0
24
views

মুহররম মাসের দশম তারিখ ও আমাদের করণীয়

মুহররম মাসের দশম তারিখ ও আমাদের করণীয় আমল সমূহ

NekborAli 

শটে


মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে ইয়াওমু বা

আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও

তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে

আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা।

ইতিহাসের বর্ণনার মতে –

(১) আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহররম মাসের

দশ তারিখে।

(২) পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম).কে সৃষ্টি

করা হয়েছে এই তারিখে।

(৩) এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায়

পাঠানো হয় এবং সাড়ে তিনশত বছর পর্যন্ত কান্নাকাটির

পর এই তারিখেই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল।

(৪) হযরত নূহ (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর জুদী

পর্বতে অবতরণ করেছিল এদিনেই।

(৫) হযরত ইবরাহিম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) কে আগুনে নিক্ষেপ এবং

সে আগুনকে শান্তিময় পুষ্পকাননে পরিণত করা

হয়েছিল আশুরার দিনে।

(৬) এ দিনে হযরত ইউনুছ (আলায়হিওাসাল্লাল্লাম) মাছের পেট

থেকে বেরিয়ে আসেন।

(৭) দাম্বিক, জালিম খোদাদ্রোহী ফেরাউনের

কবল থেকে নবী মুসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) ও বণি ইসরাইলের

মুক্তি লাভ এবং ফেরাউনের সলীল সমাধি হয়েছিল

এই আশুরার দিনে।

(৮) হযরত আইয়ুব (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে এ

দিনে আরোগ্য লাভ করেছিলেন।

(৯) এদিনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). কে

উর্দ্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।

(১০) এদিনেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী কারবালার প্রান্তরে

হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন।

(১১) কিয়ামত দিবসও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।

এসব কারণে মুসলিম সমাজে এদিবসটির গুরুত্ব ও

তাৎপর্য অত্যধিক।

আশুরার দিন আমাদের করণীয়ঃ

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনে অতীতের

অনেক দাম্বিক জালিমশাহী ও কাফেরের সূচনীয়

পরাজয় হয়েছে এবং হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম

শত্রুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এর

শুকরিয়া হিসেবে তাঁরা এদিনে রোযা রাখতেন।

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). ও আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন

এবং সাহাবাগণকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনটি ইহুদিদের জন্য মুক্তির কারণ হওয়ায় তারাও রোযা

রাখতো। তাই ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম)সাহাবাদেরকে আশুরার আগে বা পরে মিলিয়ে

দু’টি রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারির বর্ণনা মতে রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার

পূর্বে উম্মতের ওপর আশুরার রোযা ফরজ ছিল।

তারপর রমযানের রোযা ফরজ হলে এদিনের

রোযা নফলে পরিণত হয়। [বুখারি-২৬৮]

কিন্তু আশুরার রোযা নফল হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব

কমে যায়নি।

আশুরার রোযার ফযিলতঃ

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). বলেছেন, রমযানের রোযার পরে

সর্বোত্তম রোযা হলো আশুরার রোযা।

নবীজি (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). আরও বলেছেন, আমি আশা রাখি যে,

আশুরার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা

পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

[মিশকাত শরিফ-১৭৯]

উলামায়ে কেরাম বলেন, গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ

উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য তাওবা

করা আবশ্যক। তবে যদি রোযা রাখার সাথে সাথে

তাওবা-ইস্তিগফারও করা হয় তাহলে সগীরা,ও কবীরা

সব গুনাহ মাফের আশা করা যায়।

আশুরার দিন আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারঃ

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানান

ধরনেরকুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। মুহররম মাসকে

শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। হযরত হুসাইন(রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু)এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মুর্সিয়া ও মাতম করা

হয়। ইয়া আলী, ইয়া হুসাইন বলে চিৎকার ও বুক

চাপড়ানো হয়। মূলত শিয়াদের রাফেজি সম্প্রদায় যারা

হযরত আলীর রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর অতি ভক্তির দাবিদার এগুলো

আবিস্কার করেছে। তাদের দেখাদেখি দীন-

শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এক শ্রেণির মুসলমান

আশুরা দিবসটিকে বিচিত্র সব অনুষ্ঠান পালনের

মাধ্যমে উদযাপন করে। আশুরাকে তারা কারবালা

বানিয়ে ফেলে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বরণ

করে কল্পনাপ্রসূত তাজিয়া, পতাকা, দুলদুল ইত্যাদির

আকৃতি তৈরী করে এবং এগুলো নিয়ে

জাকজমকের সাথে মিছিল বের করে। আশুরা

এলেই তারা কারবালার শাহাদতের কাহিনী পাঠ করে

আহাজারি করতে থাকে। শরীয়তে এসব কাজ

সম্পূর্ণ গর্হিত ও বিদআত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম এবং

সাহাবাদের যুগে এসব ছিল না। আশুরা দিবসে

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মনোভাব সৃষ্টি

করতে হবে। কেননা পূর্ববর্তী মুমিন ও

পয়গম্বরের প্রতি আল্লাহ পাকের অনুকম্পা ও

নেয়ামত প্রকারান্তরে আমাদের জন্যও নেয়ামত।

এ দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এবং সাহাবায়ে

কেরাম রা. এ দিনে রোযা রেখেছেন।

নেয়ামতের দিনকে শোকের দিবসে রুপান্তর করা

দ্বীনকে বিকৃত করার শামিল। এভাবে চলতে

থাকলে পরবর্তী প্রজন্মরা মনে করবে আশুরা

মানে কারবালা।

আশুরা মানে কি কারবালা?

আমাদের সমাজে অনেকে মনে করে

কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার তাৎপর্য। অথচ

এ কথা বাস্তব যে, আশুরার পবিত্র দিবসটি শুধুমাত্র

হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু ও আহলে বাইতের কারবালার

প্রান্তরে শাহাদত বরণের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও

তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠেনি। বরং আল্লাহ তাআলা হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর শাহাদতের জন্য এমন একটি মুবারক দিবস

নির্বাচিত করেছেন, যে দিবসটির সাথে ইতিহাসের

বহু পূণ্যময় ঘটনা জড়িত। এতে তাঁর শাহাদতের মর্যাদা

বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৈকি। কিন্তু ইসলামের

দৃষ্টিতে কোনো দিবসের মূল্যায়ন সেভাবেই

করতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাহিওয়াসাল্লাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.

যেভাবে করে গেছেন। কারো মৃত্যুতে বা

শাহাদতে শোক পালন যদি শরীয়তে অনুমদিত

হতো, তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর ওয়াফাতের দিনটি

মুসলিম সম্প্রদায় শোক দিবস হিসেবে পালন

করতো। কিন্তু এমনটি হযরত সাহাবায়ে কেরাম

করেননি।

বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া কারবালার শিক্ষা নয়ঃ

কারবালার প্রান্তরে নবীপরিবারের হৃদয়বিদারক শাহাদত

নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের

জন্য বেদনাদায়ক। তবে একথাও ঠিক যে, হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর শাহাদাতে আমাদের জন্য রয়েছে

অনুপম আর্দশ ও শিক্ষা। সে শিক্ষা নারী-পুরুষ

একত্রে বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া নয়। হায়

হোসেন, ইয়া আলী বলে আহাজারি নয়; বরং তিনি

যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে ইয়াজিদের জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

করেছিলেন, আমাদেরকেও জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে সত্যের পথে সংগ্রাম করতে হবে। হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. নবীজি সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর রেখে যাওয়া দ্বীনকে

অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে

এবং খেলাফতকে নববী তরীকায় বহাল রাখার আশা

বুকে নিয়ে মদীনা থেকে মক্কা এবং মক্কা

থেকে কূফায় গমন করেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদ

বাহিনীর বাধার সম্মুখিন হন এবং ইয়াজিদের খেলাফত

মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি তা অস্বীকার

করেন। তারপর তিনি পরিবার-পরিজনসহ তাদের

মুকাবেলা করতে করতে শাহাদাতের সূরা পান

করেন।

সত্য প্রতিষ্টার জন্য শাহাদতই হল কারাবালার শিক্ষাঃ

হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) এই ত্যাগ ও আত্মদান আমাদেরকে এই

