কানজুল ইমান শ্রেস্ট অনুবাদ কেন ??

1
66
views

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ

বিসসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

অনুবাদঃ গণরা. . . . . .

[ ১ . ] আরম্ভ আল্লাহ্র নামে , যিনি মহান দয়ালু , অতীব

করুণাময়। – শাহ আব্দুল ক্বাদের।

[ ২ . ] আরম্ভ করছি আমি নাম সহকারে আল্লাহ্ দাতা ,দয়ালুর। –

শাহ রফী ‘ উদ্দীন।

[ ৩ . ] আরম্ভ আল্লাহ্ , অত্যন্ত দয়ালু , বারংবার দয়াকারীর

নামে। – আব্দুল মাজেদ দরিয়া আবাদী দেওবন্দী।

[ ৪ . ] শুরু করছি আল্লাহ্র নামে , যিনি পরম করুণাময় ; অতি

দয়ালু হন। – আশরাফ আলী থানভী দেওবন্দী।

[ ৫ . ] দাতা দয়ালু ইশ্বরের নামে প্রবৃত্ত হইয়াছি। – গিরিশ চন্দ্র

সেন।

[ ৬ . ] আল্লাহ্র নামে আরম্ভ, যিনি পরম দয়ালু , করুণাময়। –

আ’ লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা ( রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ) ।

লক্ষ্যণীয় যে , আ ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা রাহমাতুল্লাহি

আলায়হি ব্যতীত অন্যান্য অনুবাদক ‘ বিসসমিল্লাহি

রাহমানির রাহীম ‘- এর অনুবাদ এভাবে করেছেন – ‘ আরম্ভ

করছি আল্লাহ্র নামে ‘ অথবা ‘ আরম্ভ আল্লাহ্র নাম সহকারে’,

‘শুরু করিতেছি আল্লাহ্র নামে ‘ ইত্যাদি। সুতারাং খোদ্

অনুবাদকের দাবী তাদের ভাষায়ই মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে।

কারণ, তাঁরা তো ( আরম্ভ করছি ) ‘ক্রিয়া ‘ দ্বারাই অনুবাদ

আরম্ভ করছেন ; অথচ আল্লাহ্ তা ‘ আলার নাম দ্বারা আরম্ভ

করা উচিত ছিলো , যা শুধু আ’ লা হযরতের অনুবাদেই পাওয়া

যায়।

অন্যসব অনুবাদে এ যেন ‘ বিসমিল্লাহয় গলদ’ !

প্রিয় সুন্নি ভাই ও বোনেরা আপনারা ক্বোর ‘আন তরজুমা

কানযুল ইমান সংগ্রহ করুন।

কানযুল ঈমান হল বিশ্বের শেষ্ট উপহার।

আ’ লা হযরত এলেমের সাগর বরিয়ে দিলেন ,

এখনো উলামায়ে হক্ব পেরেশান হয়ে গেলেন।

আই আহমদ রেযা তেরি কিয়া বাত হে

এলেম কি দারিয়া বাহা দিয়া।।

. . . . . . .

. . . . . .

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ

আল্লাহ্র নামে আরম্ভ,যিনি পরম দয়ালু ,করুণাময়।

[ পর্ব২ ]

ﻭﻟﻤﺎ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺬﻯ ﺟﺎﻫﺪﻭﺍ ﻣﻨﻜﻢ

ওয়া লাম্মা ইয়া – লামিল্লা – হুল্লাযী – না জা – হাদু মিনকুম।

[ পারা ৪ – সূরা – আল্ – ই ইমরান ; আয়াত- ১৪২ ]

