোক্ত মন্তব্য করে থাকে তারা ‘সূরা দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফ-এর সঠিক ব্যাখ্যা না জানা ও না বুঝার কারণেই করে থাকে। আমি অধম তাদের কাছে জানতে চাই- সুরা দুখানে সে বরকতময় রাতকে সরাসরি ”লাইলাতুল কদর” না বলে ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ বলা হলো কেন ? যদি উততর হয়, আললাহই ভালো জানেন । এখন আমার প্রশনো তাদের কাছে- ”আললাহ পাক সুবহানই যদি ভাল জানবেন তাহলে সুরা দুখানে উললেখিত ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ কে ”লাইলাতুল কদর” হিসাবে চালিয়ে দেওয়ার আপনি কে ? অধিকাংশ জগত বিখ্যাত মুসাসফির, ইমাম,উলামারা সুরা দুখানে উললেখিত ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ কে ”লাইলাতুল কদর” হিসাবে ঘোষণা করেছেন কি না ? এখন তাদের উততর যদি হয়- জগত বিখ্যাত মুসাসফির ও ইমামগণের আর কি দরকার আমরা তো উনাদের চেয়ে কম বুঝি না । আমি অধম তখন তাদের বলতে চাই – আপনারা একটু বেশি বুঝেন বলেই তো আজ মুসলমান তিন কুড়ি তেরো ফেরকায় বিভকতো । কোরআন-হাদিসের বাণি অপব্যাখ্যা করে প্রচার-প্রসার করাই আপনাদের কাজ । মুসলিম সমাজে ফেতনা বাড়ানোই আপনাদের কাজ। কোন বিষয়কে বিতরকীতকরণই আপনাদের কাজ । কোরআন-হাদিসের বানী গুলোর সমননয় করার মতো জ্ঞান আপনাদের নেই।
আসুন এবার আমরা জগত বিখ্যাত মুফাসসিরগণ কি বলেছে জেনে নেই ।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর শিস্য ও স্বাধীনকৃত গোলাম হযরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (আয়াতে বর্ণিত) লাইলাতুম মুবারাকা” হল শা’বান মাসের মধ্য রাত্রি।এ রাতে আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে প্রথম আকাশে (দুনিয়া সংলগ্ন আকাশ) প্রেরণ করেন।তিনি প্রথম আকাশের ফেরেশতাদের কাছে পূর্ণ কোরআন একেবারে লিপিব্ধ করে দিয়েছেন।এই রাতকে মুবারক রাত নামকরণনের কারণ হল-এ রাতে অনেক কল্যাণ ও বরকত রয়েছে।এ রাতে আল্লাহর রহমত নাজিল হয় এবং দোয়া কবুল হয়।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন -আল্লাহ তায়ালা শাবানের পনেরতম রাতে সিদ্ধান্তসমুহ চুড়ান্ত করেন এবং শবে ক্বদরে তা বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের সোপর্দ করেন। (তাফসীরে খাজিন ৪র্থ খণ্ড,পৃষ্ঠাঃ১১২)
মহান আল্লাহ পাক যে ‘সূরা দুখানে বলেন, “নিশ্চই আমি সেটাকে বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি’ এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো, “আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি।”
আর ‘সূরা ক্বদরে’ যে বলেছেন, “আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো, “আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল শুরু করি।” অর্থাত মহান আল্লাহ পাক “লাইলাতুম মুবারকাহ বা শবে বরাতে” কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন আর শবে ক্বদরে তা নাযিল করা শুরু করেন। এজন্যে মুফাসসিরীনে-কেরামগণ শবে বরাতকে ليلة التجويز অর্থাত ‘ফায়সালার রাত।’ আপরদিকে শবে ক্বদরকে ليلة التنفيذ অর্থাৎ ‘জারী করার রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা শবে বরাতে যে সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয় তা ‘সূরা দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফেই উল্লেখ আছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে- “এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজের ফয়সালা দেওয়া হয়। ।”