শিক্ষাই প্রদান করে যে, বাতিল যতই প্রতাপশালী

হোক না কেন, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে

দেয়া যাবে না। আজও তাঁর শহীদি আত্মা চিরন্তন

সত্যের কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে বিশ্ব

মুসলিমকে আহবান জানাচ্ছে জীবনের মায়া

ছেড়ে সত্যের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।

সুতরাং আজকের যুব সমাজ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর

আত্মত্যাগী প্রেরণা বুকে ধারণ করে তাগুতী

শক্তির বিরুদ্ধে বাধার প্রাচির হয়ে দাঁড়াতে পারে,

তাহলেই হযরত হুসাইনের শাহাদতের সঠিক মূল্যায়ন

হবে। এবং শান্তি পাবে শুহাদায়ে কারবালার জীবন্ত

আত্মা। হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগ যুগে যুগে

সত্যের পথে অবিচল থাকার পেরণা যুগাবে। কারবালা

ট্রাজেডি পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার

জন্য এ পথের সৈনিকদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে

সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও চেতনার সমুজ্জল

মশাল হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আল্লাহ পাক

আমাদের কারবালার প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা গ্রহণ

করার তাওফিক দান করুন।(আমিন)

viset করুন www.sunniduniya.in এ

 0  0  0 1

FB_IMG_1506048167506-picsay.jpg57.5K

Comments

Options

NekborAli 

September 2017

পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم.

অর্থ : “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان.

অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار

অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়।

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত উনাদের হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-

১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم.

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله.

অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود.

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল কর।” (তিরমিযী শরীফ)

২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!

৩। পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته

অর্থ : “যে ব্যক্তি আশূরা উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি)

৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।”

৬। চোখে (ইসমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم.

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (মাক্বাছিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা সাবাত বিস্সুন্নাহ্)

৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং এর মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-

viset করুন islamic siet sunniduniya.in এ

Options

NekborAli 

September 2018

সুবহানাল্লাহ

Leave a Comment

BoldItalic

Format

Emoji

Attach file

Attach image

HOME MASAYEL PREVIEW SAVE DRAFT 

Saddam Hossain

NEW DISCUSSION

Quick Links

CategoriesRecent DiscussionsActivityMy Bookmarks67My Discussions562My Drafts56

Categories

1.2KAll Categories2Mufti Ali Hussain16Mufti Amjad Hussain Simnani13Huzur Jamal-E-Millat28Mufti Nurul Arefin Razvi Al-Azhari52Videos Bangla2Mufti Sahar Yaar Raza40HQM Ziyaul Mustafa Noori Razvi2Mufti Alimuddin Razvi1Mufti Zubair Hossain Mujaddedi30Audios Bangla7সুন্নী জগৎ পত্রিকা70Books urdu97Masayel52Images13Apps360Books Bangla89Videos Urdu30Audios Urdu206General

©2017-2019 Sunni Duniya Team,help@sunniduniya.in,Developer EarnMB.in

DISCUSSIONS INBOX SADDAM HOSSAIN MENU SIGN OUT

الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).

Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

Bookmark 

মুহররম মাসের দশম তারিখ ও আমাদের করণীয় আমল সমূহ

NekborAli 

September 2017   in Masayel


মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে ইয়াওমু বা

আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও

তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে

আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা।

ইতিহাসের বর্ণনার মতে –

(১) আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহররম মাসের

দশ তারিখে।

(২) পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম).কে সৃষ্টি

করা হয়েছে এই তারিখে।

(৩) এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায়

পাঠানো হয় এবং সাড়ে তিনশত বছর পর্যন্ত কান্নাকাটির

পর এই তারিখেই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল।

(৪) হযরত নূহ (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর জুদী

পর্বতে অবতরণ করেছিল এদিনেই।

(৫) হযরত ইবরাহিম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) কে আগুনে নিক্ষেপ এবং

সে আগুনকে শান্তিময় পুষ্পকাননে পরিণত করা

হয়েছিল আশুরার দিনে।

(৬) এ দিনে হযরত ইউনুছ (আলায়হিওাসাল্লাল্লাম) মাছের পেট

থেকে বেরিয়ে আসেন।

(৭) দাম্বিক, জালিম খোদাদ্রোহী ফেরাউনের

কবল থেকে নবী মুসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) ও বণি ইসরাইলের

মুক্তি লাভ এবং ফেরাউনের সলীল সমাধি হয়েছিল

এই আশুরার দিনে।

(৮) হযরত আইয়ুব (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে এ

দিনে আরোগ্য লাভ করেছিলেন।

(৯) এদিনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). কে

উর্দ্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।

(১০) এদিনেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী কারবালার প্রান্তরে

হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন।

(১১) কিয়ামত দিবসও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।

এসব কারণে মুসলিম সমাজে এদিবসটির গুরুত্ব ও

তাৎপর্য অত্যধিক।

আশুরার দিন আমাদের করণীয়ঃ

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনে অতীতের

অনেক দাম্বিক জালিমশাহী ও কাফেরের সূচনীয়

পরাজয় হয়েছে এবং হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম

শত্রুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এর

শুকরিয়া হিসেবে তাঁরা এদিনে রোযা রাখতেন।

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). ও আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন

এবং সাহাবাগণকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনটি ইহুদিদের জন্য মুক্তির কারণ হওয়ায় তারাও রোযা

রাখতো। তাই ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম)সাহাবাদেরকে আশুরার আগে বা পরে মিলিয়ে

দু’টি রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারির বর্ণনা মতে রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার

পূর্বে উম্মতের ওপর আশুরার রোযা ফরজ ছিল।

তারপর রমযানের রোযা ফরজ হলে এদিনের

রোযা নফলে পরিণত হয়। [বুখারি-২৬৮]

কিন্তু আশুরার রোযা নফল হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব

কমে যায়নি।

আশুরার রোযার ফযিলতঃ

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). বলেছেন, রমযানের রোযার পরে

সর্বোত্তম রোযা হলো আশুরার রোযা।

নবীজি (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). আরও বলেছেন, আমি আশা রাখি যে,

আশুরার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা

পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

[মিশকাত শরিফ-১৭৯]

উলামায়ে কেরাম বলেন, গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ

উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য তাওবা

করা আবশ্যক। তবে যদি রোযা রাখার সাথে সাথে

তাওবা-ইস্তিগফারও করা হয় তাহলে সগীরা,ও কবীরা

সব গুনাহ মাফের আশা করা যায়।

আশুরার দিন আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারঃ

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানান

ধরনেরকুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। মুহররম মাসকে

শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। হযরত হুসাইন(রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু)এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মুর্সিয়া ও মাতম করা

হয়। ইয়া আলী, ইয়া হুসাইন বলে চিৎকার ও বুক

চাপড়ানো হয়। মূলত শিয়াদের রাফেজি সম্প্রদায় যারা

হযরত আলীর রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর অতি ভক্তির দাবিদার এগুলো

আবিস্কার করেছে। তাদের দেখাদেখি দীন-

শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এক শ্রেণির মুসলমান

আশুরা দিবসটিকে বিচিত্র সব অনুষ্ঠান পালনের

মাধ্যমে উদযাপন করে। আশুরাকে তারা কারবালা

বানিয়ে ফেলে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বরণ

করে কল্পনাপ্রসূত তাজিয়া, পতাকা, দুলদুল ইত্যাদির

আকৃতি তৈরী করে এবং এগুলো নিয়ে

জাকজমকের সাথে মিছিল বের করে। আশুরা

এলেই তারা কারবালার শাহাদতের কাহিনী পাঠ করে

আহাজারি করতে থাকে। শরীয়তে এসব কাজ

সম্পূর্ণ গর্হিত ও বিদআত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম এবং

সাহাবাদের যুগে এসব ছিল না। আশুরা দিবসে

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মনোভাব সৃষ্টি

করতে হবে। কেননা পূর্ববর্তী মুমিন ও

পয়গম্বরের প্রতি আল্লাহ পাকের অনুকম্পা ও

নেয়ামত প্রকারান্তরে আমাদের জন্যও নেয়ামত।

এ দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এবং সাহাবায়ে

কেরাম রা. এ দিনে রোযা রেখেছেন।

নেয়ামতের দিনকে শোকের দিবসে রুপান্তর করা

দ্বীনকে বিকৃত করার শামিল। এভাবে চলতে

থাকলে পরবর্তী প্রজন্মরা মনে করবে আশুরা

মানে কারবালা।

আশুরা মানে কি কারবালা?