অনুবাদগণ

[ ১ . ] এবং এখনো জানেন নি আল্লাহ্ যারা তোমাদের মধ্যে

যুদ্ধকারী তাদের সম্পর্কে।

– – শাহ আব্দুল ক্বাদের।

[ ২ . ] অথচ এখনো খোদা তোমাদের মধ্যে

জিহাদকারীদেরকে ভালবাবে জেনেই নেন নি।

– – ফাতেহ্ মুহাম্মদ জালন্ধরী দেওবন্দী।

[ ৩ . ] অথচ এখনো আল্লাহ্ তোমাদের মধ্য থেকে সেসব

লোককে জানেনই নি , যারা জিহাদ করেছে। – – আব্দুল

মাজেদ দারিয়া আবাদী দেওবন্দী।

[ ৪ . ] অথচ এখনো আল্লাহ্ তা ‘আলা সেসব লোককে দেখেনই

নি , যারা তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদ করেছে। – – আশরাফ

আলী থানভী দেওবন্দী।

[ ৫ . ] এবং এখনো পর্যন্ত জেনে নেন নি আল্লাহ্ কারা

যুদ্ধকারী তোমাদের মধ্যে। – – মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী।

[ ৬ . ] অথচ আল্লাহ্ এখনো এটা তো দেখেনই নি যে , তোমাদের

মধ্যে কারা এমন লোক রয়েছে , যারা তাঁর পথে প্রাণপণে

লড়াইকারী।

– – মওদূদীকৃত তাফহীমুল ক্বোর ‘আন।

[ ৭ . ] ও তোমাদের মধ্যে যাহারা ধর্মযুদ্ধ করিয়াছে , এবং

যাঁহারা সহিষ্ণু এক্ষণ ঈশ্বর তাহাদিগের জ্ঞাত নহেত। –

গিরিশ চন্দ্র সেন।

[ ৮ . ] অথচ আল্লাহ্ এখনো দেখেন নি তোমাদের মধ্যে কারা

জেহাদ করেছে। – – মা ‘আরেফুল ক্বোর ‘ আন।

[ ৯ . ] আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে কে জেহাদ করিয়াছে এবং কে

ধৈর্যশীল তা এখনো জানেন না। – – আল ক্বোর ‘আনুল

করীম, অনুবাদ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

– – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

[ ১০. ] আর এখনো আল্লাহ্ তোমাদের গাযীদের ( যোদ্ধাগণ )

পরীক্ষা নেন নি। ইমামে আহলে সুন্নাত আ’ লা হযরতকৃত

কানযুল ঈমান।

সুবাহান আল্লাহ্

আল্লাহ্ তা ‘ আলা কি সর্বজ্ঞ ও সর্ববিষয়ে অবহিত নন ???

আল্লাহ্ তা ‘ আলা যে সর্বজ্ঞ ও সর্ববিষয়ে অবগত , গোপন ও

প্রকাশ্য , দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা ,অন্তরসমূহের গোপন কথা

সমর্কেও অবহিত – তাতে কোন ঈমানদারের মনে সন্দেহের

অবকাশ থাকতে পারে না। কিন্তু আ ‘লা হযরত ব্যতীত

উপরোক্ত অন্য সব অনুবাদে সে মহান সর্বজ্ঞ আল্লাহ্

তা ‘ আলাকে বে – ইলম ও বে খবর ( জ্ঞানহীন ও অনবহিত )

ইত্যাদি সাব্যস্ত করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ !

আই ইমাম আহমদ রেযা

তেরি কানযুল ঈমান কি ‘ কি বাত হে ,

” দ্বাল দে ক্বলবে আযমতে মুস্তুফা,

সায়্যিদী আ’ লা হযরত পে লাখো সালাম।

. . . . .

. . . . .

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ

আল্লাহ্র নামে আরম্ভ,যিনি পরম দয়ালু ,করুণাময়।

★★ পর্ব – ৩ ★★

ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺧﻠﻖ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻋﻠﻤﻪ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ

আররাহমা – নু ; আল্লামাল ক্বোরআন। খালাক্বাল ইনসা – না

;আল্লামাহুল বায়া – ন।

[ পারা ২৭ – সূরা আর্ রাহমান – আয়াত ১ – ৪ ]