হাদীছ শরীফেও উক্ত আয়াতাংশের সমর্থন পাওয়া যায়। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি অয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি কি এ রাত তথা শাবানের ১৫তম রজনী সম্পর্কে কিছু জান? তিনি আরজ করলেন এ রাতে কি রয়েছে? রাসুল(দঃ) ইরশাদ করেন, এ রাতে যে সকল বনী আদম জন্মগ্রহন করবে তাদের নাম চূড়ান্ত করা হবে আর যে সকল বনী আদম মৃত্যুবরন করবে তাদের নামও লিপিবদ্ধ করা হবে। এ রাতে তদের পুরো বছরের আমলসমূহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে পেশ করা হবে আর এ রাতে তাদের রিজিক/জিবিকা নির্ধারণ করা হবে। অত:পর আয়েশা রাঃ আরজ করেন, আমার ইমান এই যে আল্লার রহমত ছাড়া কোন সৃষ্টি জান্নাতে প্ররেশ করতে পারবে না..? রাসুল(দঃ) ইরশাদ করেন,নিশ্চই আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত কেও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। তিনি এ বাক্য তিনবার বলেন। অতপর আয়েশা রাঃ আরজ করলেন,আপনিও হে আল্লাহর রসূল (দ)? তখন রাসুল সাঃ নিজের নুরানি হাত আপন নুরানি মাথায় রেখে ইরশাদ করেন,নিশ্চই আমি আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করব। এ বাক্য তিনি তিনবার ইরশাদ করেন। (১. বায়হাক্বী শরীফ-দাওয়াতে কবীর হাদীস নং-৫৩০; এই হাদিসখানা ইমাম বায়হাকি রঃ দাওয়াতে কবীর নামক হাদিস গ্রন্তে রেওয়াত করেছেন । ২. মিশকাত শরীফ, পৃ-১১৫)
হযরত আলী ইবনে আবী তালিব আলাইহিস সালাম হতে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন শাবানের পনেরতম রাত হয়, তখন তোমরা রাতে সালাত আদায় করো এবং দিনে রোজা রাখ। কেননা ঐ দিন সূর্যাস্তের সময় আল্লাহ তা’আলা প্রথম আসমানে তাশরীফ এনে বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন-ক্ষমা প্রার্থনাকারী কে আছ? আমি তাকে ক্ষমা করব। রিজিক আন্বেশনকারী কে আছ ? আমি তাকে রিজিক দিব। অসুস্থ কে আছ ? আমি তাকে সুস্থতা দান করব। এভাবে অন্যান্য বিষয়েও বলতে থাকেন ফজর পর্যন্ত। (১. ইবনে মাজাহ, ১ম খনড, হাদীস নং-১৩৮৮, ইসমালিক ফাউনডেশন বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত । ২. মিশকাত শরীফ-১১৫ পৃঃ)
কাজেই, আল্লাহ পাক সুরা দুখানে যেহেতু বলেন যে, লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতময় রজনীতে সকল কাজের ফায়সালা করা হয় এবং অপরদিকে হাদিস শরীফ হতে দেখতে পাই উনার হাবীব রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও যেহেতু বলছেন যে, বরাতের রজনীতেই সকল বিষয় যেমন- হায়াত, মউত, রিযিক, আমল ইত্যাদি যা কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়ে থাকে তার ফায়সালা করা হয় সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, “সূরা দুখান-এর” উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে বরাতকেই বুঝানো হয়েছে। লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতময় রজনী বলতে শবেবরাতকেই বুঝানো হয়েছে ।
(তথ্যসুত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে ত্ববারী, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে জালালাঈন, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে রুহুল মা’আনী, তাফসীরে ক্বুরতুবী, তাফসীরে দুররে মানসুর, তাফসীরে নাসাফী, তাফসীরে মাজহারী, তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, তাফসীরে সা’বী, তাফসীরে জুমাল, তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে নিসাপুরী]
শবেবরাত নিয়ে আরোও কিছু হাদিস শরিফ দেওয়া হলো । যেসকল হাদিস থেকে জানা যাবে কাদের দোয়া-প্রারথনা শবেবরাতে কবুল হয় এবং কাদেরটা হয় না ;-
হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বরনিত,তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন-নিশ্চই আল্লাহ তা’আলা শাবানের পনেরতম রাতে স্বীয় সৃষ্টির প্রতি কৃপা দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক এবং বিদ্বেষ পোষণকারী(হিংসুক) ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করেন। (ইবনে মাজাহ, ১ম খনড, হাদীস নং-১৩৯০, ইসমালিক ফাউনডেশন বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত )
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন-আল্লাহ তায়ালা শাবানের পনেরতম রাতে স্বীয় সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন এবং মুশরিক,হিংসুক ব্যতীরেকে সবাইকে ক্ষমা করেন। (আততাগরিব, তাবরানী মু’জামুল আউসাত হাদীস নং-৬৭৭৬, শো’আবুল ঈমান হাদীস নং-৩৫৫২)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন এমন পাঁচটি রাত আছে যে রাতগুলোয় দু’আ ফেরত হয়না। ওইগুলো হল-জুমু’আর রাত,রজব মাসের প্রথম রাত,শ’বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত এবং দুই ঈদের রাত অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত। (মুসনাদে আব্দুর রাযযাক, কিতাবুস সিয়াম হাদীস নং-৭৯২৭)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি অয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা শ’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে স্বীয় মাখলুকের প্রতি রহমতের দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। অতঃপর হিংশা বিদ্বেষ পোষণকারী ও অন্যায়ভাবে হত্যাকারী ব্যতীত সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে আহমদ, আত তাগরীব)
হযরত কাসীর বিন মুররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি অয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- শাবানের মধ্য রাত্রিতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুশরিক ও কলহকারী ব্যতীত সকল দুনিয়াবাসীদের ক্ষমা করে দেন। (বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান হাদীস নং-৩৫৫০)
কোরআন হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত এ রাত্রটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করে আসছে কিনতু কিছু ব্যক্তি এ মহিমান্বিত রজনীকে ভিত্তিহীন প্রমানে লেগে আছেন। তারা বলে থাকেন এটা বিদআ’ত?? স্পষ্টভাবে প্রমাণিত একটি বিষয় বিদআ’ত হয় কেমনে?বড়ই পরিতাপের বিষয়,প্রখ্যাত মুফাসসিরে কেরাম,মুহাদ্দিসে কেরাম বিদআ’তি ছিলেন?তারা বহু বছর পূর্বে একটি বিষয় সাব্যস্ত করে গেলেন আর আজকে আমরা মুখের কথায় এটাকে নাজায়েজ- বিদআ’ত ফতোয়া দিলাম। তাহলে কি ইবনে কাসীর,জাফর তাবারী,জালাল উদ্দিন সুয়ূতী,নাসির উদ্দিন আলবানী,আল্লামা নাসাফী,আল্লামা কুরতুবী অথবা হাদীসের ইমামগণ ইমাম তিরমিযী,ইমাম নাসাঈ,ইমাম উবনে মাজাহ,ইমাম আহমদ,ইমাম বায়হাক্বী,ইমাম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ গনের মতো নামকরা লোকজন ভুল পথে ছিলেন? কুরআন হাদীস কম জানতেন? আর আমরা যারা তাদের লিখিত কিতাবসমুহ অধ্যয়ন করে বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদ!হলাম,আমরা বেশি জানি?
ঈমানদার! মুসলমান ভাই-বোনেরা লায়লাতুল বরাত সম্পর্কিত কুরআন হাদীসের দলীলগুলোর দিকে নজর দিন। প্রশ্ন তোলা হয় শবেবরাত কি কোরআন দ্বারা সাব্যস্ত?এ কি কোন যৌক্তিক কথা?সব যে কোরআন দ্বারা সাব্যস্ত এমনটা তো নয়, যেমন ঈদুল ফিতরের নামাজ,যা হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। এক্ষেত্রে তো কেও প্রশ্ন তোলে না। এ কথা সবাই ভাল করেই জানে যে শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত করার জন্য ৪টি বিষয়ের উপস্থিতি থাকা চাই,কুরআন,হাদীস,ইজমা,ক্বিয়াস। এরপরও কেও কি অস্বীকার করতে চাইবেন? সুরা দুখানের ওই আয়াত শবে বরাত এর দলীল না শবে ক্বদরের দলীল এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। কেও এ দ্বারা শবে বরাতকে অস্বীকার করেননি, বরং এর পক্ষে বলেছেন হাদীস শরীফই তার প্রমান। কেউ কেউ বলে থাকেন যে,শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিসগুলো দুর্বল(জয়ীফ)। হাদীস কখনো দুর্বল হয় না বরং;হাদীসের সনদ দুর্বল হয় যা কিনা অন্য সনদ দ্বারাও দূর হয়ে যায়। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী শবে বরাতের হাদিসগুলোর মধ্যে ২টিকে সহীহ, ৩টিকে হাসান ও ৪টিকে হসান লিগায়রিহী বলে উল্লেখ করেছেন। কোন বিষয়কে সাব্যস্ত করার জন্য কি একটি সহীহ হাদিস বা একটি হাসান হাদিস হলেই যথেষ্ট নয় কি? এ সত্বেও ফাজায়েলের জন্য জয়ীফ হাদীস দ্বারাও আমল সাব্যস্ত হয় এটা মুত্তাফিকুন আলাইহি ক্বায়েদা। যদি এর বিপরিতে কোন হাদীস না থাকে।
হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য জানার ও বুঝার তৌফিক দিন। পবিত্র লায়লাতুল বরাতের মত এক পুন্যময়,মুক্তির রজনীতে ইবাদত, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ, দান-ছদক্বা, রোজা রাখার তাওফিক দিন। আমিন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here