আমাদের সমাজে অনেকে মনে করে

কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার তাৎপর্য। অথচ

এ কথা বাস্তব যে, আশুরার পবিত্র দিবসটি শুধুমাত্র

হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু ও আহলে বাইতের কারবালার

প্রান্তরে শাহাদত বরণের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও

তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠেনি। বরং আল্লাহ তাআলা হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর শাহাদতের জন্য এমন একটি মুবারক দিবস

নির্বাচিত করেছেন, যে দিবসটির সাথে ইতিহাসের

বহু পূণ্যময় ঘটনা জড়িত। এতে তাঁর শাহাদতের মর্যাদা

বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৈকি। কিন্তু ইসলামের

দৃষ্টিতে কোনো দিবসের মূল্যায়ন সেভাবেই

করতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাহিওয়াসাল্লাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.

যেভাবে করে গেছেন। কারো মৃত্যুতে বা

শাহাদতে শোক পালন যদি শরীয়তে অনুমদিত

হতো, তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর ওয়াফাতের দিনটি

মুসলিম সম্প্রদায় শোক দিবস হিসেবে পালন

করতো। কিন্তু এমনটি হযরত সাহাবায়ে কেরাম

করেননি।

বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া কারবালার শিক্ষা নয়ঃ

কারবালার প্রান্তরে নবীপরিবারের হৃদয়বিদারক শাহাদত

নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের

জন্য বেদনাদায়ক। তবে একথাও ঠিক যে, হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর শাহাদাতে আমাদের জন্য রয়েছে

অনুপম আর্দশ ও শিক্ষা। সে শিক্ষা নারী-পুরুষ

একত্রে বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া নয়। হায়

হোসেন, ইয়া আলী বলে আহাজারি নয়; বরং তিনি

যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে ইয়াজিদের জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

করেছিলেন, আমাদেরকেও জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে সত্যের পথে সংগ্রাম করতে হবে। হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. নবীজি সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর রেখে যাওয়া দ্বীনকে

অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে

এবং খেলাফতকে নববী তরীকায় বহাল রাখার আশা

বুকে নিয়ে মদীনা থেকে মক্কা এবং মক্কা

থেকে কূফায় গমন করেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদ

বাহিনীর বাধার সম্মুখিন হন এবং ইয়াজিদের খেলাফত

মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি তা অস্বীকার

করেন। তারপর তিনি পরিবার-পরিজনসহ তাদের

মুকাবেলা করতে করতে শাহাদাতের সূরা পান

করেন।

সত্য প্রতিষ্টার জন্য শাহাদতই হল কারাবালার শিক্ষাঃ

হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) এই ত্যাগ ও আত্মদান আমাদেরকে এই

শিক্ষাই প্রদান করে যে, বাতিল যতই প্রতাপশালী

হোক না কেন, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে

দেয়া যাবে না। আজও তাঁর শহীদি আত্মা চিরন্তন

সত্যের কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে বিশ্ব

মুসলিমকে আহবান জানাচ্ছে জীবনের মায়া

ছেড়ে সত্যের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।

সুতরাং আজকের যুব সমাজ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর

আত্মত্যাগী প্রেরণা বুকে ধারণ করে তাগুতী

শক্তির বিরুদ্ধে বাধার প্রাচির হয়ে দাঁড়াতে পারে,

তাহলেই হযরত হুসাইনের শাহাদতের সঠিক মূল্যায়ন

হবে। এবং শান্তি পাবে শুহাদায়ে কারবালার জীবন্ত

আত্মা। হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগ যুগে যুগে

সত্যের পথে অবিচল থাকার পেরণা যুগাবে। কারবালা

ট্রাজেডি পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার

জন্য এ পথের সৈনিকদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে

সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও চেতনার সমুজ্জল

মশাল হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আল্লাহ পাক

আমাদের কারবালার প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা গ্রহণ

করার তাওফিক দান করুন।(আমিন)

viset করুন www.sunniduniya.in এ

 0  0  0  1

FB_IMG_1506048167506-picsay.jpg57.5K

Comments

Options

NekborAli 

September 2017

পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم.

অর্থ : “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان.

অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار

অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়।

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত উনাদের হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-

১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم.

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله.

অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود.

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল কর।” (তিরমিযী শরীফ)

২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!

৩। পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته

অর্থ : “যে ব্যক্তি আশূরা উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি)

৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।”

৬। চোখে (ইসমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم.

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (মাক্বাছিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা সাবাত বিস্সুন্নাহ্)

৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং এর মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-

viset করুন islamic siet sunniduniya.in এ

Options

NekborAli 

September 2018

সুবহানাল্লাহ

Leave a Comment

BoldItalic

Format

Emoji

Attach file

Attach image

HOME MASAYEL PREVIEW SAVE DRAFT 

Saddam Hossain

NEW DISCUSSION

Quick Links

CategoriesRecent DiscussionsActivityMy Bookmarks67My Discussions562My Drafts56

Categories

1.2KAll Categories2Mufti Ali Hussain16Mufti Amjad Hussain Simnani13Huzur Jamal-E-Millat28Mufti Nurul Arefin Razvi Al-Azhari52Videos Bangla2Mufti Sahar Yaar Raza40HQM Ziyaul Mustafa Noori Razvi2Mufti Alimuddin Razvi1Mufti Zubair Hossain Mujaddedi30Audios Bangla7সুন্নী জগৎ পত্রিকা70Books urdu97Masayel52Images13Apps360Books Bangla89Videos Urdu30Audios Urdu206General