অনুবাদকগণ

[ ১ . ] পরম দয়াময় শিক্ষা দিয়েছেন ক্বোরআন , সৃষ্টি করেছেন

মানবকে এবং শিক্ষা দিয়েছেন তাকে কথা। – – শাহ আব্দুল

কাদের।

[ ২ . ] পরম দয়াময় শিক্ষা দিয়েছেন ক্বোরআন , সৃষ্টি করেছেন

মানুষকে , শিক্ষা দিয়েছেন তাকে কথা বলা। – – শাহ

রফী ‘উদ্দীন।

[ ৩ . ] খোদা শিক্ষা দিলেন ক্বোরআন , সৃজন করলেন মানুষকে

এবং শিক্ষা দিলেন তাকে কথা বলা। – – শাহ ওয়ালী উল্লাহ।

[ ৪ . ] পরম দয়াময় খোদা – ই ক্বোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।

তিনিই মানব সৃষ্টি করেছেন,তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন। –

আব্দুল মাজেদ দারিয়া আবাদী দেওবন্দী।

[ ৫ . ] পরম দয়ামময় ক্বোরআন শিক্ষা দিয়েছেন , তিনি মানব

সৃজন করেছেন ( অতঃপর) তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন। –

আশরাফ আলী থানভী দেওবন্দী ও ফতেহ্ মুহাম্মদ

জালবন্ধরী।

[ ৬ . ] পরম দয়াময় এ ক্বোরআনের শিক্ষা দিয়েছেন , তিনিই

মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি কথা বলতে

শিখিয়েছেন।

– – তাফহীমুল ক্বোরআন , কৃত – মওদূদী।

[ ৭ . ] করুণাময় আল্লাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন ক্বোরআন , সৃষ্টি

করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা। মা ‘আরেফুল

ক্বোরআন।

[ ৮ . ] দয়াময় আল্লাহ্ , শিক্ষা দিয়েছেন ক্বোরআন , তিনিই

সৃষ্টি করেছেন মানুষ , তিনিই তাহাকে শিখাইয়াছেন ভাব

প্রকাশ করিতে।

– আল ক্বোরআনুল করীম, অনুবাদ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন,

বাংলাদেশ।

[ ৯ . ] পরমেশ্বর ক্বোরআন শিক্ষা দিয়েছেন , মনুষ্যকে সৃষ্টি

করিয়াছেন , তাহাকে কথা কহিতে শিক্ষা দিয়াছেন।

গিরিশ চন্দ্র সেন।

– – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

তরজুমা ই ক্বোরআন কানযুল ঈমান

[ ১০. ] পরম দয়ালু ( রহমান); আপন মাহবুবকে ক্বোরআন শিক্ষা

দিয়েছেন। মানবতার প্রান মুহাম্মদকে সৃষ্টি করেছেন: যা

হয়েছে এবং যা সৃষ্টি হবে সবকিছুর সপ্রমাণ বর্ণনা তাঁকে

শিক্ষা দিয়েছেন। – – আলা হযরত কৃত কানযুল ঈমান।

আ’ লা হযরত ব্যতীত অন্যান্য অনুবাদকদের অনুবাদগুলো খুব

মনোযোগ সহকারে পাঠ করুন! অতঃপর আ’ লা হযরতের অনুবাদ

গভীরভাবে পর্যালোচনা করুন ! দ্বিতীয় আয়াতে ﻋﻠﻢ

( আল্লামা ) ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে। এটা দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

প্রথমোক্ত সমস্ত অনুবাদে উল্লেখ করা হয় ( পরম দয়াময়

ক্বোরআন শিক্ষা দিয়েছেন ) । ওই সব অনুবাদক একটা মাত্র

‘কর্ম ‘ উল্লেখ করেছেন ( ক্বোরআন। এখন প্রশ্ন জাগে

ক্বোরআন কাকে শিক্ষা দিয়েছেন ? ’ এটা তারা উল্লেখ

করেন নি। কিন্তু আ ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খাঁন

( রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ) তা প্রাকাশ করে দিয়েছেন। ‘ এ

মর্মে ক্বোরআনের অপর আয়াত সাক্ষ্য দেয়- –

” আল্লামাকা মা – লাম তাকুন তা ‘লাম ”