©2017-2019 Sunni Duniya Team,help@sunniduniya.in,Developer EarnMB.in

ShareThis Copy and Paste

DISCUSSIONS INBOX SADDAM HOSSAIN MENU SIGN OUT الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম). Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon. Bookmark মুহররম মাসের দশম তারিখ ও আমাদের করণীয় আমল সমূহ NekborAli September 2017 in Masayel মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে ইয়াওমু বা আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা। ইতিহাসের বর্ণনার মতে – (১) আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহররম মাসের দশ তারিখে। (২) পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম).কে সৃষ্টি করা হয়েছে এই তারিখে। (৩) এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং সাড়ে তিনশত বছর পর্যন্ত কান্নাকাটির পর এই তারিখেই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল। (৪) হযরত নূহ (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর জুদী পর্বতে অবতরণ করেছিল এদিনেই। (৫) হযরত ইবরাহিম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) কে আগুনে নিক্ষেপ এবং সে আগুনকে শান্তিময় পুষ্পকাননে পরিণত করা হয়েছিল আশুরার দিনে। (৬) এ দিনে হযরত ইউনুছ (আলায়হিওাসাল্লাল্লাম) মাছের পেট থেকে বেরিয়ে আসেন। (৭) দাম্বিক, জালিম খোদাদ্রোহী ফেরাউনের কবল থেকে নবী মুসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) ও বণি ইসরাইলের মুক্তি লাভ এবং ফেরাউনের সলীল সমাধি হয়েছিল এই আশুরার দিনে। (৮) হযরত আইয়ুব (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে এ দিনে আরোগ্য লাভ করেছিলেন। (৯) এদিনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). কে উর্দ্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। (১০) এদিনেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী কারবালার প্রান্তরে হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন। (১১) কিয়ামত দিবসও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। এসব কারণে মুসলিম সমাজে এদিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক। আশুরার দিন আমাদের করণীয়ঃ ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনে অতীতের অনেক দাম্বিক জালিমশাহী ও কাফেরের সূচনীয় পরাজয় হয়েছে এবং হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম শত্রুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এর শুকরিয়া হিসেবে তাঁরা এদিনে রোযা রাখতেন। মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). ও আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন এবং সাহাবাগণকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দিনটি ইহুদিদের জন্য মুক্তির কারণ হওয়ায় তারাও রোযা রাখতো। তাই ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম)সাহাবাদেরকে আশুরার আগে বা পরে মিলিয়ে দু’টি রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। বুখারির বর্ণনা মতে রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার পূর্বে উম্মতের ওপর আশুরার রোযা ফরজ ছিল। তারপর রমযানের রোযা ফরজ হলে এদিনের রোযা নফলে পরিণত হয়। [বুখারি-২৬৮] কিন্তু আশুরার রোযা নফল হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব কমে যায়নি। আশুরার রোযার ফযিলতঃ মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). বলেছেন, রমযানের রোযার পরে সর্বোত্তম রোযা হলো আশুরার রোযা। নবীজি (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). আরও বলেছেন, আমি আশা রাখি যে, আশুরার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। [মিশকাত শরিফ-১৭৯] উলামায়ে কেরাম বলেন, গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য তাওবা করা আবশ্যক। তবে যদি রোযা রাখার সাথে সাথে তাওবা-ইস্তিগফারও করা হয় তাহলে সগীরা,ও কবীরা সব গুনাহ মাফের আশা করা যায়। আশুরার দিন আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারঃ আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানান ধরনেরকুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। মুহররম মাসকে শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। হযরত হুসাইন(রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু)এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মুর্সিয়া ও মাতম করা হয়। ইয়া আলী, ইয়া হুসাইন বলে চিৎকার ও বুক চাপড়ানো হয়। মূলত শিয়াদের রাফেজি সম্প্রদায় যারা হযরত আলীর রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর অতি ভক্তির দাবিদার এগুলো আবিস্কার করেছে। তাদের দেখাদেখি দীন- শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এক শ্রেণির মুসলমান আশুরা দিবসটিকে বিচিত্র সব অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে উদযাপন করে। আশুরাকে তারা কারবালা বানিয়ে ফেলে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বরণ করে কল্পনাপ্রসূত তাজিয়া, পতাকা, দুলদুল ইত্যাদির আকৃতি তৈরী করে এবং এগুলো নিয়ে জাকজমকের সাথে মিছিল বের করে। আশুরা এলেই তারা কারবালার শাহাদতের কাহিনী পাঠ করে আহাজারি করতে থাকে। শরীয়তে এসব কাজ সম্পূর্ণ গর্হিত ও বিদআত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম এবং সাহাবাদের যুগে এসব ছিল না। আশুরা দিবসে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। কেননা পূর্ববর্তী মুমিন ও পয়গম্বরের প্রতি আল্লাহ পাকের অনুকম্পা ও নেয়ামত প্রকারান্তরে আমাদের জন্যও নেয়ামত। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. এ দিনে রোযা রেখেছেন। নেয়ামতের দিনকে শোকের দিবসে রুপান্তর করা দ্বীনকে বিকৃত করার শামিল। এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী প্রজন্মরা মনে করবে আশুরা মানে কারবালা। আশুরা মানে কি কারবালা? আমাদের সমাজে অনেকে মনে করে কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার তাৎপর্য। অথচ এ কথা বাস্তব যে, আশুরার পবিত্র দিবসটি শুধুমাত্র হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু ও আহলে বাইতের কারবালার প্রান্তরে শাহাদত বরণের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠেনি। বরং আল্লাহ তাআলা হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর শাহাদতের জন্য এমন একটি মুবারক দিবস নির্বাচিত করেছেন, যে দিবসটির সাথে ইতিহাসের বহু পূণ্যময় ঘটনা জড়িত। এতে তাঁর শাহাদতের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৈকি। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো দিবসের মূল্যায়ন সেভাবেই করতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাহিওয়াসাল্লাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. যেভাবে করে গেছেন। কারো মৃত্যুতে বা শাহাদতে শোক পালন যদি শরীয়তে অনুমদিত হতো, তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর ওয়াফাতের দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় শোক দিবস হিসেবে পালন করতো। কিন্তু এমনটি হযরত সাহাবায়ে কেরাম করেননি। বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া কারবালার শিক্ষা নয়ঃ কারবালার প্রান্তরে নবীপরিবারের হৃদয়বিদারক শাহাদত নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের জন্য বেদনাদায়ক। তবে একথাও ঠিক যে, হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর শাহাদাতে আমাদের জন্য রয়েছে অনুপম আর্দশ ও শিক্ষা। সে শিক্ষা নারী-পুরুষ একত্রে বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া নয়। হায় হোসেন, ইয়া আলী বলে আহাজারি নয়; বরং তিনি যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইয়াজিদের জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন, আমাদেরকেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যের পথে সংগ্রাম করতে হবে। হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. নবীজি সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর রেখে যাওয়া দ্বীনকে অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে এবং খেলাফতকে নববী তরীকায় বহাল রাখার আশা বুকে নিয়ে মদীনা থেকে মক্কা এবং মক্কা থেকে কূফায় গমন করেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদ বাহিনীর বাধার সম্মুখিন হন এবং ইয়াজিদের খেলাফত মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তারপর তিনি পরিবার-পরিজনসহ তাদের মুকাবেলা করতে করতে শাহাদাতের সূরা পান করেন। সত্য প্রতিষ্টার জন্য শাহাদতই হল কারাবালার শিক্ষাঃ হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) এই ত্যাগ ও আত্মদান আমাদেরকে এই শিক্ষাই প্রদান করে যে, বাতিল যতই প্রতাপশালী হোক না কেন, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া যাবে না। আজও তাঁর শহীদি আত্মা চিরন্তন সত্যের কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে বিশ্ব মুসলিমকে আহবান জানাচ্ছে জীবনের মায়া ছেড়ে সত্যের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। সুতরাং আজকের যুব সমাজ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর আত্মত্যাগী প্রেরণা বুকে ধারণ করে তাগুতী শক্তির বিরুদ্ধে বাধার প্রাচির হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলেই হযরত হুসাইনের শাহাদতের সঠিক মূল্যায়ন হবে। এবং শান্তি পাবে শুহাদায়ে কারবালার জীবন্ত আত্মা। হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগ যুগে যুগে সত্যের পথে অবিচল থাকার পেরণা যুগাবে। কারবালা ট্রাজেডি পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এ পথের সৈনিকদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও চেতনার সমুজ্জল মশাল হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আল্লাহ পাক আমাদের কারবালার প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।(আমিন) viset করুন www.sunniduniya.in এ  0  0  0  1 FB_IMG_1506048167506-picsay.jpg 57.5K Comments Options NekborAli September 2017 পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم. অর্থ : “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩৬) এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان. অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়। বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত উনাদের হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন- ১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم. অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ) عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله. অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ) عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود. অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল কর।” (তিরমিযী শরীফ) ২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ! ৩। পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته অর্থ : “যে ব্যক্তি আশূরা উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি) ৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।” ৬। চোখে (ইসমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم. অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (মাক্বাছিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা সাবাত বিস্সুন্নাহ্) ৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।” অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং এর মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব- viset করুন islamic siet sunniduniya.in এ Options NekborAli September 2018 সুবহানাল্লাহ Leave a Comment BoldItalicFormatEmojiAttach fileAttach image HOME MASAYEL PREVIEW SAVE DRAFT Saddam Hossain NEW DISCUSSION Quick Links Categories Recent Discussions Activity My Bookmarks67 My Discussions562 My Drafts56 Categories 1.2K All Categories 2 Mufti Ali Hussain 16 Mufti Amjad Hussain Simnani 13 Huzur Jamal-E-Millat 28 Mufti Nurul Arefin Razvi Al-Azhari 52 Videos Bangla 2 Mufti Sahar Yaar Raza 40 HQM Ziyaul Mustafa Noori Razvi 2 Mufti Alimuddin Razvi 1 Mufti Zubair Hossain Mujaddedi 30 Audios Bangla 7 সুন্নী জগৎ পত্রিকা 70 Books urdu 97 Masayel 52 Images 13 Apps 360 Books Bangla 89 Videos Urdu 30 Audios Urdu 206 General ©2017-2019 Sunni Duniya Team,help@sunniduniya.in,Developer EarnMB.in DISCUSSIONS INBOX SADDAM HOSSAIN MENU SIGN OUT الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম). Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon. Bookmark মুহররম মাসের দশম তারিখ ও আমাদের করণীয় আমল সমূহ NekborAli September 2017 in Masayel মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে ইয়াওমু বা আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা। ইতিহাসের বর্ণনার মতে – (১) আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহররম মাসের দশ তারিখে। (২) পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম).কে সৃষ্টি করা হয়েছে এই তারিখে। (৩) এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং সাড়ে তিনশত বছর পর্যন্ত কান্নাকাটির পর এই তারিখেই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল। (৪) হযরত নূহ (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর জুদী পর্বতে অবতরণ করেছিল এদিনেই। (৫) হযরত ইবরাহিম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) কে আগুনে নিক্ষেপ এবং সে আগুনকে শান্তিময় পুষ্পকাননে পরিণত করা হয়েছিল আশুরার দিনে। (৬) এ দিনে হযরত ইউনুছ (আলায়হিওাসাল্লাল্লাম) মাছের পেট থেকে বেরিয়ে আসেন। (৭) দাম্বিক, জালিম খোদাদ্রোহী ফেরাউনের কবল থেকে নবী মুসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) ও বণি ইসরাইলের মুক্তি লাভ এবং ফেরাউনের সলীল সমাধি হয়েছিল এই আশুরার দিনে। (৮) হযরত আইয়ুব (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে এ দিনে আরোগ্য লাভ করেছিলেন। (৯) এদিনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). কে উর্দ্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। (১০) এদিনেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী কারবালার প্রান্তরে হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন। (১১) কিয়ামত দিবসও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। এসব কারণে মুসলিম সমাজে এদিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক। আশুরার দিন আমাদের করণীয়ঃ ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনে অতীতের অনেক দাম্বিক জালিমশাহী ও কাফেরের সূচনীয় পরাজয় হয়েছে এবং হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম শত্রুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এর শুকরিয়া হিসেবে তাঁরা এদিনে রোযা রাখতেন। মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). ও আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন এবং সাহাবাগণকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দিনটি ইহুদিদের জন্য মুক্তির কারণ হওয়ায় তারাও রোযা রাখতো। তাই ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম)সাহাবাদেরকে আশুরার আগে বা পরে মিলিয়ে দু’টি রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। বুখারির বর্ণনা মতে রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার পূর্বে উম্মতের ওপর আশুরার রোযা ফরজ ছিল। তারপর রমযানের রোযা ফরজ হলে এদিনের রোযা নফলে পরিণত হয়। [বুখারি-২৬৮] কিন্তু আশুরার রোযা নফল হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব কমে যায়নি। আশুরার রোযার ফযিলতঃ মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). বলেছেন, রমযানের রোযার পরে সর্বোত্তম রোযা হলো আশুরার রোযা। নবীজি (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). আরও বলেছেন, আমি আশা রাখি যে, আশুরার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। [মিশকাত শরিফ-১৭৯] উলামায়ে কেরাম বলেন, গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য তাওবা করা আবশ্যক। তবে যদি রোযা রাখার সাথে সাথে তাওবা-ইস্তিগফারও করা হয় তাহলে সগীরা,ও কবীরা সব গুনাহ মাফের আশা করা যায়। আশুরার দিন আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারঃ আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানান ধরনেরকুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। মুহররম মাসকে শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। হযরত হুসাইন(রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু)এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মুর্সিয়া ও মাতম করা হয়। ইয়া আলী, ইয়া হুসাইন বলে চিৎকার ও বুক চাপড়ানো হয়। মূলত শিয়াদের রাফেজি সম্প্রদায় যারা হযরত আলীর রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর অতি ভক্তির দাবিদার এগুলো আবিস্কার করেছে। তাদের দেখাদেখি দীন- শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এক শ্রেণির মুসলমান আশুরা দিবসটিকে বিচিত্র সব অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে উদযাপন করে। আশুরাকে তারা কারবালা বানিয়ে ফেলে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বরণ করে কল্পনাপ্রসূত তাজিয়া, পতাকা, দুলদুল ইত্যাদির আকৃতি তৈরী করে এবং এগুলো নিয়ে জাকজমকের সাথে মিছিল বের করে। আশুরা এলেই তারা কারবালার শাহাদতের কাহিনী পাঠ করে আহাজারি করতে থাকে। শরীয়তে এসব কাজ সম্পূর্ণ গর্হিত ও বিদআত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম এবং সাহাবাদের যুগে এসব ছিল না। আশুরা দিবসে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। কেননা পূর্ববর্তী মুমিন ও পয়গম্বরের প্রতি আল্লাহ পাকের অনুকম্পা ও নেয়ামত প্রকারান্তরে আমাদের জন্যও নেয়ামত। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. এ দিনে রোযা রেখেছেন। নেয়ামতের দিনকে শোকের দিবসে রুপান্তর করা দ্বীনকে বিকৃত করার শামিল। এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী প্রজন্মরা মনে করবে আশুরা মানে কারবালা। আশুরা মানে কি কারবালা? আমাদের সমাজে অনেকে মনে করে কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার তাৎপর্য। অথচ এ কথা বাস্তব যে, আশুরার পবিত্র দিবসটি শুধুমাত্র হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু ও আহলে বাইতের কারবালার প্রান্তরে শাহাদত বরণের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠেনি। বরং আল্লাহ তাআলা হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর শাহাদতের জন্য এমন একটি মুবারক দিবস নির্বাচিত করেছেন, যে দিবসটির সাথে ইতিহাসের বহু পূণ্যময় ঘটনা জড়িত। এতে তাঁর শাহাদতের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৈকি। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো দিবসের মূল্যায়ন সেভাবেই করতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাহিওয়াসাল্লাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. যেভাবে করে গেছেন। কারো মৃত্যুতে বা শাহাদতে শোক পালন যদি শরীয়তে অনুমদিত হতো, তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর ওয়াফাতের দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় শোক দিবস হিসেবে পালন করতো। কিন্তু এমনটি হযরত সাহাবায়ে কেরাম করেননি। বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া কারবালার শিক্ষা নয়ঃ কারবালার প্রান্তরে নবীপরিবারের হৃদয়বিদারক শাহাদত নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের জন্য বেদনাদায়ক। তবে একথাও ঠিক যে, হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর শাহাদাতে আমাদের জন্য রয়েছে অনুপম আর্দশ ও শিক্ষা। সে শিক্ষা নারী-পুরুষ একত্রে বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া নয়। হায় হোসেন, ইয়া আলী বলে আহাজারি নয়; বরং তিনি যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইয়াজিদের জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন, আমাদেরকেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যের পথে সংগ্রাম করতে হবে। হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. নবীজি সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর রেখে যাওয়া দ্বীনকে অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে এবং খেলাফতকে নববী তরীকায় বহাল রাখার আশা বুকে নিয়ে মদীনা থেকে মক্কা এবং মক্কা থেকে কূফায় গমন করেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদ বাহিনীর বাধার সম্মুখিন হন এবং ইয়াজিদের খেলাফত মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তারপর তিনি পরিবার-পরিজনসহ তাদের মুকাবেলা করতে করতে শাহাদাতের সূরা পান করেন। সত্য প্রতিষ্টার জন্য শাহাদতই হল কারাবালার শিক্ষাঃ হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) এই ত্যাগ ও আত্মদান আমাদেরকে এই শিক্ষাই প্রদান করে যে, বাতিল যতই প্রতাপশালী হোক না কেন, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া যাবে না। আজও তাঁর শহীদি আত্মা চিরন্তন সত্যের কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে বিশ্ব মুসলিমকে আহবান জানাচ্ছে জীবনের মায়া ছেড়ে সত্যের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। সুতরাং আজকের যুব সমাজ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর আত্মত্যাগী প্রেরণা বুকে ধারণ করে তাগুতী শক্তির বিরুদ্ধে বাধার প্রাচির হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলেই হযরত হুসাইনের শাহাদতের সঠিক মূল্যায়ন হবে। এবং শান্তি পাবে শুহাদায়ে কারবালার জীবন্ত আত্মা। হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগ যুগে যুগে সত্যের পথে অবিচল থাকার পেরণা যুগাবে। কারবালা ট্রাজেডি পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এ পথের সৈনিকদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও চেতনার সমুজ্জল মশাল হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আল্লাহ পাক আমাদের কারবালার প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।(আমিন) viset করুন www.sunniduniya.in এ  0  0  0  1 FB_IMG_1506048167506-picsay.jpg 57.5K Comments Options NekborAli September 2017 পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم. অর্থ : “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩৬) এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان. অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়। বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত উনাদের হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন- ১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم. অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ) عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله. অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ) عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود. অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল কর।” (তিরমিযী শরীফ) ২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ! ৩। পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته অর্থ : “যে ব্যক্তি আশূরা উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি) ৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।” ৬। চোখে (ইসমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم. অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (মাক্বাছিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা সাবাত বিস্সুন্নাহ্) ৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।” অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং এর মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব- viset করুন