অর্থাৎ তিনি ( আল্লাহ্ ) , হে হাবীব ! আপনাকে তা শিক্ষা

দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। ”

তৃতীয় আয়াতের অনুবাদ হচ্ছে- ‘মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। ‘ ওই

মানুষটি কে ? অনুবাদকগণ শব্দগত অনুবাদ পেশ করে ক্ষান্ত

হলেন। কোন কোন অনুনবাদক আবার এখানে নিজ থেকেও

শব্দাবলী ব্যবহার করেছেন। তবুও ‘ ইনসান ‘ শব্দের যথার্থ অর্থ

প্রকাশ পায়নি। এখন আপনি ওই মহা মর্যাদাবান সত্তা

( সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) – এর কথা স্মরণ করুন,

যিমি সমস্ত সৃষ্টির উৎস – মূল ; যাঁর হাক্বিকত সমস্ত

হাক্বীকতেরই মূলবস্তু ; যাঁর উপরই সৃষ্টির বুনিয়াদ রাখা

হয়েছে , যিনি সৃষ্টির শুরু, কাইনাতের প্রাণ ও ইনসানিয়াতের

জান। আ’ লা হযরত ( রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ) বলেন

– – ‘ইনসানিয়াতের প্রাণ মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু তা ‘ আলা

আলায়হি ওয়াসাল্লাম) – কে সৃষ্টি করেছেন। ‘ ( আল ইনসান )

মানে যখন হুযুর সরওয়ার- ই কাওনাঈন সাল্লাল্লাহু তা ‘ আলা

আলায়হি ওয়াসাল্লাম- এর মহান সত্তাই নির্দিষ্ট হয়ে

গেলো , তখন তাঁরই শানের উপযোগী আল্লাহ্ তা ‘আলার পক্ষ

থেকে শিক্ষাদানও হওয়া চাই। সুতরাং সাধারণ

অনুবাদকেদের সীমিত জ্ঞানগণ্ডীকে অতিক্রম করে আ’ লা

হযরত বলেন- – ” মা – কা – না ওয়া – মা ইয়াকুন ”

( পূ্র্ব ও পরবর্তী সমস্ত সৃষ্টি )’র বিশদ বর্ণন তাঁকে শিক্ষা

দিয়েছেন। ”

যদি প্রশ্ন করা হয় যে , আয়াতের অনুবাদে

” মা – কা – না ওয়া – মা ইয়াকুন ”

( পূর্ব ও পরবর্তী সৃষ্টি ) – – এর বর্ণনা শিক্ষা দেওয়া’ কোথেকে

আসলো ? এখানে তো শুধু কথা বলা শিখানোই বাহ্যিকভাবে

প্রতীয়মান হয় ? অথবা এভাবে বলা যায় – – ‘ ক্বোরআনের

জ্ঞান ‘ দ্বিতীয় আয়াতে প্রকাশ পেলে চতুর্থ আয়াতে তো

বর্ণনা শিক্ষা’ – ই উদ্দেশ্য হয় ?

এর জবাব যে , ” মা – কা – না ‘ ওয়া- মা ইয়াকুন ”

( যা কিছু হয়েছেন ও যা কিছু ক্বিয়ামত পর্যন্ত হবে ) – এর

জ্ঞান রয়েছে ‘লওহ্ – ই মাহ্ফুয ‘- এ , আর ‘ লুওহ্ – ই মাহ্ফুয ‘ হচ্ছে

ক্বোরআন শরীফের একটা অংশের মধ্যে। আর আল্লাহ্

তা ‘ আলা আপন মাহবুবকে ক্বোরআনের বর্ণনা শিক্ষা

দিয়েছেন , যার মধ্যে ” মা – কা – না ‘ওয়া মা ইয়াকুন ”

‘পূর্ব ও পরবর্তী সমস্ত কিছুর ‘র বর্ণনা শামিল রয়েছে।

সুতরাং আ ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা ( রহমাতুল্লা আলাইহি )

এর অনুবাদই হচ্ছে বিশুদ্ধ তাফসীরসম্মত অনুবাদ।।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here