আমল সমূহ


মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে ইয়াওমু বা

আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও

তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে

আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা।

ইতিহাসের বর্ণনার মতে –

(১) আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহররম মাসের

দশ তারিখে।

(২) পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম).কে সৃষ্টি

করা হয়েছে এই তারিখে।

(৩) এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায়

পাঠানো হয় এবং সাড়ে তিনশত বছর পর্যন্ত কান্নাকাটির

পর এই তারিখেই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল।

(৪) হযরত নূহ (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর জুদী

পর্বতে অবতরণ করেছিল এদিনেই।

(৫) হযরত ইবরাহিম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) কে আগুনে নিক্ষেপ এবং

সে আগুনকে শান্তিময় পুষ্পকাননে পরিণত করা

হয়েছিল আশুরার দিনে।

(৬) এ দিনে হযরত ইউনুছ (আলায়হিওাসাল্লাল্লাম) মাছের পেট

থেকে বেরিয়ে আসেন।

(৭) দাম্বিক, জালিম খোদাদ্রোহী ফেরাউনের

কবল থেকে নবী মুসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) ও বণি ইসরাইলের

মুক্তি লাভ এবং ফেরাউনের সলীল সমাধি হয়েছিল

এই আশুরার দিনে।

(৮) হযরত আইয়ুব (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে এ

দিনে আরোগ্য লাভ করেছিলেন।

(৯) এদিনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). কে

উর্দ্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।

(১০) এদিনেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী কারবালার প্রান্তরে

হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন।

(১১) কিয়ামত দিবসও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।

এসব কারণে মুসলিম সমাজে এদিবসটির গুরুত্ব ও

তাৎপর্য অত্যধিক।

আশুরার দিন আমাদের করণীয়ঃ

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনে অতীতের

অনেক দাম্বিক জালিমশাহী ও কাফেরের সূচনীয়

পরাজয় হয়েছে এবং হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম

শত্রুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এর

শুকরিয়া হিসেবে তাঁরা এদিনে রোযা রাখতেন।

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). ও আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন

এবং সাহাবাগণকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনটি ইহুদিদের জন্য মুক্তির কারণ হওয়ায় তারাও রোযা

রাখতো। তাই ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম)সাহাবাদেরকে আশুরার আগে বা পরে মিলিয়ে

দু’টি রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারির বর্ণনা মতে রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার

পূর্বে উম্মতের ওপর আশুরার রোযা ফরজ ছিল।

তারপর রমযানের রোযা ফরজ হলে এদিনের

রোযা নফলে পরিণত হয়। [বুখারি-২৬৮]

কিন্তু আশুরার রোযা নফল হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব

কমে যায়নি।

আশুরার রোযার ফযিলতঃ

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). বলেছেন, রমযানের রোযার পরে

সর্বোত্তম রোযা হলো আশুরার রোযা।

নবীজি (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). আরও বলেছেন, আমি আশা রাখি যে,

আশুরার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা

পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

[মিশকাত শরিফ-১৭৯]

উলামায়ে কেরাম বলেন, গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ

উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য তাওবা

করা আবশ্যক। তবে যদি রোযা রাখার সাথে সাথে

তাওবা-ইস্তিগফারও করা হয় তাহলে সগীরা,ও কবীরা

সব গুনাহ মাফের আশা করা যায়।

আশুরার দিন আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারঃ

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানান

ধরনেরকুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। মুহররম মাসকে

শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। হযরত হুসাইন(রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু)এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মুর্সিয়া ও মাতম করা

হয়। ইয়া আলী, ইয়া হুসাইন বলে চিৎকার ও বুক

চাপড়ানো হয়। মূলত শিয়াদের রাফেজি সম্প্রদায় যারা

হযরত আলীর রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর অতি ভক্তির দাবিদার এগুলো

আবিস্কার করেছে। তাদের দেখাদেখি দীন-

শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এক শ্রেণির মুসলমান

আশুরা দিবসটিকে বিচিত্র সব অনুষ্ঠান পালনের

মাধ্যমে উদযাপন করে। আশুরাকে তারা কারবালা

বানিয়ে ফেলে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বরণ

করে কল্পনাপ্রসূত তাজিয়া, পতাকা, দুলদুল ইত্যাদির

আকৃতি তৈরী করে এবং এগুলো নিয়ে

জাকজমকের সাথে মিছিল বের করে। আশুরা

এলেই তারা কারবালার শাহাদতের কাহিনী পাঠ করে

আহাজারি করতে থাকে। শরীয়তে এসব কাজ

সম্পূর্ণ গর্হিত ও বিদআত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম এবং

সাহাবাদের যুগে এসব ছিল না। আশুরা দিবসে

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মনোভাব সৃষ্টি

করতে হবে। কেননা পূর্ববর্তী মুমিন ও

পয়গম্বরের প্রতি আল্লাহ পাকের অনুকম্পা ও

নেয়ামত প্রকারান্তরে আমাদের জন্যও নেয়ামত।

এ দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এবং সাহাবায়ে

কেরাম রা. এ দিনে রোযা রেখেছেন।

নেয়ামতের দিনকে শোকের দিবসে রুপান্তর করা

দ্বীনকে বিকৃত করার শামিল। এভাবে চলতে

থাকলে পরবর্তী প্রজন্মরা মনে করবে আশুরা

মানে কারবালা।

আশুরা মানে কি কারবালা?

আমাদের সমাজে অনেকে মনে করে

কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার তাৎপর্য। অথচ

এ কথা বাস্তব যে, আশুরার পবিত্র দিবসটি শুধুমাত্র

হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু ও আহলে বাইতের কারবালার

প্রান্তরে শাহাদত বরণের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও

তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠেনি। বরং আল্লাহ তাআলা হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর শাহাদতের জন্য এমন একটি মুবারক দিবস

নির্বাচিত করেছেন, যে দিবসটির সাথে ইতিহাসের

বহু পূণ্যময় ঘটনা জড়িত। এতে তাঁর শাহাদতের মর্যাদা

বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৈকি। কিন্তু ইসলামের

দৃষ্টিতে কোনো দিবসের মূল্যায়ন সেভাবেই

করতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাহিওয়াসাল্লাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.

যেভাবে করে গেছেন। কারো মৃত্যুতে বা

শাহাদতে শোক পালন যদি শরীয়তে অনুমদিত

হতো, তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর ওয়াফাতের দিনটি

মুসলিম সম্প্রদায় শোক দিবস হিসেবে পালন

করতো। কিন্তু এমনটি হযরত সাহাবায়ে কেরাম

করেননি।

বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া কারবালার শিক্ষা নয়ঃ

কারবালার প্রান্তরে নবীপরিবারের হৃদয়বিদারক শাহাদত

নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের

জন্য বেদনাদায়ক। তবে একথাও ঠিক যে, হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর শাহাদাতে আমাদের জন্য রয়েছে

অনুপম আর্দশ ও শিক্ষা। সে শিক্ষা নারী-পুরুষ

একত্রে বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া নয়। হায়

হোসেন, ইয়া আলী বলে আহাজারি নয়; বরং তিনি

যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে ইয়াজিদের জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

করেছিলেন, আমাদেরকেও জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে সত্যের পথে সংগ্রাম করতে হবে। হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. নবীজি সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর রেখে যাওয়া দ্বীনকে

অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে

এবং খেলাফতকে নববী তরীকায় বহাল রাখার আশা

বুকে নিয়ে মদীনা থেকে মক্কা এবং মক্কা

থেকে কূফায় গমন করেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদ

বাহিনীর বাধার সম্মুখিন হন এবং ইয়াজিদের খেলাফত

মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি তা অস্বীকার

করেন। তারপর তিনি পরিবার-পরিজনসহ তাদের

মুকাবেলা করতে করতে শাহাদাতের সূরা পান

করেন।

সত্য প্রতিষ্টার জন্য শাহাদতই হল কারাবালার শিক্ষাঃ

হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) এই ত্যাগ ও আত্মদান আমাদেরকে এই

শিক্ষাই প্রদান করে যে, বাতিল যতই প্রতাপশালী

হোক না কেন, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে

দেয়া যাবে না। আজও তাঁর শহীদি আত্মা চিরন্তন

সত্যের কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে বিশ্ব

মুসলিমকে আহবান জানাচ্ছে জীবনের মায়া

ছেড়ে সত্যের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।

সুতরাং আজকের যুব সমাজ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর

আত্মত্যাগী প্রেরণা বুকে ধারণ করে তাগুতী

শক্তির বিরুদ্ধে বাধার প্রাচির হয়ে দাঁড়াতে পারে,

তাহলেই হযরত হুসাইনের শাহাদতের সঠিক মূল্যায়ন

হবে। এবং শান্তি পাবে শুহাদায়ে কারবালার জীবন্ত

আত্মা। হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগ যুগে যুগে

সত্যের পথে অবিচল থাকার পেরণা যুগাবে। কারবালা

ট্রাজেডি পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার

জন্য এ পথের সৈনিকদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে

সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও চেতনার সমুজ্জল

মশাল হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আল্লাহ পাক

আমাদের কারবালার প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা গ্রহণ

করার তাওফিক দান করুন।(আমিন)

viset করুন www.sunniduniya.in এ

 0  0  0 1

FB_IMG_1506048167506-picsay.jpg57.5K

Comments

Options

NekborAli 

September 2017

পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم.

অর্থ : “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان.

অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار

অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়।

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত উনাদের হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-

১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم.

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله.

অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود.

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল কর।” (তিরমিযী শরীফ)

২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!

৩। পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته

অর্থ : “যে ব্যক্তি আশূরা উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি)

৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।”

৬। চোখে (ইসমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم.

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (মাক্বাছিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা সাবাত বিস্সুন্নাহ্)

৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং এর মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-

viset করুন islamic siet sunniduniya.in এ

Options

NekborAli 

September 2018

সুবহানাল্লাহ

Leave a Comment

BoldItalic

Format

Emoji

Attach file

Attach image

HOME MASAYEL PREVIEW SAVE DRAFT 

Saddam Hossain

NEW DISCUSSION

Quick Links

CategoriesRecent DiscussionsActivityMy Bookmarks67My Discussions562My Drafts56

Categories

1.2KAll Categories2Mufti Ali Hussain16Mufti Amjad Hussain Simnani13Huzur Jamal-E-Millat28Mufti Nurul Arefin Razvi Al-Azhari52Videos Bangla2Mufti Sahar Yaar Raza40HQM Ziyaul Mustafa Noori Razvi2Mufti Alimuddin Razvi1Mufti Zubair Hossain Mujaddedi30Audios Bangla7সুন্নী জগৎ পত্রিকা70Books urdu97Masayel52Images13Apps360Books Bangla89Videos Urdu30Audios Urdu206General

©2017-2019 Sunni Duniya Team,help@sunniduniya.in,Developer EarnMB.in

DISCUSSIONS INBOX SADDAM HOSSAIN MENU SIGN OUT

الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).

Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

Bookmark 

মুহররম মাসের দশম তারিখ ও আমাদের করণীয় আমল সমূহ

NekborAli 

September 2017   in Masayel


মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে ইয়াওমু বা

আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও

তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে

আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা।

ইতিহাসের বর্ণনার মতে –

(১) আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহররম মাসের

দশ তারিখে।

(২) পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম).কে সৃষ্টি

করা হয়েছে এই তারিখে।

(৩) এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায়

পাঠানো হয় এবং সাড়ে তিনশত বছর পর্যন্ত কান্নাকাটির

পর এই তারিখেই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল।

(৪) হযরত নূহ (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর জুদী

পর্বতে অবতরণ করেছিল এদিনেই।

(৫) হযরত ইবরাহিম (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) কে আগুনে নিক্ষেপ এবং

সে আগুনকে শান্তিময় পুষ্পকাননে পরিণত করা

হয়েছিল আশুরার দিনে।

(৬) এ দিনে হযরত ইউনুছ (আলায়হিওাসাল্লাল্লাম) মাছের পেট

থেকে বেরিয়ে আসেন।

(৭) দাম্বিক, জালিম খোদাদ্রোহী ফেরাউনের

কবল থেকে নবী মুসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) ও বণি ইসরাইলের

মুক্তি লাভ এবং ফেরাউনের সলীল সমাধি হয়েছিল

এই আশুরার দিনে।

(৮) হযরত আইয়ুব (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম) দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে এ

দিনে আরোগ্য লাভ করেছিলেন।

(৯) এদিনে আল্লাহ তাআলা হযরত ইসা (আলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). কে

উর্দ্ধাকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।

(১০) এদিনেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী কারবালার প্রান্তরে

হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন।

(১১) কিয়ামত দিবসও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।

এসব কারণে মুসলিম সমাজে এদিবসটির গুরুত্ব ও

তাৎপর্য অত্যধিক।

আশুরার দিন আমাদের করণীয়ঃ

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আশুরার দিনে অতীতের

অনেক দাম্বিক জালিমশাহী ও কাফেরের সূচনীয়

পরাজয় হয়েছে এবং হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম

শত্রুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এর

শুকরিয়া হিসেবে তাঁরা এদিনে রোযা রাখতেন।

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). ও আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন

এবং সাহাবাগণকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনটি ইহুদিদের জন্য মুক্তির কারণ হওয়ায় তারাও রোযা

রাখতো। তাই ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম)সাহাবাদেরকে আশুরার আগে বা পরে মিলিয়ে

দু’টি রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারির বর্ণনা মতে রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার

পূর্বে উম্মতের ওপর আশুরার রোযা ফরজ ছিল।

তারপর রমযানের রোযা ফরজ হলে এদিনের

রোযা নফলে পরিণত হয়। [বুখারি-২৬৮]

কিন্তু আশুরার রোযা নফল হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব

কমে যায়নি।

আশুরার রোযার ফযিলতঃ

মহানবী (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). বলেছেন, রমযানের রোযার পরে

সর্বোত্তম রোযা হলো আশুরার রোযা।

নবীজি (সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম). আরও বলেছেন, আমি আশা রাখি যে,

আশুরার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহ তাআলা

পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

[মিশকাত শরিফ-১৭৯]

উলামায়ে কেরাম বলেন, গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ

উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য তাওবা

করা আবশ্যক। তবে যদি রোযা রাখার সাথে সাথে

তাওবা-ইস্তিগফারও করা হয় তাহলে সগীরা,ও কবীরা

সব গুনাহ মাফের আশা করা যায়।

আশুরার দিন আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারঃ

আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানান

ধরনেরকুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। মুহররম মাসকে

শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। হযরত হুসাইন(রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু)এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মুর্সিয়া ও মাতম করা

হয়। ইয়া আলী, ইয়া হুসাইন বলে চিৎকার ও বুক

চাপড়ানো হয়। মূলত শিয়াদের রাফেজি সম্প্রদায় যারা

হযরত আলীর রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর অতি ভক্তির দাবিদার এগুলো

আবিস্কার করেছে। তাদের দেখাদেখি দীন-

শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এক শ্রেণির মুসলমান

আশুরা দিবসটিকে বিচিত্র সব অনুষ্ঠান পালনের

মাধ্যমে উদযাপন করে। আশুরাকে তারা কারবালা

বানিয়ে ফেলে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে স্বরণ

করে কল্পনাপ্রসূত তাজিয়া, পতাকা, দুলদুল ইত্যাদির

আকৃতি তৈরী করে এবং এগুলো নিয়ে

জাকজমকের সাথে মিছিল বের করে। আশুরা

এলেই তারা কারবালার শাহাদতের কাহিনী পাঠ করে

আহাজারি করতে থাকে। শরীয়তে এসব কাজ

সম্পূর্ণ গর্হিত ও বিদআত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম এবং

সাহাবাদের যুগে এসব ছিল না। আশুরা দিবসে

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মনোভাব সৃষ্টি

করতে হবে। কেননা পূর্ববর্তী মুমিন ও

পয়গম্বরের প্রতি আল্লাহ পাকের অনুকম্পা ও

নেয়ামত প্রকারান্তরে আমাদের জন্যও নেয়ামত।

এ দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এবং সাহাবায়ে

কেরাম রা. এ দিনে রোযা রেখেছেন।

নেয়ামতের দিনকে শোকের দিবসে রুপান্তর করা

দ্বীনকে বিকৃত করার শামিল। এভাবে চলতে

থাকলে পরবর্তী প্রজন্মরা মনে করবে আশুরা

মানে কারবালা।

আশুরা মানে কি কারবালা?

আমাদের সমাজে অনেকে মনে করে

কারবালাকে কেন্দ্র করেই আশুরার তাৎপর্য। অথচ

এ কথা বাস্তব যে, আশুরার পবিত্র দিবসটি শুধুমাত্র

হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু ও আহলে বাইতের কারবালার

প্রান্তরে শাহাদত বরণের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও

তাৎপর্যবহ হয়ে ওঠেনি। বরং আল্লাহ তাআলা হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর শাহাদতের জন্য এমন একটি মুবারক দিবস

নির্বাচিত করেছেন, যে দিবসটির সাথে ইতিহাসের

বহু পূণ্যময় ঘটনা জড়িত। এতে তাঁর শাহাদতের মর্যাদা

বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বৈকি। কিন্তু ইসলামের

দৃষ্টিতে কোনো দিবসের মূল্যায়ন সেভাবেই

করতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাহিওয়াসাল্লাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.

যেভাবে করে গেছেন। কারো মৃত্যুতে বা

শাহাদতে শোক পালন যদি শরীয়তে অনুমদিত

হতো, তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর ওয়াফাতের দিনটি

মুসলিম সম্প্রদায় শোক দিবস হিসেবে পালন

করতো। কিন্তু এমনটি হযরত সাহাবায়ে কেরাম

করেননি।

বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া কারবালার শিক্ষা নয়ঃ

কারবালার প্রান্তরে নবীপরিবারের হৃদয়বিদারক শাহাদত

নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের

জন্য বেদনাদায়ক। তবে একথাও ঠিক যে, হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু এর শাহাদাতে আমাদের জন্য রয়েছে

অনুপম আর্দশ ও শিক্ষা। সে শিক্ষা নারী-পুরুষ

একত্রে বুক চাপড়ানো আর মাতম-মুর্সিয়া নয়। হায়

হোসেন, ইয়া আলী বলে আহাজারি নয়; বরং তিনি

যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে ইয়াজিদের জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম

করেছিলেন, আমাদেরকেও জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে সত্যের পথে সংগ্রাম করতে হবে। হযরত

হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. নবীজি সাল্লাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাল্লাম. এর রেখে যাওয়া দ্বীনকে

অবিকৃত অবস্থায় দুনিয়ার বুকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে

এবং খেলাফতকে নববী তরীকায় বহাল রাখার আশা

বুকে নিয়ে মদীনা থেকে মক্কা এবং মক্কা

থেকে কূফায় গমন করেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদ

বাহিনীর বাধার সম্মুখিন হন এবং ইয়াজিদের খেলাফত

মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি তা অস্বীকার

করেন। তারপর তিনি পরিবার-পরিজনসহ তাদের

মুকাবেলা করতে করতে শাহাদাতের সূরা পান

করেন।

সত্য প্রতিষ্টার জন্য শাহাদতই হল কারাবালার শিক্ষাঃ

হুসাইন (রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু) এই ত্যাগ ও আত্মদান আমাদেরকে এই

শিক্ষাই প্রদান করে যে, বাতিল যতই প্রতাপশালী

হোক না কেন, তাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে

দেয়া যাবে না। আজও তাঁর শহীদি আত্মা চিরন্তন

সত্যের কণ্ঠ নিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে বিশ্ব

মুসলিমকে আহবান জানাচ্ছে জীবনের মায়া

ছেড়ে সত্যের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।

সুতরাং আজকের যুব সমাজ যদি হুসাইন রাদিয়াল্লাহুতায়ালাআনহু. এর

আত্মত্যাগী প্রেরণা বুকে ধারণ করে তাগুতী

শক্তির বিরুদ্ধে বাধার প্রাচির হয়ে দাঁড়াতে পারে,

তাহলেই হযরত হুসাইনের শাহাদতের সঠিক মূল্যায়ন

হবে। এবং শান্তি পাবে শুহাদায়ে কারবালার জীবন্ত

আত্মা। হযরত হুসাইনের আত্মত্যাগ যুগে যুগে

সত্যের পথে অবিচল থাকার পেরণা যুগাবে। কারবালা

ট্রাজেডি পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার

জন্য এ পথের সৈনিকদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে

সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও চেতনার সমুজ্জল

মশাল হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আল্লাহ পাক

আমাদের কারবালার প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা গ্রহণ

করার তাওফিক দান করুন।(আমিন)

viset করুন www.sunniduniya.in এ

 0  0  0  1

FB_IMG_1506048167506-picsay.jpg57.5K

Comments

Options

NekborAli 

September 2017

পবিত্র মুহররম শরীফ মাসটি অতিশয় ফযীলতপূর্ণ। এ মাসটি রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত উনাদের দ্বারা সমৃদ্ধ। আরবী ১২টি মাসের মধ্যে হারাম বা পবিত্র মাস হলো ৪টি। তার মধ্যে পবিত্র মুহররম শরীফ মাস হলো অন্যতম। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتب الله يوم خلق السموت والارض منها اربعة حرم ذلك الدين القيم فلا تظلموا فيهن انفسكم.

অর্থ : “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আসমান-যমীনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করনা।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ৩৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الـحجة والـمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان.

অর্থ : “হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শুয়াবুল ঈমান)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহুআলায়হিওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اكرموا الـمحرم من اكرم الـمحرم اكرمه الله بالـجنة ونجاه من النار

অর্থ : “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররম শরীফ মাসকে সম্মান করবে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

স্মরণযোগ্য যে, পবিত্র মুহররম শরীফ মাসের উল্লেখযোগ্য ও শ্রেষ্ঠতম দিন হচ্ছে ১০ই মুহররম শরীফ ‘আশূরা’র দিনটি। এ দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এ দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনে। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনাও এ দিনেই সংঘটিত হয়।

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন না কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণে এ দিনটি আমাদের সবার জন্যে এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত উনাদের হাছিল করার দিন। ফলে এ দিনে বেশ কিছু আমল করার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-

১। পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা : পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل الصيام بعد رمضان شهر الله الـمحرم.

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ফরয রোযার পর উত্তম রোযা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মাস পবিত্র মুহররম শরীফ উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عاشوراء احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله.

অর্থ : হযরত আবূ কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা পালনে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে আশা করি যে, তিনি (উম্মতের) বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ)

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوموا التاسع والعاشر وخالفوا فيه اليهود.

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ তথা বিপরীত আমল কর।” (তিরমিযী শরীফ)

২। রোযাদারদেরকে ইফতার করানো : রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من فطر فيه صائما فكانـما افطر عنده جميع امة (سيدنا حبيبنا شفيعنا مولانا) محمد صلى الله عليه وسلم

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তিনি যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!

৩। পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো : পবিত্র আশূরা উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من وسع على عياله فى النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته

অর্থ : “যে ব্যক্তি আশূরা উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি)

৪ ও ৫। গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো : গরিবদের পানাহার করানো ও ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من مسح فيه على رأس يتيم واطعم جائعا واسقى شربة من ماء اطعم الله من موائد الجنة وسقاه الله تعالى من الرحيق السلسبيل

অর্থ : “পবিত্র আশূরা উনার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত উনার দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।”

৬। চোখে (ইসমিদ) সুরমা দেয়া : চোখে সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

من اكتحل يوم عاشوراء بكحل فيه مسك لـم يشك عينه الى قبيل من ذلك اليوم.

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন মিশক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে, সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (মাক্বাছিদে হাসানা, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা সাবাত বিস্সুন্নাহ্)

৭। গোসল করা : পবিত্র আশূরা উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা উনার দিন গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং এর মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরার দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-

Leave a Comment

Quick Links

Categories

ShareThis Copy and Paste

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here